সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে আগ্রহী হলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ধীরগতি হবে

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৬ জুন , ২০১৮ সময় ১১:২৭ অপরাহ্ণ

সঞ্চয়পত্রের সুদহার বেশি হওয়ায় লাভের আশায় ব্যাংকের পরিবর্তে সবাই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে আগ্রহী হলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ধীরগতি হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিএমসিসিআই) সভাপতি খলিলুর রহমান।

তিনি বলেন, নানা কারণে বেসরকারি ব্যাংকের আমানত বৃদ্ধির হার নিম্নমুখী। ২০১২ সালে আমানত বৃদ্ধির হার ছিল ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ। যা ২০১৭ সালে এসে দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ। চলতি বছরে তা ১০ শতাংশ বলা হচ্ছে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আগামী ১ জুলাই থেকে ব্যাংক আমানতের সুদের হার ৬ শতাংশ এবং ঋণের হার ৯ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর্থিক খাতে সংস্কার, শৃঙ্খলা এবং বিনিয়োগে গতি সঞ্চার করতে প্রধানমন্ত্রীর এমন ইতিবাচক উদ্যোগ সময়োপযোগী বলে ব্যবসায়ীমহল স্বাগত জানাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক এক সার্কুলারের মাধ্যমে স্প্রেড সীমা ৪ শতাংশের মধ্যে রাখার নির্দেশ দিয়েছে অথচ ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের মতে স্প্রেড হবে ৩ শতাংশ।

মঙ্গলবার (২৬ জুন) সিএমসিসিআইর পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

খলিলুর রহমান বলেন, বেসরকারি ব্যাংকে সরকারি আমানতের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে বেসরকারি ব্যাংক থেকে সরকারি আমানত তুলে নেওয়ার কারণে এবং নতুন করে আমানত না আসায় সংকট তৈরি হচ্ছে। বলাই বাহুল্য যে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে অধিকাংশ ব্যাংকের পক্ষে ঋণের সুদহার কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না বলে আমানত সংগ্রহের বেলায়ও বেশি হার দিতে হচ্ছে।

এ অবস্থায় সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংকের স্থায়ী আমানতের সুদ হারের চেয়ে সঞ্চয়পত্রের সুদহার বেশি হওয়া কাম্য নয়। বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রপ্তানি প্রবাহ বাড়ানোর মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সরকারি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বেসরকারি খাতের সম্প্রসারণ অপরিহার্য। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের সঙ্গে সংগতি রেখে সঞ্চয়পত্রের সুদহার সহনীয় পর্যায়ে কমিয়ে আনার বিকল্প নেই। তবে অবসরপ্রাপ্ত, বিধবা, প্রতিবন্ধী ইত্যাদির বেলায় ব্যতিক্রম রাখা যায়।

খলিলুর রহমান আশা করেন, সরকারের নীতি নির্ধারণীমহল বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে সংকট মোকাবেলার জন্য আগাম প্রস্তুতি নিয়ে চলমান বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নেবেন।

বিষয়টি সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল এবং গতিশীল নেতৃত্বের বহিঃপ্রকাশে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।


আরোও সংবাদ