শ্রীলঙ্কার পাহাড় সম রান

প্রকাশ:| বুধবার, ২৯ জানুয়ারি , ২০১৪ সময় ০৬:২৬ অপরাহ্ণ

প্রথম ইনিংসে উড়িয়ে মারতে গিয়েই আউট হয়েছেন। ভুল থেকে কিছু শেখার তাগিদ দেখালেন না তামিম ইকবাল। দ্বিতীয় ইনিংসে সেই উড়িয়ে মারতে গিয়েই ক্যাচ দিলেন। পার্থক্য বলতে, সেবার তাঁর ঘাতক ছিলেন শামিন্দা এরাঙ্গা, এবার রঙ্গনা হেরাথ।

বাংলাদেশের সামনে হিসাবটা একদমই পরিষ্কার। এই টেস্টের সম্ভাব্য ফল এখন দুটো। হয় শ্রীলঙ্কার জয়, নয়তো ম্যাচ ড্র। ম্যাচ ড্র করতে হলে দুদিনেরও বেশি ব্যাটিং করার জোর থাকতে হবে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের মেরুদণ্ডে। কিন্তু উইকেটে গিয়ে ঘাম ঝরানোর বদলে সহ-অধিনায়কের দায়িত্বে ফেরা তামিম বেছে নিলেন সাজঘরের আরাম। ১৮ বলে ১১ করে বাংলাদেশকে বাজে একটা শুরু এনে দিয়ে ফিরে গেলেন। দিলরুয়ান পেরেরা দারুণ একটি ক্যাচ নিয়ে একের পর এক সহজ ক্যাচ ফেলা বাংলাদেশকে যেন আরেকটি বার্তা দিতে চাইলেন—এটা টেস্ট ক্রিকেট!

দিনের বাকিটা সময় আর কোনো বিপদ বাড়েনি বলে রক্ষা। ১ উইকেটে ৩৫ রানে দিন শেষ করেছে মুশফিকের দল। মাথার ওপর এখনো শ্রীলঙ্কার ৪৬৩ রানের লিড। পড়ে আছে আরও দুটো দিন। চতুর্থ দিন থেকে স্পিনাররা উইকেটে আরও ভালো সাহায্য পাবেন। তবে না পেলেও অসুবিধা নেই। সেই ‘সাহায্য’টা দিতে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের আত্মহননের প্রবণতা তো আছেই।
এর আগে ৬ উইকেটে ৭৩০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কা। কুশল সিলভার পর সেঞ্চুরির তালিকায় নাম লিখিয়েছেন মাহেলা জয়াবর্ধনে আর ভিথানাগে। মাহেলা করেছেন ক্যারিয়ারের সপ্তম ডাবল সেঞ্চুরি। এই প্রথম বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে কোনো দল সাত শর বেশি রানও তুলল। অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের একটাই আক্ষেপ থাকল। নিজে সেঞ্চুরির মিছিলে যোগ দিতে পারেননি মাত্র ১৪ রানের জন্য।
৫ উইকেটে ৩৭৫ রান দিয়ে দিন শুরু করা শ্রীলঙ্কা আজ সারা দিনে মাত্র একটি উইকেট হারিয়ে যোগ করেছে ৩৫৫ রান। সেটিও ৮০.১ ওভারে। ওভারে প্রায় সাড়ে চারের কাছাকাছি রান তুলেছে আজ শ্রীলঙ্কা। একমাত্র উইকেটটি দেখার জন্য বাংলাদেশকে বল করতে হয়েছে ৫০ ওভার!
এতেও যদি বোলারদের অবিশ্রান্ত দিনের ছবি স্পষ্ট না হয়, তবে এখান থেকেও সেটি আন্দাজ করে নিতে পারেন। সতীর্থদের তুলনার স্বভাববিরুদ্ধ ভঙ্গি দুর্দান্ত ডাইভ দিয়ে মার্শাল আইয়ুব ম্যাথুসের ক্যাচটি নেওয়ার পর বোলার সোহাগ গাজী দু হাত তুলে ঈশ্বরের কাছে মোনাজাত করলেন।

ম্যাচের যা অবস্থা, তাতে কেবল ঈশ্বরই এখন বাঁচাতে পারে বাংলাদেশকে।