শেষ বলে জয়ী লঙ্কানরা

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি , ২০১৪ সময় ০৮:২৬ অপরাহ্ণ

শেষ ওভারে শ্রীলঙ্কার জয়ের জন্য প্রয়োজন মাত্র ৯ রান। হাতে অবশিষ্ট ৩ উইকেট। এমন অবস্থায় বোলার ফরহাদ রেজার করা ওভারের শেষ বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে জয় তুলে নিলেন স্পিনার সাচিত্র সেনানায়েকে। আর বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দুভৃাগ্য আরও একটু প্রলম্বিত হল। শ্রীলঙ্কা দুটি ম্যাচেই নূন্যতম ব্যবধানে জিতে ২-০ তে সিরিজ জিতে নিল।

প্রবল প্রতিরোধ গড়েছিলেন কুমার সাঙ্গাকারা। কিন্তু পেসার রুবেল হোসেন তাকে ১৭তম ওভারে ফিরিয়ে দিয়ে আবারও খেলায় উত্তেজনার সঞ্চার করেছেন। সাঙ্গাকারা ৩৭ রান করে রুবেলের বলে তামিমের হাতে ধরা পড়েন। এ সময় শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ছিল ৭ উইকেটে ৯৬ রান। জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার তখন প্রয়োজন ২০ বলে ২৫ রান। হাতে অবশিষ্ট তিন উইকেট।

এর আগে টাইগারদের বিপক্ষে ১২১ রানের সহজ জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে স্বাগতিকদের নিপূণ বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে দলীয় ৫০ রানে ছয় উইকেট হারালেও সাঙ্গাকারা ও থিসারা পেরেরার প্রতিরোধে এগিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা।
কুশাল পেরেরা,দিলশান,চান্দিমাল,অ্যাঞ্জেলো পেরেরা ও কুলাসেকারা সাজঘরে ফেরেন। সাকিব, আরাফাত সানি, মাহমুদউল্লাহ একটি করে এবং মাশরাফি দুটি উইকেট পেয়েছেন।

এর আগে প্রথম ম্যাচের অসাধারণ নৈপূণ্যের ছিঁটে-ফোটাও দেখা যায়নি বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে। শুক্রবার ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার বিরতিহীন মিছিল শেষে ইনিংসের এক বল বাকী থাকতেই সবগুলো উইকেট হারিয়ে মাত্র ১২০ রান করতে সক্ষম হয় টাইগার বাহিনী।

প্রথম ম্যাচে ব্যাটে বলে অসাধারণ নৈপূণ্য দেখিয়ে ম্যাচ না জিতলেও সমর্থকদের হৃদয় জিতে নেন টাইগাররা।কিন্তু এদিন টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে লড়াইয়ের বিন্দুমাত্র আভাস দিতে পারেনি স্বাগতিকরা।আগের ম্যাচে লঙ্কানদের বড় লক্ষ্য তাড়া করা ভিত গড়ে দেন ওপেনাররা।কিন্তু শুক্রবার ম্যাচের প্রথম দুই ওভারেই পর পর বিদায় নেন শামসুর রহমান ও তামিম ইকবাল। দলীয় সংগ্রহ ছিল ৩ রানে ২ উইকেট।

এরপর সাকিব আল হাসান ও আনামুল হক জুটি বেঁধে কিছুটা আশা জাগিয়েছিলেন। বিশেষ করে খেলার তৃতীয় ও দিলশানের করা দ্বিতীয় ওভারে দুটি করে চার ও ছক্কা হাঁকিয়ে ২০ রান তুলে সমর্থকদের মাতিয়ে তোলেন আনামুল। কিন্তু পরের ওভারেই সাকিব অসাধারণ ক্যাচের শিকার হন নুয়ান কুলাসেকেরার। ৬ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ১২ রান করেন সাকিব। আনামুলও পরের ওভারে তাকে অনুসরন করেন। মাত্র ১৭ বলে দুটি করে চার ও ছক্কায় ২৪ রান করেন তিনি। এরপর নাসির, মাহমুদুল্লাহ ফরহাদ একে একে ব্যর্থ হলে মারাত্মক বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। মাশরাফি ১৭ এবং অভিষিক্ত সাব্বির শেষ পর্যন্ত ৩৬ বলের মোকাবেলায় ২৬ রান করলে বাংলাদেশ শতরানের কোঠা অতিক্রম করে। শেষ পর্যন্ত ইনিংসের ১ বল বাকী থাকতে ১২০ রানে অলআউট হয় তারা।

শ্রীলঙ্কার পক্ষে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্যতম সেরা বোলার লাসিথ মালিঙ্গা ২০ রানে ৩ উইকেট নেন। কুলাসেকেরা ও সেনানায়েকে দুটি করে উইকেট নেন।

এর আগে সফরকারী শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে শুক্রবার টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ওভারের শেষ দুই বলে দুই ওপেনার শামসুর ও তামিম ইকবাল ক্যাচ আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন।

এর আগে চট্টগ্রাম জহুর আহম্মেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও টসে জেতেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে দেশের ৪২তম টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার হিসাবে অভিষেক হয়েছে সাব্বির রহমানের। এছাড়া দলে ঢুকেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ১৯.৫ ওভারে ১২০ (সাব্বির ২৬, আনামুল ২৪, মাশরাফি ১৭, সাকিব ১২, মালিঙ্গা ৩/২০, সেনানায়েকে ২/১১, কুলাসেকেরা ২/৩২, মেন্ডিস ১/২১,)

বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি একাদশ: তামিম ইকবাল,আনামুল হক,শামসুর রহমান,সাকিব আল হাসান, নাসির হোসেন, মো:মিথুন, ফরহাদ রেজা, সোহাগ গাজী,আরাফাত সানী, মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক) রুবেল হোসেন।

শ্রীলঙ্কা টি-টোয়েন্টি একাদশ: তিলকারত্নে দিলশান, কুশল পেরেরা, কুমার সাঙ্গাকারা, দিনেশ চান্দিমাল(অধিনায়ক),অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ, থিসারা পেরেরা, নুয়ান কুলাসেকেরা,সাচিত্র সেনানায়েক, সেকুজি প্রসন্ন, অজন্থা মেন্ডিস, লাসিথ মালিঙ্গা।


আরোও সংবাদ