সংলাপ শেষ, এরপর কী?

প্রকাশ:| শনিবার, ২৮ অক্টোবর , ২০১৭ সময় ০১:২৩ পূর্বাহ্ণ

মোফাজ্জল করিম::আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক আয়োজিত সংলাপ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সংলাপ শুরু হয় গত ২৪ আগস্ট।

এতে অংশগ্রহণকারী সব দল নির্বাচনসংক্রান্ত তাদের চিন্তাভাবনা ও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরে। সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ছাড়া ছোট-বড় অন্য সব দলই সংলাপে অংশগ্রহণ করে। মিডিয়া মারফত যেটুকু জানা গেছে তাতে মনে হয়, কমিশনের সঙ্গে পৃথক পৃথকভাবে দলগুলোর আলাপ-আলোচনা খুবই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিক দিয়ে বিবেচনা করলে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ সফল হয়েছে বলা যায়। বিভিন্ন দলের মতামত ও প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার টেবিলে এসে যাওয়ায় জাতিও জানতে পারল কোন দল কী চায়। নির্বাচন কমিশনও তাদের নানাবিধ সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে তাদের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
সংলাপ তো শেষ হলো, এরপর কী হবে? জাতি কি ধীরে ধীরে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাবে, নাকি ২০১৪ সালের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির উদ্ভব হবে? সেই ভোটারবিহীন নির্বাচন, সেই মারামারি, কাটাকাটি? বলা যায়, সংলাপের মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী সংসদ নির্বাচনের পালে হাওয়া লাগতে শুরু করেছে। এখন বিভিন্ন দলের হবু প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা যেমন নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে কাজকর্ম আরম্ভ করে দিয়েছে, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও আনুষঙ্গিক বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ-আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। যেসব বিষয় গত দুই মাস পত্র-পত্রিকার শিরোনাম হয়েছে (যেমন নির্বাচনকালীন সরকার, সেনাবাহিনী নিয়োগ, কালো টাকার প্রভাব ইত্যাদি) সেগুলোই এখন শহর-বন্দর-গ্রামে চায়ের কাপে ঝড় তুলছে।

এটা স্বাভাবিক। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো একটা অত বড় বিষয় দরজায় কড়া নাড়ছে আর দেশবাসী মুখে কুলুপ লাগিয়ে বসে থাকবে, বাংলাদেশ বা উন্নয়নশীল বিশ্বে এটা কল্পনা করা যায় না। মানুষ তার অধিকার নিয়ে, জীবনজগতজনিত সমস্যা নিয়ে কথা বলবে—এটাই তো স্বাভাবিক। এটাই সুস্থ মন-মানসিকতার পরিচায়ক। এটা তো আর মার্শাল ল নয়, বা মধ্যপ্রাচ্য-আফ্রিকা-ল্যাটিন আমেরিকার কোনো দেশ নয় যে কথা বলা যাবে না। কথা নিশ্চয়ই বলা যাবে, বলতে দিতে হবে। নইলে সব বাদ-বিসম্বাদ, সব বিরোধের জন্ম হবে এই কথা বলতে না দেওয়া থেকেই। এখানেই কথা আসে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’-এর। একটি পক্ষপাতহীন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের জন্য এটা পূর্বশর্ত।
দুঃখের বিষয়, আমরা মনে রাখতে চাই না ফরাসী দার্শনিক ভলতেয়ারের সেই অমর উক্তি : তুমি যা বলছ তা আমি মানি না, কিন্তু তোমার বক্তব্য উপস্থাপনের অধিকার আমি আমার জীবন দিয়ে রক্ষা করব। রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি—জীবনের কোনো ক্ষেত্রেই এমনটি হতে পারে না যে সব মানুষ একই সুরে একই কথা বলবে। তাই যদি হতো, তা হলে তো মানবসভ্যতা এক জায়গায় স্থাণুর মতো দাঁড়িয়ে থাকত, প্রগতি বলে কিছু থাকত না। অতএব, আগামীতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন পেতে হলে দল-মত-নির্বিশেষে সবাইকে মত প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে, সবার কথা শুনতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে মানুষের মিটিং-মিছিল করার গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না। সেই সঙ্গে এটাও বলতে চাই, অধিকার চর্চার নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, আইনকানুন ভঙ্গ করে একটি অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করাও হবে সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত।

