সওজ’র কর্মকান্ডে ক্ষুদ্ধ ২৮ টি রুটের যাত্রীরা,দূর্ভোগ চরমে

প্রকাশ:| সোমবার, ৭ জুলাই , ২০১৪ সময় ০৫:৪৯ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক
চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কহাটহাজারী প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান সড়ক ও জনপদ অদিদপ্তরের কর্মকান্ডে ক্ষুদ্ধ এ সড়কে চলাচলরত যাত্রীরা। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং তুলে ফেলায় বড় বড় খাদের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রীদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এক ঘন্টার পথ যেতে প্রায় সময় লাগছে দুই তিন ঘন্টারও বেশী। তবে সওজ কর্মকর্তারা বলছেন বর্ষন একেবারে বন্ধ না হলে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা সম্ভব নয়। এতে ঈদে ঘরমুখো মানুষকেও দূর্ভোগের শিকার হতে পারে বলেও আশংকা করছে পর্যবেক্ষক মহল।

হাটহাজারী উপজেলা সওজ কর্মকর্তা ও সেকশন অফিসার মুজিবুর রহমান বলেন,হাটহাজারীর উত্তরে হাটহাজারী-নাজিরহাট মহাসড়কের যেসব স্থঅনে কার্পেটিং তুলে ফেলা হয়েছে তা একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংষ্কার করার দায়িত্ব তাদের । আমাদের বিভাগীয় কোন দায়িত্ব নেই। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং তোলা হয়েছে দেড় মাস পূর্বে এখনো কেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো কোন কছু করছে না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,তাদেরকে বলা হয়েছিল অতিদ্রুত তা সংষ্কার করার জন্য। কিন্তু প্রবল বর্ষনের কারনে তা সম্ভব হয়নি। তবে আপাতত ইট বালু দিয়ে চলাচলের উপযোগী করে দেওয়া হবে।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে,চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের কাটিরহাট বাজার,ধলই দরগাহ রাস্তার মোড়,মুনিয়াপুকুর বাজার,চেয়ারম্যান ঘঅটা,বালুরটাল,কালীবাড়ী,সরকারহাট বাজার,হাটহাজারী বাজার,বাসষ্টেশন,বিশ্ববিদ্যালয় ২ নং ও ১ নং গেইট,মদনহাট প্রভৃতি স্থানে সংষ্কারের নামে কার্পেটিং তুলে বড় বড় খাদেও সৃষ্টি করা হয়েছে। এসব খাদে অল্প বৃষ্টিতে পানি জমে জলাশয়ে পরিনত হয়। তাছাড়া মূল সড়কের চেয়ে খননকৃত স্থানে ৫/৬ ইঞ্চি গভীর হওয়ায় প্রতিদিন অকেজো হয়ে পড়ছে বিভিন্ন যানবাহন। তাছাড়া এসব স্থানে যানজটতো লেগেই আছে। বিশেষ করে হাটহাজারী বাজার,বাসষ্টেশন,সরকারহাট বাজার ও কাটিরহাট বাজারে এ যানজট প্রকট আকার ধারন করেছে।

কাটিরহাট বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী এনামুল হক চৌধুরী সেলিম বলেন,দুই মাস হয়ে যাচ্ছে কাটিরহাট বাজারের কার্পেটিং তুলেছে। কিন্তু সংষ্কারের কোন প্রয়াস নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এতে অল্প বর্ষনেও পানি জমে থাকে এ স্থানে। ফলে যানচলাচল ও পথচারীদের চলাচলে বিঘœ ঘটছে। আমরা সড়কের পাশাপাশে দোকানে ব্যবসা করতে পারছি না। পানি জমে থাকায় গাড়ী চলাচলের সময় পানি এসে পথচারী ও ক্রেতাদেও গায়ে পড়ছে।

এদিকে সরকাটের বাসিন্দা লায়ন আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল বলেন,হাটহাজারী বাস ষ্টেশন থেকে মাদ্রাসা গেইট অতিক্রম করতে প্রায় ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ মিনিট লাগে। কিন্তু সড়ক ঠিক থাকলে মাত্র পাঁচ মিনিটে এ পথ অতিক্রম করা যেত।

সিএনজি ট্যাক্সি চালক আশীষ কর বলেন,সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং তুলে ফেলায় নিত্যদিন যানবাহন অচল হয়ে পড়ছে। এসব স্থঅনে পানি জমে থাকায় গাড়ীর ইঞ্জিনের নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

চট্টগ্রাম-হাটহাজারী মহাসড়ক দিয়ে দ্ইু পার্বত্য জেলার মানুষ সহ প্রায় ২৮টি রুটের গাড়ী চলাচল করে। এ কারনে এমনিতে এ সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ একটু বেশী। আবার এসব স্থানে কার্পেটিং তুলে ফেলার কারনে নিত্যদিন যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। ঈদের পূর্বে তা সংষ্কার করা হবে কিনা তা নিয়েও সংশয়ে রয়েছে বিভাগীয় কর্মকর্তারা। তাই ঈদের পূর্বে ঘরমুখো মানুষের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হতে পারে বলেও মনে করছেন যাত্রী সাধারনরা।

সেকশন মুজিব বলেন,ঈদের আগে সংষ্কার করা হলে যান চলাচলের উপযোগী করে দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তবে তিনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কারো মুঠোফোন নম্বর দিতে রাজি হননি।


আরোও সংবাদ