‘শোকের দিনে বিএনপি নেত্রী কেক কাটেন কীভাবে?’

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৪ আগস্ট , ২০১৫ সময় ০৯:৫২ অপরাহ্ণ

১৫ আগস্ট জাতীয় শোকের দিনে বিএনপি নেত্রী কীভাবে কেক কাটেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার প্রতি এ প্রশ্ন রেখেছেন বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় লালিত সংগঠনের চট্টগ্রাম বৃহত্তর জোটের আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম চৌধুরী।

একইসঙ্গে জাতীয় শোক দিবসে জন্মদিন পালন থেকে বিরত না থাকলে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
‘শোকের দিনে বিএনপি নেত্রী কেক কাটেন কীভাবে
শুক্রবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্ত্বরে এক গণমানববন্ধনে এ ঘোষণা দেন দিদারুল ইসলাম। ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার মিথ্যা জন্মদিন পালন করার প্রতিবাদে এ গণমানববন্ধন আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে বঙ্গমাতা পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগর, চট্টগ্রাম আবাহনী সমর্থক গোষ্ঠী, ব্লাইন্ড ক্রিকেট ক্লাব, আমরা রাসেল চট্টগ্রাম মহানগর, শেখ জামাল সমর্থক গোষ্ঠী, ডিজেবল স্পোর্টস এসোসিয়েশন, বঙ্গবন্ধু শিল্পী গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেয়।

দিদারুল আলম বলেন, ‘জাতির জনকের মৃত্যুদিনে জন্মদিন পালন করা শোভা পায় না। কারণ বেগম জিয়াকে যখন জিয়াউর রহমান তালাক দিতে চেয়েছিলেন, তখন বঙ্গবন্ধুই জিয়াউর রহমানকে বাধা দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই বেগম জিয়ার সঙ্গে সংসার করতে রাজি হয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। যে নেতা খালেদা জিয়ার সংসার ঠিক করে দিয়েছে, সে নেতার মৃত্যুর দিন কীভাবে বিএনপি নেত্রী কেক কাটেন?’

তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট মিথ্যা জন্মদিন পালন না করার জন্য আমরা দীর্ঘদিন বেগম জিয়াকে আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু তিনি আমাদের কথা রাখেননি। যদি আগামীকাল (শনিবার) পুনরায় জন্মদিন পালন করেন তবে ১৭ আগস্ট বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে আমি মামলা করতে বাধ্য হবো। আদালতের মাধ্যমে এ জন্মদিন পালন বন্ধ করব। ’

মানববন্ধনে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ অভিন্ন দুইটি নাম। কারণ বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে এদেশ স্বাধীন হতো না। ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে বাঙালির অধিকার আদায়ে রাজপথে নেমেছিলেন বঙ্গবন্ধু। এরপর ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭০’র নির্বাচন ও ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ সব হয়েছে তার যোগ্য নেতৃত্বে। কিন্তু ১৯৭৫ সালে কিছু বিপদগামী সেনা সদস্য বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছিল। তারা চেয়েছিল বঙ্গবন্ধুকে এদেশের মানুষের হৃদয় থেকে মুছে দিতে। কিন্তু তারা তা পারেনি। ’

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার মৃত্যুদিনে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া মিথ্যা জন্মদিন পালন করে। খালেদা জিয়া সারা জীবনই মিথ্যাচার করেছে। সময় এসেছে মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার। যারা মিথ্যাচার করছে ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না। কারণ ইতিহাস আপন গতিতে চলে। কেউ ইতিহাসের পথ রুদ্ধ করতে পারবে না। ’

১৫ আগস্ট মিথ্যা জন্মদিন পালন না করার জন্য আহ্বান জানান মফিজুর রহমান।

মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা ড. মাহমুদ হাসান বলেন, ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়া মিথ্যা জন্মদিনটি পালন না করে যদি বঙ্গবন্ধুর এই মৃত্যু দিবসটি সার্বজনীনভাবে পালনে সাহায্যে করেন, তাহলে আমরা গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় একধাপ এগিয়ে যাব। আমরা সংঘাত চাই না। যদি তিনি মিথ্যা জন্মদিন পালন থেকে বিরত না থাকে তবে সমঝোতার কোন পথ থাকবে না। মুজিব সেনারা ঘরে বসে থাকবে না। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনাকে অমলিন ও সমুন্নত রাখার জন্য তারা ঝাঁপিয়ে পড়বেন। ’

লেখক ও সাংবাদিক শওকত বাঙালির সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কবি এজাজ ইউসুফী, রাউজান উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ, প্রকৌশলী মো. হারুন, রাজনীতিবিদ স্বপন সেন, উত্তর জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ফসিউদৌলাহ, দীপংকর চৌধুরী কাজল, ব্যবসায়ী নেতা শামসুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. জোবায়ের, ডা. মো. আয়াজ, ৭১’র ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির নেতা নাজমুল আলম খান, সাব্বির হোসাইন প্রমুখ।