জাতীয় নির্বাচনে যাদের স্বার্থ সরাসরি জড়িত তারা কারা? অর্থাৎ ইংরেজিতে যাকে বলে ‘স্টেকহোল্ডার’, তারা কারা? নিশ্চয়ই সবার আগে বলতে হয় ভোটার, যে ভোটার সাধারণ মানুষ। কারণ নির্বাচনের মাধ্যমে পাঁচ বছরের জন্য সাধারণ মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। সে যে ধরনের সরকার প্রত্যাশা করে, সে ধরনের সরকার ক্ষমতায় এলে, তার আশা ও বিশ্বাস, তার স্বার্থ সংরক্ষিত হবে, দেশ সঠিক পথে চলবে। এ ছাড়া আর যারা স্টেকহোল্ডার আছে, বলা বাহুল্য তাদের মধ্যে অন্যতম নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো। এরা চাইলে একটি নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে হতে পারে। আবার এরা চাইলে নির্বাচন ভণ্ডুলও হতে পারে। ফলে একটি ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা, আমার মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভোটকেন্দ্রে গোলযোগ সৃষ্টি করা, ব্যালট বাক্স ছিনতাই করা, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, ব্যালট পেপারে বলপূর্বক সিল-ছাপ্পর মারা—এসব প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোই করে থাকে। আবার কারচুপি করে ভোটের ফলাফল উল্টোপাল্টা করার কাজটিও তারাই করে। কারচুপি হয় দু’ধরনের : স্থ্থূল ও সূক্ষ্ম। প্রকাশ্যে সিল মারা, ব্যালট বাক্স ছিনতাই করা, ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে যেতে না দেওয়া ইত্যাদি হচ্ছে স্থ্থূল কারচুপি। আর পর্দার আড়ালে কর্তৃপক্ষের সহায়তায় রেজাল্ট পাল্টিয়ে বিজয়ী প্রার্থীকে পরাজিত দেখিয়ে করা হয় সূক্ষ্ম কারচুপি।

একটি অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পূর্বশর্ত হচ্ছে সংশ্লিষ্ট সব রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছা। সেই সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ হবে তখনই, যখন দলগুলো প্রকাশ্যে ঘোষণা দেবে তারা কোনো প্রকার অসদুপায় ও দুর্নীতির আশ্রয় নেবে না এবং একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য যা যা করণীয় তা-ই করবে। তাদের সদিচ্ছার প্রতিফলন হচ্ছে কি না তা দেখবে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংগঠনগুলো। তবে ঘোষণাটি যথাসময়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে অবশ্যই দিতে হবে এবং তা নির্বাচনের যথেষ্ট আগে।

নির্বাচনে কালো টাকার ছড়াছড়ি বন্ধের লক্ষ্যে আজ পর্যন্ত কোনো ফলপ্রসূ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এটা নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের ব্যর্থতা। এর ফলে অনেক অযোগ্য প্রার্থী শুধু টাকার জোরে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হন এবং প্রায়শই সফলকামও হন। টাকা দিয়ে তাঁরা ভাড়াটে গুণ্ডা ও সন্ত্রাসীদের নির্বাচনী কাজে লাগান। এটা বন্ধ করার একমাত্র উপায় হচ্ছে, নির্বাচনী ব্যয়ের সর্বোচ্চ অঙ্ক সঠিকভাবে নির্ধারণ করা এবং সেই অঙ্কের ভেতর যাতে নির্বাচনী ব্যয় থাকে তা নিশ্চিত করা। প্রার্থীরা নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব কদাচিৎ সঠিকভাবে সঠিক সময়ে নির্বাচন কমিশনে জমা দেন। দশ কোটি টাকা খরচ করে দশ লাখ টাকার হিসাব দেওয়া হয় এবং সেই হিসাব নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বিনা আপত্তিতে সঠিক বলে গৃহীত হয়। মিথ্যা হিসাব দেওয়ার জন্য কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা, কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে বলেও শোনা যায় না। ফলে পুরো বিষয়টা একটা প্রহসন ছাড়া কিছু নয়। কালো টাকার খেলা বন্ধ করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিলে অনেক সৎ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে জয়লাভ করবেন। দেশ ও জাতির জন্য তা হবে শুভকর। এ ব্যাপারে বর্তমান কমিশন কী ব্যবস্থা নেয়, তা দেখার অপেক্ষায় থাকব আমরা।

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সময়ে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় গুণ্ডা-বদমাশ ও সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে না পারলে সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা যায় না। এই লক্ষ্যে নির্বাচনের আগে দেশব্যাপী অভিযান চালিয়ে চিহ্নিত দুষ্কৃতকারীদের আটক ও বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। তবে জনগণ যাতে নিঃশঙ্কচিত্তে ও নির্বিবাদে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটটি নিজেই দিতে পারেন এবং ভোটকেন্দ্রে বা তার আশপাশে কোনো গোলযোগ না হয় তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, কেবল নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী—অর্থাৎ পুলিশ-আনসার-র‌্যাব-বিজিবি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায় না। অনেক সময় এই সব বাহিনীর বিরুদ্ধে অদক্ষতা ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ ওঠে। দুষ্কৃতকারীরাও অনেক সময় তাদের পরোয়া করে না। অথচ যখনই এদের পাশাপাশি সেনাবাহিনীকে নিয়োগ দেওয়া হয়, তখন পরিস্থিতি পাল্টে যায়। কাজেই এবার অন্তত সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সেনাবাহিনী নিয়োগ দেওয়া উচিত। সেই সঙ্গে দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতাও তাদের দেওয়া যেতে পারে।

