সংঘর্ষের মামলায় নিরহ ক্যাক্তিকে আসামী করার অভিযোগ

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ , ২০১৭ সময় ০৯:৩৩ অপরাহ্ণ

পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের নতুন ঘোনা এলাকায় জমির বিরোধ আপন দু’ভাইয়ের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা রুজু হয়েছে। আহত আবদুল মতলব গংয়ের পক্ষের রুজিনা আক্তার বাদি হয়ে ১৭জনকে এজহারনামীয় আরো ৬জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী পেকুয়া থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন। যার মামলা নং-১১/১৭ইং। আহত অপর পক্ষ আবদুল হক গংয়ের পক্ষে থানায় মামলা জমা দিলেও পুলিশ মামলা নেয়নি বলে জানিয়েছেন তার পরিবার।
ওই মামলায় এ পর্যন্ত স্কুল ছাত্র, নারী ও বৃদ্ধসহ ৪জন আটক হয়েছে। তার মধ্যে থানায় আটককৃত ২জন হলেন ৭৫ বছরের বৃদ্ধ মৃত ইজ্জত আলীর পুত্র আবদুল গণি ফকির ও এয়ারআলী খান উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেনীর ছাত্র এনামুল হক। আদালত থেকে জামিন না মঞ্জুর হওয়া দুজন হলেন দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী বুলবুল আকতার ও সাহাবউদ্দিনের স্ত্রী হাছিনা বেগম।
এদিকে পেকুয়া থানায় আটককৃত বৃদ্ধ আবদুল গণি ফকিরকে এ মামলায় তাকে মিথ্যাভাবে জড়ানো হয়েছে অভিযোগ করে তার পুত্র আহমদ ছফা জানান, আবদুল মতলব ও আবদুল হক চাচাতো ভাই। তাদের মধ্যে জায়গা জমির বিরোধ রয়েছে। আমার পিতার সাথে আবদুল মতলবের কোন ধরণের বিরোধ নাই এবং তাদের কোন ধরণের আত্বীয় স্বজন নই। হয়রানি করার জন্য আমার বয়োবৃদ্ধ পিতাকে মিথ্যাভাবে আসামী করা হয়েছে। আমি এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সঠিকভাবে তদন্ত করার অনুরোধ জানাচ্ছি। এছাড়াও এ ঘটনায় আহত আবদুল হক মোঠোফোনে এ প্রতিনিধিকে জানান, জায়গা জমির বিরোধ নিয়ে আমাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সংঘর্ষে আমাদের পক্ষ থেকে ৪জন গুরুতর আহত হয়েছে। এখনো হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছি। এরই মাঝে আমার ১০ম শ্রেনীর স্কুল পড়–য়া ছাত্র এনামুল হককে আসামী করার পর পুলিশ আটক করেছে। অথচ ঘটনার দিন এনামুল হক স্কুলে ছিল। অনেক নিরহ লোককে এ মামলায় আসামী করার পায়তারা চলছে। জেল হাজতে থাকা বুলবুল আকতার ও হাছিনার বেগমের পরিবারও এ ঘটনায় তারা জড়িত নয় বলে জানান।
স্থানীয় মো: কামাল হোসেন, ওসমাণ, বাচ্চু ও সাদুল করিম জানান, দুই চাচাতো ভাইয়ের মধ্যে জমির বিরোধ নিয়ে সংঘর্ষ। আহত হয় দুই পক্ষ থেকে। আবদুল মতলব এর পক্ষ থেকে মামলা হওয়ার পর এলাকা এখন মানুষ শূন্যে। অবদুল মতলব গংয়ের পক্ষে আজু মিয়া, তওহীদ, দুদু মিয়াসহ আরো কয়েকজন মিথ্যাভাবে মামলায় জড়ানো হবে বলে বিভিন্ন জনকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে মিথ্যাভাবে আসামী করা হয়েছে। প্রশাসনের কাছে আমাদের অনুরোধ থাকবে এ ঘটনায় কারা দোষী আর কারা নির্দোষ তা তদন্ত করে বের করুক। যাতে নিরহ লোকজন হয়রানী না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, রাজাখালীতে জমির বিরোধ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা রুজু হয়েছে। চারজন বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছে। এ মামলায় যদি কোন নিরহ মানুষ আসামী হয়ে থাকে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আরোও সংবাদ