সংবিধান থেকে এক চুলও নড়বো না- প্রধাননমন্ত্রী

প্রকাশ:| রবিবার, ১৮ আগস্ট , ২০১৩ সময় ০৮:১৭ অপরাহ্ণ

hasina3 (1)_5541_0সংবিধান অনুযায়ী দেশ চলবে এবং আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পার্লামেন্টে আলোচনার মাধ্যমেই আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ থেকে আমরা এক চুলও নড়বো না বলে জানিয়েছেন প্রধাননমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, জনগণের ভোট নিয়ে সংবিধান সংশোধন করেছি। আগামী ২৫ অক্টোবরের পর সাংবিধানিক সংকট তৈরি হবে বলে যে কথা তারা বলছে, তা সত্য নয়। সাংবিধানিক সংকট তৈরি হওয়ার কোনো সুযোই নেই।

আজ রোববার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দেশীয় পাটের জীবন রহস্য উন্মোচনের ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে দেশি পাটের জীবন রহস্য উন্মোচনের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের বিজ্ঞানীরা দেশি পাটের জীবনরহস্য আবিষ্কার করেছে। এটি আমাদেরই সাফল্য। জাতি হিসেবে গর্বের বিষয়। এর মাধ্যমে পাটশিল্প হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য আবারও ফিরে পাবে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশের বিজ্ঞানী ড. মাকসুদুর রহমান এ দেশীয় প্রজাতির পাটের জীবন রহস্য উন্মোচন করেছেন। এর ফলে এই সোনালী আঁশ দেশের মানুষের জীবনে সোনালী হাসি ফিরেয়ে আনবে।

এ সময় তিনি তার সরকারের গত পৌনে পাঁচ বছরের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে দীর্ঘ বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের নির্ধারি বিষয়ে প্রশ্ন সীমাবদ্ধ রাখার অনুরোধ জানালেও বিভিন্ন প্রশ্নে উঠে আসে সামপ্রতিক রাজনৈতিক বিষয়।

আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা কী চান? আবার অসাংবিধানিক কেউ আসুক ? ২০০৭-০৮ সালের কথা কি ভুলে গেলেন? উচ্চ আদালতের রায়ে এটা বাতিল হয়েছে। এটা নিয়ে কোনো তর্ক-বিতর্ক হওয়ার কথা নয়। আমরা অন্ধকার থেকে দেশকে আলোয় নিতে চাচ্ছি। আপনারা অন্ধকারে ফিরে যেতে চাইলে আমার কিছু করার নাই।

তিনি বলেন, আমরা দেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাবো। যাতে আর কেউ অসাংবিধানিকভাবে কেউ ক্ষমতা দখল করতে না পারে ।

তিনি সাংবাদিক এবং লেখকদের দোদুল্যমান অবস্থা পরিহারের পরামর্শ দিয়ে বলেন, আপনরা শক্ত থাকুন। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে, সরকার পরিচালিত হবে। অসাংবিধানিক কারো হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেয়া হবে না।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমরা এতগুলো টেলিভিশন চ্যানেল এবং পত্রিকার অনুমোদন দিয়েছি। কিন্তু তারাই টকশোর নামে ‘টক টক’ কথা বলে আমাদের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, কিছু সুশীল আছেন, যাদের রাজনীতি করার ক্ষমতা নেই। ভোট করার ক্ষমতা নাই, তত্ত্বাবধায়কের মোড়কে ক্ষমতার স্বাদ গ্রহণের জন্য তারা নানা কথা বলেন।

২৫ অক্টোবরের পর দেশে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হবে বিরোধী দলের এমন আশংকা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সাংবিধানিক সংকট তৈরি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে দেশে অন্ধকার নেমে এসেসছিল। ক্ষমতায় এসে আমরা ৩ হাজার ২শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেয়ে ছিলাম। আমরা এটাকে ৮ হাজার ৬শ’ মেগাওয়াটে উন্নীত করেছি।

সবাই যাতে সমানভাবে বিদ্যুৎ পায় সেজন্য দিনে দু’বার লোডশেডিং রাখার নির্দেশ দিয়েছি। চারদলীয় জোট সরকারের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে দিতে প্রয়োজনে আরো দু’বার লোডশেডিং দেয়ার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে বলবেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, বিদেশিদের কাছে হাত বাড়াবো না, নিজেদের আত্মপ্রত্যয়ী হতে হবে। জাতি হিসেবে স্বাবলম্বী হতে পারলে কারো কাছে ধরনা দিতে হবে না।

বিরোধী দলের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকারের সময় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এসে সে পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটিয়েছি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে মানুষ কিছু না কিছু পায়। আমরা গত রমজানে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রেখেছি।

তিনি বলেন, বিরোধী দল উন্নয়ন স্বীকার না করলেও যখন ফ্লাইওভারগুলোতে চড়েন, হাতিরঝিলে ঘুরতে যান তখন মনে মনে উন্নয়নের কথা স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক তত্ত্বাবধায়ক করে আদালত অবমাননা করছে। তারা জানেন আইনানুয়ায়ী উচ্চ আদালত এ পদ্ধতিকে অসাংবিধানিক হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী দীপু মনি, বিমান মন্ত্রী ফারুক খান, পরিবেশমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রমুখ।