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে এখন জোর বিতর্ক চলছে। এ ব্যাপারে দেখা যাচ্ছে, সরকারি দল ও প্রধান বিরোধী দল অনড় অবস্থান গ্রহণ করেছে। এ বিষয়টির ফয়সালা আলোচনার টেবিলে বসে হবে বলে মনে হয় না। আবার নির্বাচন কমিশনেরও এ ব্যাপারে তেমন কিছু করার নেই। এটা ঠিক করতে হবে সরকারকেই এবং তা হতে পারে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে অনানুষ্ঠানিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে। সরকার ইতিমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছে, তারা এবার একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়, যা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো প্রশ্নবিদ্ধ হবে না। তাই যদি হয়, তবে এমন একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রাথমিক দায়িত্ব সরকারের ওপরই বর্তায়। সরকারকেই আলাপ-আলোচনার দ্বার খুলে দিতে হবে। আমার বিশ্বাস, প্রধান দুই দল সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের স্বার্থে কিছু কিছু বিষয়ে (যা আপাতদৃষ্টিতে ‘ব্রেড অ্যান্ড বাটার’ মনে হচ্ছে) ছাড় দিতে পিছপা হবে না। এ ক্ষেত্রে সংবিধান ও আইনের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা রেখেই জাতীয় স্বার্থ ও বাস্তবতার নিরিখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, আইন মানুষের জন্য, আইনের জন্য মানুষ নয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, নির্বাচনের সময় জাতীয় সংসদ বহাল থাকা না থাকা। সরকারি দলের দাবি, বর্তমান জাতীয় সংসদ বহাল রাখা। এটি বস্তুতপক্ষে একটি নজিরবিহীন দাবি। অন্য কোনো দেশে এমনটি আছে বলে আমাদের জানা নেই। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সংবিধানে যেসব সংশোধনী সংযোজন করে, এটি তার অন্যতম। একটি সংসদ বহাল রেখে আরেকটি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা যৌক্তিক বলে মনে হয় না। একজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ‘সিটিং’ সংসদ সদস্য হিসেবে ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীরা হবেন সাধারণ নাগরিক, যাঁদের কোনো প্রটোকল থাকবে না, থাকবে না প্রশাসনের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ—এটা হবে অসম প্রতিযোগিতা। এতে করে জনমনেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার অবকাশ থাকবে। কাজেই এই ব্যবস্থাটি গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয় না।

এসব বিষয় ছাড়া ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণ, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ, প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলোর আচার-আচরণ ইত্যাদি নির্বাচন কমিশনের রুটিন, তবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, যা সময়মতো ও সঠিকভাবে পালনের ওপর সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের সাফল্য বহুলাংশে নির্ভর করে।

দুই.

স্মরণ রাখা দরকার, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক আয়োজিত সংলাপই শেষ কথা নয়। সংলাপ একটি ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দিয়েছে, যা থেকে উঠে এসেছে তথ্য-উপাত্ত-প্রস্তাব ইত্যাদি। এখন সংশ্লিষ্ট সব, যথা নির্বাচন কমিশন, সরকার, সব রাজনৈতিক দল ইত্যাদি সবার দায়িত্ব হবে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সঠিকভাবে স্ব স্ব ভূমিকা পালন করা।

এক অর্থে বল এখন পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের কোর্টে। তারা প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিচার-বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে, যা হবে সম্পূর্ণ নির্ভীক, নিরপেক্ষ ও জাতীয় স্বার্থভিত্তিক। এমন কিছু করা ঠিক হবে না, যা বিভীষিকাময় ২০১৪ সালের মতো জাতিকে আরেকটি ভোটারবিহীন ও ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ নির্বাচনের দিকে ঠেলে দেবে। রাজনৈতিক দলগুলো যদি সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে বিশ্বাসী হয়, সত্যি যদি ‘যে করে হোক জয়লাভ করতেই হবে, পরাজয় মেনে নেব না’—এই নীতি পরিহার করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়, তবে তারা তাদের আচার-আচরণে সংযমের পরিচয় দেবে, নিয়মনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে। আর সে লক্ষ্যে পরস্পরের সঙ্গে খোলা মন নিয়ে আলাপ-আলোচনা করতে হবে। সব কিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে পরমতসহিষ্ণুতা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারকে। এগুলো সমগ্র জাতির প্রত্যাশা, সাধারণ মানুষের স্বপ্ন। অতীতে মানুষ বিফলমনোরথ হয়েছে বারবার, এবার অন্তত ২০১৪ সালের দুঃসহ স্মৃতি ভুলে একটি সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখুক মানুষ।

লেখক : সাবেক সচিব, কবি

mkarim06@yahoo.com