সংখ্যালঘুদের অধিকার আদায়ের সুরঞ্জিত কাজ করে গেছেন

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ , ২০১৭ সময় ১০:৪৯ অপরাহ্ণ

ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার আদায়ের প্রয়াত রাজনীতিক সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত আজীবন কাজ করে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন আর্ন্তজাতিক মানবতা বিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত।

চট্টগ্রামে আইনজীবী ঐক্য পরিষদ আয়োজিত সুরঞ্জিতের স্মরণ সভায় রানা দাশগুপ্ত আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের অবদান ছিল। তিনি সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষিত কোন সদস্য ছিলেন না। অথচ মুক্তিযুদ্ধে তিনি সাব সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেছেন।

‘স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা একটি সুন্দর সংবিধান রচনা করতে পেরেছিলাম। সামরিক শাসকরা এসে সেই সংবিধানকে বারবার ক্ষতবিক্ষত করেছে। আমরা এখন যে বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাবার কথা বলি, সেই সংবিধানে অন্যতম রচয়িতা সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। ’

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত আরও বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত বঙ্গবন্ধুর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে ন্যাপ থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন। স্বাধীনতার পরও প্রত্যেক সংসদে তার অংশগ্রহণ ছিল। তার উপস্থিতিতে সংসদের অধিবেশনগুলো প্রাণবন্ত হয়ে উঠত।

‘সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত যুক্তিনির্ভর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিরোধীদের যুক্তি খন্ডন করতেন। ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘুরা যখনই সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, তখনই তিনি পাশে দাঁড়িয়েছেন। সংখ্যালঘুদের জন্য তিনি সংসদে-রাজপথে প্রতিবাদ করেছেন। সংখ্যালঘুদের অধিকার আদায়ে তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কাজ করে গেছেন। ’ বলেন রানা দাশগুপ্ত।

বৃহস্পতিবার জেলা আইনজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে আয়োজিত স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন আইনজীবী ঐক্য পরিষদের চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট পরিমল চন্দ্র বসাক।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট অনুপম চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় স্মরণ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বার কাউন্সিলের সদস্য অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি রতন কুমার রায়, জেষ্ঠ্য আইনজীবী মুজিবুল হক, শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, মুজিবুর রহমান ফারুকম আব্দুর রশীদ, সমিতির সহ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সহ সাধারণ সম্পাদক হাসান আলী চৌধুরী, আইনজীবী শংকর প্রসাদ দে, নূরুল আবছার, উত্তম দত্ত, দিদারুল আলম চৌধুরী, অপূর্ব চরণ দাশ এবং প্রদীপ কুমার চৌধুরী।


আরোও সংবাদ