সংসদে নিরাপদ খাদ্য বিল-২০১৩ উত্থাপন

প্রকাশ:| সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর , ২০১৩ সময় ১১:৩৬ অপরাহ্ণ

নিরাপদ খাদ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণ, আমদানি প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ সরবরাহ, বিপণন ও বিক্রয় কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য একটি দক্ষ ও কার্যকর কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার বিধানের প্রস্তাব করে আজ সোমবার সংসদে নিরাপদ খাদ্য বিল-২০১৩ উত্থাপন করা হয়েছে।
jatiya sangsad_জাতীয় সংসদ অধিবেশন
বিলে খাদ্যে ভেজালের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। সোমবার জাতীয় সংসদের ১৯তম অধিবেশনে খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বিলটি উত্থাপন করেন।

বিলে কীটনাশক বা বালাই নাশকের অবশিষ্টাংশ, খাদ্য আদালত, খাদ্য উৎপাদন, খাদ্য পরীক্ষাগার, খাদ্য বিশ্লেষক, খাদ্য ব্যবসা ও ব্যবসায়ী, খাদ্য সংযোজন দ্রব্য, খাদ্য স্থাপনা, নিরাপদ খাদ্য, নকল খাদ্য ইত্যাদি বিষয় সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

বিলে খাদ্যমন্ত্রীকে সভাপতি করে ২৯ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠারও প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিলে পরিষদের সভা, কর্তৃপক্ষের কার্যালয়, কর্তৃপক্ষের গঠন, কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের যোগ্যতা, পদত্যাগ, অপসারণ, কর্তৃপক্ষের সভা, কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কার্যাবলী, কর্তৃপক্ষের জনবল কাঠামো, কেন্দ্রীয় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটি গঠন, কারিগরি কমিটি, তহবিল, বাজেট ও হিসাব নিরক্ষণসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া বিলে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা সম্পর্কিত বিধি-নিষেধ, বিষাক্ত দ্রব্যের ব্যবহার, তেজস্ত্রীয় ভারি ধাতু ইত্যাদির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার, ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্য বা খাদ্য উপকরণ উৎপাদন, আমদানি, বিপণন, খাদ্য সংযোজনকরণ বা প্রক্রিয়াকরণ সহায়ক দ্রব্যের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার নিষিদ্ধ করার বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিলে খাদ্যে শিল্প কলকারখানায় বর্জ্য, ভেজাল বা দূষণকারী দ্রব্য, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য দ্রব্য বা খাদ্য উপকরণ, বৃদ্ধি প্রবর্ধক, বংশগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনকৃত খাদ্য ও জৈব খাদ্য, খাদ্য মোড়কীকরণ ও লেবেলিংসহ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর খাদ্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, উৎপাদন, বিপণন, আমদানি নিষিদ্ধের বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিদর্শক নিয়োগ ও খাদ্য দ্রব্য জব্দকরণসহ যথাযথ ব্যবস্থার বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া বিলে খাদ্য আদালত গঠন, নির্ধারণ, ক্ষমতা ও এখতিয়ার, অভিযোগ ও মামলা দায়ের, বিচার প্রক্রিয়া, তদন্ত, তদন্তের সময়, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ক্ষমতা, অভিযুক্ত খাদ্যদ্রব্যের পরীক্ষা ইত্যাদিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিলে উল্লেখিত বিধান লংঘনজনিত অপরাধের জন্য দণ্ড ও জরিমানার বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ করা হয়।