সকলকে কর প্রদানের আহ্বান

প্রকাশ:| সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর , ২০১৪ সময় ১১:১২ অপরাহ্ণ

স্বনির্ভর দেশ গড়তে সকলকে কর প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

সোমবার জাতীয় আয়কর দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সর্বোচ্চ ও দীর্ঘ মেয়াদী করদাতাদের সম্মাননা প্রধান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি।

চলতি অর্থ বছরে আড়াই লাখ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অনেকে বলে থাকেন উচ্চ বিলাসী বাজেট। উচ্চ বিলাস তো থাকতেই হবে, না হলে অর্জন করবো কিভাবে।

বাজেটের বড় একটি অংশ আয়কর থেকে ধরা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিদেশি ঋণ নির্ভরতা কমাতে করের আওতা বাড়ানো হয়েছে। স্বনির্ভর দেশ গড়তে হলে কর বাড়াতে হবে।

সরকার ব্যবসা বান্ধব উল্লেখ করে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশের অর্থনীতি এখন অনেক ভালো। গত ঈদে শহর নয় গ্রামেও সারারাত কেনাকাটা করেছে মানুষ। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ভালো ছিল।

কর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কর দিলে স্বনির্ভর দেশ হবে। না হলে আমরা উন্নতির দিকে যেতে পারবো না। তাই কর দিতে এগিয়ে আসুন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য(শুল্ক নীতি) মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, সরকারের নানা পদক্ষেপের কারণে জাতীয় জীবনে অনেক কিছুই অর্জন হয়েছে। ফলে আড়াই লাখ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করতে পেরেছে।

বিশ্বে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের কয়েকটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম দিকে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর পেছনে বেসরকারি খাতের অবদান অনেক বেশি।
ctg_pix_tax_day
দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সরকারকে বিনিয়োগ করতে হয় উল্লেখ করে এনবিআর সদস্য বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে গেলে অবকাঠামো উন্নয়নের বিকল্প নেই। সেজন্য রাজস্ব বাড়াতে হবে।

তিনি জানান, ২০০৯ সালে আমদানি খাত থেকে সর্বোচ্চ আয়ে হলেও ২০১৩- ২০১৪ অর্থ বছরে আয়কর থেকেই সব চেয়ে বেশি রাজস্ব আসে।

আগামী দুই বছরের মধ্যে অনলাইনে কর প্রদান করা যাবে জানিয়ে তিনি বলেন, সেজন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার চলছে। ব্যবসায়ীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করে যাচ্ছি।

বর্তমানে ১৪ লাখ মানুষ কর দিলেও ৫০ থেকে ৬০ লাখ মানুষ করের আওতায় আসা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে কর্মকর্তারা ভাল ব্যবহার করলেও বাড়িতে গিয়ে আয়কর কর্মকর্তারা হয়রানি করেন বলে অভিযোগ করেছেন কক্সবাজার জেলায় সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে সম্মাননা পাওয়া সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি।

হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে সুন্দর সুন্দর কথা বলবেন, আর বাসায় গিয়ে হয়রানি করবেন। এটা হবে না।

‘যাওয়ার সময় হ্যাংলা হ্যাংলা, আসার সময় পোটকা পোটকা। তারা কি খায় খবর নেন।’

দুর্নীতির মামলায় জড়ানোর কারণে দুর্নীতি দমন কমিশনের সমালোচনা করে বদি বলেন, যারা দুর্নীতি করে তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে কিভাবে সাদা মনের মানুষ করেছেন সেটা আমাদের জানা আছে। আর আমরা যারা সাদা মনের মানুষ তাদের কালো বানিয়েছেন।

আয়কর দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামের কর অঞ্চল সমূহের অধিক্ষেত্রাধীন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম জেলা, তিন পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজার জেলার মোট ২৯জন ব্যক্তিকে সম্মাননা পুরস্কার দেওয়া হয়।

