সংসদ সদস্যের ইন্ধনে বাঁশখালীর মেয়রের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| শনিবার, ১৮ আগস্ট , ২০১৮ সময় ০৮:০০ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের বাঁশখালী আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর রোষানলে পড়ে মিথ্যা ধর্ষণ মামলার আসামি হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বাঁশখালী পৌরসভা আওয়ামী লীগের আহবায়ক ও পৌর মেয়র মুক্তিযোদ্ধা শেখ সেলিমুল হক চৌধুরী।

শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ সেলিমুল হক চৌধুরী বলেন, সংসদ সদস্য প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সাথে অসাদচরণ করেন। উনি আমাকে পৌরবাসীর কাছে হেয় করতে উঠেপড়ে লেগেছেন। গত ৩ জুন আমার বিরুদ্ধে একজন নারীকে বাদি করে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়। অথচ মামলায় ঘটনার যে তারিখ (২৮ মে) উল্লেখ করা হয়েছে সেদিন ছিল ১২ রমজান। আমি ওইদিন ঢাকার নিউ ইস্কাটনে আমার বাসার পাশে নুর জামে মসজিদে খতম তারাবি পড়ি। যার প্রমাণ আমার হাতে আছে।

‘আরো অবাক হওয়া বিষয় হচ্ছে আমি যখন পরিবার নিয়ে আমেরিকা যাই তখনি আমার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করা হয়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল আমি আমেরিকা থাকাকালীন সময়ে যাতে আমার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করা যায়।’

বাঁশখালীর মেয়র বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যাকে মামলার বাদি করা হয়েছে তার নানার বাড়ি সংসদ সদস্যের বাড়ির কাছে এবং মামলায় যাদেরকে স্বাক্ষীদের অধিকাংশই এমপির বাড়ি জালিয়াঘাটার বাসিন্দা। কথিত ধর্ষণের ঘটনা বাঁশখালী পৌরসভা এলাকায় দেখানো হলেও ঘটনার দিন জালিয়াঘাটার মানুষ সেখানে কিভাবে গেল? এখানেই প্রমাণিত হয় মামলাটি মিথ্যা ও সাংসদের ইন্ধন রয়েছে।

ওই নারী ও তার পরিবারের সদস্যরা আগেও বিভিন্নজনের বিরুদ্ধে এ রকম মামলা করে বলেও দাবি করেন বাঁশখালী পৌরসভা আওয়ামী লীগের আহবায়ক শেখ সেলিমুল হক চৌধুরী।

তিনি বলেন, দুঃখ লাগে আমার। হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। আমার বয়স এখন ৬৬বছর। সন্তানরা বড় হয়েছে। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছি। পাক বাহিনীর হাত থেকে মা-বোনের ইজ্জত বাঁচিয়েছি। অথচ জীবনের শেষ সময়ে এসে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট, সাজানো একটি ধর্ষণ মামলা করা হয়েছে। কতটুকু হীন মানসিকতার মানুষ হলে এ ধরনের কাজ করতে পারে …। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এরপরেও মামলাটি যখন তদন্তাধীন আছে বিশ্বাস করি সত্য অবশ্যই প্রকাশ হবে।

শেখ সেলিমুল হক চৌধুরী বলেন, আমার বিরুদ্ধে এসব করার পেছনে রাজনীতি যুক্ত আছে। সংসদ সদস্য ও তাদের অনুসারীদের মধ্যে কাঁপন ধরেছে। এতো এতো অনিয়ম-দুর্নীতি করেছে যা গণমাধ্যমে ইতিমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। দুদক কয়েকটি ঘটনা তদন্তও করছে। তাই পান থেকে চুন খসতেই আতঙ্ক বিরাজ করে এমপির মনে। যে কারণে কেউ কান কথা শুনাতে পারলেই ক্ষিপ্ত হন তিনি। মনে করেন এই বুঝি চেয়ার চলে গেছে। দুর্নীতির দায়ে জেলে যেতে হবে বলে সার্বক্ষণিক আতঙ্কে থাকেন।

তিনি বলেন, বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়ম, টি.আর-কাবিখা লুটপাট, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী নিয়োটে বাণিজ্য, স্কুল ও কলেজে শিক্ষক নিয়োগে বাণিজ্য, সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে খারাপ আচরণ ও মারধর, সাংবাদিকদেরকেও হুমকিধমকি দেয়ার তার স্বভাবে পরিণত হয়েছে।

এসব অপকর্ম আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর জয়-পরাজয়ে ফ্যাক্টর হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন বাঁশখালী পৌরসভা আওয়ামী লীগের আহবায়ক শেখ সেলিমুল হক চৌধুরী।