শ্রমিকদের অধিকার সচেতন করছে বিলস

প্রকাশ:| রবিবার, ১৮ ডিসেম্বর , ২০১৬ সময় ০৯:১৫ অপরাহ্ণ

অধিকার বঞ্চিত করতে নির্মাণ, তৈরি পোষাক, হোটেল অ্যান্ড রেষ্টুরেন্ট এবং হেলথ এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মরত শ্রমিকদের নিয়োগ ও পরিচয়পত্র দেওয়া হয়না বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিস (বিলস)।

রোববার বিকেলে নগরীর এনায়েত বাজারে সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান বিলস’র সম্পাদক ও জাতীয় শ্রমিকলীগের যুগ্ম সম্পাদক মু. শফর আলী।চট্টগ্রামে অবস্থিত লেবার রিসোর্স অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টারে বিলস্-ডিজিবি প্রকল্পের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে শফর আলী বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়োগ ও পরিচয়পত্র নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, নির্মাণ, তৈরি পোষাক, হোটেল অ্যান্ড রেষ্টুরেন্ট এবং হেলথ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কাজ করেন। কিন্তু পোশাক কারখানা ও হেলথ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে শ্রমিকদের একটি পরিচয়পত্র দেওয়া হলেও সেটি প্রতি মাসে নবায়ন করা হয়। ফলে যে কোন সময় চাকরিচ্যুত করতে পারে। এতে অধিকার বঞ্চিত হন শ্রমিকরা।

শ্রমিকরা তাদের অধিকার নিয়ে কিছুই জানে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রমিকরা জানেনা আইন অনুযায়ী কয়ঘণ্টা চাকরি করতে হবে। নিয়োগের পর তাকে কোন কোন সুবিধা দিতে হবে তাও জানেনা। ফলে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন তোলার কাজ চলছে।

বন্দর নগরী চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র উল্লেখ করে শ্রমিকলীগ নেতা শফর আলী বলেন, চট্টগ্রামে ছোট-বড়-মাঝারী শিল্প কলকারখানা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছে স্থানীয় শ্রমজীবি জনগোষ্ঠী ছাড়াও দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা লাখ লাখ শ্রমজীবি মানুষ কাজ করে।

চট্টগ্রামের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কর্মরত শ্রমিকদের সুরক্ষা ও ট্রেড ইউনিয়ন কর্মকান্ডে সহযোগিতার লক্ষ্যে জার্মান ভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়ন সংস্থা বিলস্ ডিজিবি ৩ বছর মেয়াদী কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে চলতি বছরের এপ্রিল ‘বিলস্ লেবার রিসোর্স এন্ড সাপোর্ট সেন্টার’ গঠন করা হয়।

জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের ট্রেড ইউনিয়নগুলো এই সেন্টারের মাধ্যমে তথ্য ও আনুষাঙ্গিক সেবা নিতে পারবে। এ কেন্দ্রের মাধ্যমে তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠকদের নেতৃত্ব ও দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ, প্যারালিগ্যাল প্রশিক্ষণ, শ্রম আইন, যৌথ দরকষাকষি ও ট্রেড ইউনিয়ন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে ভুক্তভোগী শ্রমিকেরা প্রয়োজনীয় আইনী সহায়তা পাবেন।

এরই অংশ হিসেবে নির্মাণ, তৈরি পোষাক, হোটেল অ্যান্ড রেষ্টুরেন্ট এবং হেলথ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মরত শ্রমিকদের শ্রম আইন, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার, পেশাগত সাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, প্রচার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সম্প্রতি বিলস-ডিজিবির যৌথ উদ্যোগে ৪টি সেক্টরের ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পৃথক ৪টি ক্যাম্পেইন ও এডভোকেসি টিম গঠনের মাধ্যমে শিল্প সেক্টর ভিত্তিক ক্যাম্পেইন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ ক্যাম্পেইন ও এডভোকেসী টিমের মূল উদ্দেশ্য নিয়োগ ও পরিচয়পত্র সম্পর্কে শ্রমিকদের সচেতন করে তোলা।

এরই মধ্যে চট্টগ্রামে তরুণ সংগঠক ও প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষিত এবং দক্ষ করে তুলতে তরুণ ট্রেড ইউনিয়ন কর্মী, সংগঠকদের সমন্বয়ে একটি তরুণ সংগঠক ও প্রশিক্ষক টিম গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বিলস-এর সম্পাদক ও শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন, টি ইউ সি জেলা সভাপতি শ্রমিক নেতা তপন দত্ত, বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা, প্রশিক্ষক ও বিএফ টি ইউ সির রিজওয়ানুর রহমান খান, পাহাড়ী ভট্টাচার্য প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।