সোমবার দুপুরে নগরীর আগ্রাবাদে সরকারি কার্যভবন-২ সংলগ্ন মাঠে চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-১ আয়োজিত অনুষ্ঠানে সেরা করদাতাদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

২০১৩ সালে আয়কর দিবসে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে সর্বোচ্চ ও দীর্ঘমেয়াদি দুই শ্রেণির পাঁচটি পুরস্কারই পেয়েছিল এ কে খান গ্রুপ পরিবার। চট্টগ্রামে এবার সর্বোচ্চ করদাতা প্রথম সালাউদ্দিন কাসেম খান ও তৃতীয় স্থানে আছেন আবুল কাসেম খান। দ্বিতীয় স্থানে আছেন নগরীর পাথরঘাটা মিরিন্ডা লেইনের ব্যবসায়ী মো. নাছির উদ্দিন। সিটি করপোরেশনে দীর্ঘমেয়াদে করদাতা দুইজন হলেন মোস্তফা কামাল হায়াত, মেজর (অব.) আবদুল মান্নান।
ctg_pix_tax_day_2
চট্টগ্রাম জেলা:
চট্টগ্রাম জেলায় এবার সর্বোচ্চ করদাতার সম্মাননা পেয়েছেন বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম। দ্বিতীয় স্থানে আছেন রাহেলা হোসাইন। তৃতীয় স্থানে লোহাগাড়া আধুনগরের শামসুদ্দিন আহমদ। দীর্ঘমেয়াদে দুই করদাতা হলেন রাউজান ফকিরহাটের নির্মল চন্দ্র দাশ ও দোহাজারী হাজারীহাটের আবদুল মান্নান চৌধুরী।

কক্সবাজার জেলা:
কক্সবাজার জেলায় সর্বোচ্চ করদাতা নির্বাচিত হয়েছেন সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি। তাঁর ভাই আবদুস শুক্কুর শীর্ষ করদাতার সম্মাননা পেয়েছিলেন, এবার তিনি তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন কক্সবাজার এন্ডারসন রোডের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে আতিকুল ইসলাম। দীর্ঘ মেয়া মেয়াদী দুই করদাতা হলেন-রফিক আহামদ ও কাজল পাল।

রাঙ্গামাটি জেলা:
রাঙামাটি জেলার সর্বোচ্চ করদাতার তিনজন হলেন- লোকমান হোসেন তালুকদার, দক্ষিণ কালিন্দীপুর সড়কের লিপি সরকার ও কাপ্তাই দোভাষী বাজারের ফরিদা ইয়াসমিন। দীর্ঘ মেয়াদের দুই করদাতা হলেন-দেবব্রত বড়ুয়া।

বান্দরবান জেলা:
বান্দরবান জেলায় তিন সর্বোচ্চ করদাতা হলেন মো. ইসমাইল, চেয়ারম্যানপাড়ার শাজাহান মিয়া ও বান্দরবান বাজারের হুমায়ুন কবির। দীর্ঘ মেয়াদে দেওয়া দুই করদাতা হলেন- বান্দরবান বাজারের শামসুদ্দিন সওদাগর ও নজির আহমদ সওদাগর।

খাগড়াছড়ি জেলা:
খাগড়াছড়ি জেলায় শীর্ষ করদাতা হলেন হাজি লিয়াকত আলী চৌধুরী, খেজুরবাগান এলাকার আবদুর রাজ্জাক ও সদরের চাউল বাজারের স্বপন চন্দ্র দেবনাথ। দীর্ঘ মেয়াদের করতারা হলেন- খাগড়াছড়ি সদরের মোহাম্মদ আওয়াল ও খাগড়াছড়ি সদর মুসলিম পাড়ার মোহাম্মদ ইউসুফ।

চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-১ এর কমিশনার দবির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য(শুল্ক নীতি) মো. ফরিদ উদ্দিন, চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম, বিজিএমইএ প্রথম সহ-সভাপতি নাছির উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।