‘সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংসদকে ধ্বংস করেছে’

প্রকাশ:| বুধবার, ১ অক্টোবর , ২০১৪ সময় ১১:৩৮ অপরাহ্ণ

দুই রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিকদের ইঙ্গিত করে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আমরা যার বিরুদ্ধে লড়াই করি, বড় বড় বুলি ছুড়ি, ক্ষমতায় গেলে সে কাজটাই করি। বরং তা আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে। আমরা সবাই আসলে মুনাফেকের পরিচয় দিচ্ছি। এরমধ্যে আমিও রয়েছি। বুধবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের ইআরসি সেমিনার হলে ‘বিচারপতিদের অভিশংসন-ন্যায় বিচার-সুশাসন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। গুড গভর্নেন্স ফোরাম নামের একটি সংগঠন এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। তিনি বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংসদকে ধ্বংস করছে। যেভাবে এটা প্রয়োগ হয়েছে, এতে সংসদকে ধ্বংস করছে। ষোড়শ সংশোধনী সুপারসনিক গতিতে কেন হবে? বিচার কীভাবে হবে, সে বিষয়ে তিন মাসের মধ্যে আইন করার কথা বলা হয়েছে। এর আগেই সংবিধান সংশোধন করা হলো। খসড়া আইন ও খসড়া সংশোধনী হতে পারত। এটা নিয়ে আলোচনা হতে পারত। ড. কামাল হোসেন বলেন, আগে রাজনীতি ছিল মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য জীবন উৎসর্গ করা। সম্পত্তি করা, ছেলেমেয়ের ভবিষ্যৎ গড়া এর মধ্যে ছিল না। ২০০৭ সালের বিতর্কিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনের উদাহরণ টেনে ড. কামাল হোসেন বলেন, ইয়াজ উদ্দিনের অধীনে যাতে সাজানো নির্বাচন না হতে পারে সেজন্য আওয়ামী লীগ আন্দোলন করেছে রাজপথে, আর আমরা আদালতে। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বিএনপির চেয়ে ন্যক্কারজনকভাবে একতরফা নির্বাচন করলো। ছাত্র রাজনীতির বর্তমান অবস্থার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ষাটের দশকে আমরা যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম তখন বুঝতামই না যে চাঁদাবাজি বা টেন্ডারবাজি কী! এ দুটো শব্দ আমাদের কাছে অপরিচিত ছিল। কিন্তু এখনকার ছাত্রনেতারা প্রকাশ্যে অস্ত্র উচিয়ে টেন্ডারবাজি করে। সেই ছবি আবার পত্রিকায়ও আসে। কর্মকান্ডের দিক থেকে তিনি ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মধ্যে কোন পার্থক্য দেখতে পাননা বলেও মন্তব্য করেন। আলোচনা সভায় সভাপতিত করেন বিচারপতি সিকদার মকবুল হক। প্রধান আলোচক ছিলেন ড. মিজানুর রহমান শেলী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপণ করেন ইকতেদার আহমেদ। আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়–য়া, মানবাধিকার নেত্রী এডভোকেট সিগমা হুদা, সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।