শ্যালা নদীতে কাল থেকেই চলবে নৌযান

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি , ২০১৫ সময় ১১:০৪ অপরাহ্ণ

মংলা-ঘষিয়াখালি চ্যানেলের খনন কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আগামীকাল বুধবার সকাল থেকে শ্যালা নদী দিয়ে নৌযান চলাচল করতে পারবে। তবে শুধু দিনের বেলা নৌযান চলবে এবং তেলবাহী জাহাজ চলাচলে যথারীতি নিষেধাজ্ঞা থাকছে।

এছাড়া কুয়াশা ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় দিনের বেলায়ও শ্যালা নদীতে নৌযান চলাচল করতে পারবে না।

শ্যালা নদীতে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

মংলা-ঘষিয়াখালি চ্যানেলের খনন কাজ জুন মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। সুন্দরবন এলাকায় শ্যালা নদী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য কোস্টগার্ড দায়িত্ব পালন করবে। কোস্টগার্ডকে সহায়তা করবে বিআইডব্লিউটিএ, বন বিভাগ, মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর। বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৈঠক সূত্রে আরো জানা যায়, উল্লেখিত রুটে চলাচলকারী জাহাজের ফিটনেস সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের সহায়তায় কোস্টগার্ড চেক করতে পারবে। সাগরে চলাচল করতে সক্ষম জাহাজ সুন্দরবনের মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে পারবে না। ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ উপযোগী নৌযান সংগ্রহ করা হবে।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব শফিক আলম মেহেদী, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব নজিবুর রহমান, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রফিকুল ইসলাম, মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়াল এডমিরাল রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান ড. শামছুদ্দোহা খন্দকার, সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর এম জাকিউর রহমান ভূইয়া, প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুস আলী, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মহাপরিচালক কবির বিন আনোয়ার, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ রইছউল আলম মণ্ডল।

উল্লেখ্য, গত ৯ ডিসেম্বর সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে তেলবাহী জাহাজ দুর্ঘটনার পর থেকে এ রুটে সবধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়। ফলে এ নৌ-রুটের উভয় প্রান্তে পাঁচ শতাধিক জাহাজ আটকা পড়ে। এতে করে ব্যবসা বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব পড়ে। সিমেন্ট ও লবণ কারখানাসহ অন্যান্য শিল্পের কাঁচামাল, সার এবং অন্যান্য অত্যাবশকীয় পণ্যবাহী জাহাজ বন্ধ থাকার ফলে নৌযান শ্রমিক, জাহাজ মালিক এবং দক্ষিণ অঞ্চল/খুলনা বিভাগের ব্যবসায়ী মহল ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে।

এছাড়া মংলা বন্দরে জাহাজ গমনাগমনের সংখ্যাও হ্রাস পেয়েছে। উদ্ভুত পরিস্থিতি নিরসনকল্পে বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল অ্যাসোসিয়েশন, কাস্টাল শীপ-ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাসট্রিজ কর্পোরেশন, খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাসট্রিজসহ বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠন বিরাজিত সমস্যা দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানায়।

দ্রুত সমস্যা সমাধান না করা হলে নৌযান চলাচল বন্ধেরও হুমকির দেয়া হয়। কৃষি উৎপাদনের স্বার্থে সার পরিবহন ও বিভিন্ন শিল্প কারখানা চালু রাখার জন্য কাঁচামাল পরিবহন, নৌযান শ্রমিকদের জীবিকা নির্বাহ এবং মংলা বন্দরকে অচল অবস্থার হাত থেকে রক্ষার জন্য উল্লেখিত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সুন্দরবন রক্ষা এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিষয়ে সক্রিয় বিবেচনা ও সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করা হয়।


আরোও সংবাদ