শেষ হয়ে যাবে স্বৈরাচারি শেখ হাসিনার সরকার

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৬ জুন , ২০১৫ সময় ০৯:৪৬ অপরাহ্ণ

ইফতারের পার্টির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিকভাবে ‘কোনঠাসা’ হয়ে পড়া চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষণিকের জন্য ‘প্রাণ সঞ্চার’ হয়েছে। সেই ‘সঞ্চারিত’ শক্তির ওপর ভর করে সরকার পতনে জনগণ ও নেতাকর্মীদের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। বিএনপি শেষ হয়নি, বরং বিএনপি জনগণকে সাথে নিয়ে আরো শক্তিশালী শেষ হয়ে যাবে স্বৈরাচারি শেখ হাসিনার সরকারঅবস্থানে রয়েছে বলেও দাবি করা হয় সেই ইফাতার পার্টির অনুষ্ঠান থেকে।

গত ৫ জানুয়ারি পর থেকে সরকারের প্রথম বর্ষ পূর্তিকে কেন্দ্র করে টানা ৯২ দিন আন্দোলন চালিয়েও ‘ব্যর্থ’ হওয়ায় বিএনপিকে ‘হতাশাগ্রস্থ দল’ হিসেবে মন্তব্য করে আসছিলেন সরকার দলীয় এমপি-মন্ত্রীরা। শুক্রবার নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত পেশাজীবি ও রাজনীতিকদের সম্মানে নগর বিএনপির এক ইফাতার মাহফিল ও আলোচনায় সভায় উপস্থিত হাজার নেতাকর্মীকে সামনে পেয়ে উল্টো সরকারই এখন হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপি নেতারা।

এতদিন মামলা-হামলার কারণে বিএনপির প্রথম ও দ্বিতীয় সারির অনেক নেতাকর্মীকে প্রকাশ্যে দেখা না গেলেও ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে তাদের বেশিরভাগ নেতাকর্মীরই এদিন দেখা মিলেছে। এমনকি অনেক নেতাকর্মীকে মামলার হুলিয়া নিয়েও ইফতার মাহফিলে অংশ নিতে দেখা গেছে।

ইফতার পার্টিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘৫ জানুয়ারী একতরফা ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পর অনেকে বলেছেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। কিন্তু আমি স্পষ্টভাবে বলতে চায়, বিএনপির নেতাকর্মীরা হতাশাগ্রস্থ হয়নি। প্রকৃতপক্ষে ৫ জানুয়ারী একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে আছে, আর যারা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন জোর করে দখল করে নিয়েছে। তারাই হতাশাগ্রস্থ হয়েছে।’

আমীর খসরু আরো বলেন, ‘বিএনপির শক্তি জনগণ ও তৃণমুল নেতাকর্মীরা, তাই বিএনপিকে নিঃশেষ করা যাবে না। আওয়ামীলীগ বিরোধীদলের উপর সীমাহীন নিপিড়ন নির্যাতন করছে, তারা আইনের শাসনকে ধংস করেছে, মানবাধিকার লংঘন করেছে। তাদের সাথে জনগণের সম্পর্ক নেই। আর বিএনপির রাজনিতি জনগণের জন্য। প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যেও আজকের ইফতার মাহফিলে হাজার হাজার নেতাকর্মীর স্বতঃস্ফুর্ত অংশ গ্রহণ প্রমান করে বিএনপি নিঃশেষ হয়ে যায়নি এবং কখনো নিঃশেষ হবে না।’

প্রধান বক্তার বক্তব্যে সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, ‘যারা মনে করেছিলো বিএনপি আর উঠতে পারবে না তাদের মুখে চুনকালি পড়েছে, আজকের ইফতার মাহফিলে নেতাকর্মীদের এই অংশ গ্রহণ প্রমান করে বিএনপিকে নিশ্চিন্ন করা যাবে না। বিএনপি জনগণ আর তৃণমুল নেতাকর্মীদের দল তাই তাকে নিঃশেষ করা যাবে না।’

নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘বিএনপি নিঃশেষ হবে না। জনগণের আন্দোলনের মুখে শেষ হয়ে যাবে স্বৈরাচারি শেখ হাসিনার সরকার। আজকের ইফতার পার্টিতে হাজার হাজার নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতিতেই প্রমাণ করে বিএনপি এখনো জনগণের সাথে আছে। ভবিষ্যতেও থাকবে।’

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খোন্দকার, সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম, সাবেক সাংসদ বেগম রোজী কবির। ইফতার মাহফিলে অতিথি হিসেবে যোগদেন ভারতের সহকারী হাইকমিশনের ফাষ্ট সেক্রেটারী রাকেশ রামান।

মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে অতিথি আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-কোষাধক্ষ্য এস এম ফজলুল হক, জামায়াত ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা আফছার উদ্দিন চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক সাংসদ সরওয়ার জামান নিজাম, বিএনপি নেতা মাহবুবুর রহমান শামীম, উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব কাজী হাসান, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এনামুল হক, সহ-সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়া, বিশিষ্ট আইনজীবী এ্যাডভোকেট কবির চৌধুরী, বিজেপি আহবায়ক নুর মোহাম্মদ খান, ইসলামী ঐক্যজোট নেতা মাওলানা মাঈনুদ্দিন রুহি, জাগপা সভাপতি আবু মোজাফ্ফর মোহাম্মদ আনাস, কল্যাণ পার্টির সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াছ, ন্যাপ সভাপতি ওসমান গনি শিকদার, এনপিপি সভাপতি আনোয়ার সাদেক,পেশাজীবী নেতা ডাঃ খুরশিদ জামিল, প্রফেসর আ ন ম মুনির আহম্মদ, প্রফেসর আবুল কালাম আজাদ, এ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন, প্রফেসর নসরুল কাদির, বিশিষ্ট সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি, জামায়াত ইসলামী সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন, জাতীয় পার্টি নেতা এস এম জাহিদ, জামায়াত ইসলামী নেতা মোহাম্মদ উল্লাহ, এলডিপি নেতা আজগরসহ ২০দলীয় জোট নেতৃবৃন্দ।