সংসদে ড. ইউনূসের সমালোচনায় হাজী সেলিম

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর , ২০১৫ সময় ১০:০৯ অপরাহ্ণ

সংসদে ড. ইউনূসের সমালোচনায় হাজী সেলিমযুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিনটন ও ড. ইউনূসের ফাঁস হওয়া ই-মেইল নিয়ে সংসদে সমালোচনা করলেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিম।

বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে মাগরিবের নামাজের বিরতির পর পয়েন্ট অব অর্ডারে এই সমালোচনা করেন তিনি।

হাজী সেলিম বলেন, বহুল আলোচিত-সমালোচিত ব্যক্তি ইউনূস সাহেব। তিনি দেশবিরোধী চক্রান্ত করেছেন। হিলারি ক্নিনটন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে তাঁকে মেইল করেন তিনি।মেইলের মূল বিষয় ছিল, মামা বাড়ির আবদারের মতো।তার খায়েশ ছিল তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদে থাকতে চান। নির্ধারিত বয়স পার হলেও যাতে তিনি এমডি থাকতে পারেন তার ব্যবস্থা করতে হবে।

ড. ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে হাজী সেলিম বলেন, তিনি বিচার চান, কিন্তু তালগাছটা তার।

স্বতন্ত্র এই সাংসদ বলেন, ড. ইউনূস বাংলাদেশের দুর্যোগ, আইলা, জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন নিয়ে হিলারিকে মেইল না পাঠিয়ে গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে মেইল করেন। তার কাছে অভিযোগ করেন, তাকে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদে রাখলেই কোন সমস্যা থাকবে না। কিন্তু বাপের বেটি শেখ হাসিনা কোন চাপেই মাথা নত করে নাই।তার সাহস ও দৃঢ়তার কারণে আজ সত্য প্রকাশিত হয়েছে।

হাজী সেলিম বলেন, এই ইউনূস সাহেবের সকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।গত কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে হিলারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে তার সাড়ে সাত হাজার ই-মেইল প্রকাশ করে।তার মধ্যে ৩৭০টি মেইলে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ এসেছে।

হাজী সেলিম বলেন, আমাদের এই শিক্ষিত ভদ্রলোক ১/১১ এর সময় রাজনীতিবিদদের চরিত্র হণনের জন্য উঠেপড়ে লেগেছিলেন এবং নিজেই রাজনৈতিক দল গঠন করে গদিতে বসার স্বপ্ন দেখেছিলেন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের যে সাত হাজার ইমেইল প্রকাশ করেছে, তাতেই এ বিষয়গুলো উঠে এসেছে। এর আগে যখন গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে অস্থিরতা চলছিল তখন গুঞ্জন উঠেছিল, ব্যাংকটির পরিচালক থাকতে হিলারিকে ব্যবহারের চেষ্টা করছেন ড. ইউনূস। অবশেষে সদ্য প্রকাশিত ই-মেইলে তা-ই প্রমাণ হলো।মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রকাশিত হিলারির মেইলগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি ড. ইউনূস ও বাংলাদেশ সংক্রান্ত। তবে স্পর্শকাতর হওয়ায় হিলারির লেখা বিভিন্ন মেইলের কিছু অংশ মুছে ফেলা হয়েছে। এগুলো ক্ল্যাসিফায়েড নথি হিসেবে বিবেচ্য।

সরকারকে চাপে রাখতে ও গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকতে পুরনো বন্ধু যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মানুযায়ী ২০২৫ সালের আগে এসব মেইল জনসমুক্ষে প্রকাশ করা হবে না। তাই মেইলগুলোতে কী লেখা আছে তা জানতে হলে অপেক্ষা করতে হবে সেই সময় পর্যন্ত।