শেষ চৈত্রে দুঃখ-গ্লানি মুছে নতুন সূর্যের প্রত্যাশা

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল , ২০১৭ সময় ০৮:২৫ অপরাহ্ণ

চৈত্রের শেষদিনের সূর্যের সঙ্গে দুঃখ, জরা, গ্লানি মুছে যাওয়া আর আশা-আখাঙ্খা নিয়ে নতুন সূর্যের প্রত্যাশায় নগরীর শিরীষতলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ষবিদায় অনুষ্ঠান।

বৃহস্পতিবার বিকেল নববর্ষ উদযাপন পরিষদ আয়োজিত বর্ষবিদায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন দৈনিক আজাদী পত্রিকার সম্পাদক এমএ মালেক। এসময় দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক ঈশা-ই-খলিল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে এম এ মালেক বলেন, চৈত্রের শেষদিনের সূর্য আমাদের জীবনের সব দুঃখ-কষ্ট, গ্লানি নিয়ে অস্ত যাক। মানুষের নতুন আশা-ভরসা নিয়ে উদিত হোক আগামীকালের সূর্য।

সিআরবি শিরীষতলায় বর্ষবিদায় অনুষ্ঠান

সিআরবি শিরীষতালয় বর্ষবিদায় ও বরণ অনুষ্ঠান শুরুর পর থেকে সেখানে উন্নয়ন করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত বছর আমরা নতুন মঞ্চ পেয়েছিলাম। এবার নতুন ওয়াকওয়ে ও দৃষ্টিনন্দন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। কোলাহলমুক্ত পরিবেশে গাছের ছাড়া দুইদিনের অনুষ্ঠান উপভোগ করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

মফিজুর রহমান বলেন, আমরা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। সাংস্কৃতি জাগরণ সবসময় মৌলবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। সভ্যতা, মানবিকতা ও সংস্কৃতির পক্ষে কথা কথা বলেছে।

ঈশা-ই-খলিল বলেন, চট্টগ্রাম হলো বাংলাদেশের ভূ-সর্গ। আর চট্টগ্রামের ফুসফুস হলো সিআরবি। এমন নৈসর্গিক পরিবেশ আর কোথাও পাওয়া যাবে না। এই প্রাকৃতিক পরিবেশকে সবাই মিলে রক্ষা করতে হবে।

ঢোল বাদন ও বেলুন ওড়ানোর মধ্য দিয়ে সিআরবি শিরীষতলায় বর্ষবিদায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধনের পর দলীয় সংগীত, কবিতা ও নৃত্য পরিবেশন করেন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন।

বায়েজীদ কাজী নজরুল সংগীত একাডেমি, সাইডার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, কুসুম ললিতকলা একাডেমি, বর্ণ আবৃত্তি পাঠশালা, বঙ্গবন্ধু কিশোর মেলা, পায়েল নৃত্যাঙ্গন, ড্যাব ডান্স একাডেমি, নটরাজ সংগীত একাডেমি, জলছবি খেলাঘর আসর, অঙ্গনা নৃত্য একাডেমি, বিভাস আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র, নৃত্যম একাডেমি, নৃত্যরূপ একাডেমির শিল্পীরা অংশ সাংস্কৃতিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

সিআরবি শিরীষতলায় বর্ষবিদায় অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশনা

শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৭টায় নববর্ষ বরণ অনুষ্ঠান শুরু হবে দলীয় পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। এতে ‘ভায়োলিনিস্ট চিটাগাং, সংগীত ভবন, উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদ, বোধন আবৃত্তি স্কুল, অবকাশ ধারা শিল্পী সংস্থা, সুন্দরম শিল্পীগোষ্ঠী, খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগর, প্রমা আবৃত্তি সংগঠন, চারুতা নৃত্যকলা একাডেমি, উচ্চারক আবৃত্তি কুঞ্জ, শ্যামা নৃত্যাঙ্গন, নৃত্যনন্দন, চট্টল কুঁড়ি, নির্মাণ আবৃত্তি অঙ্গন, শাশ্বত ললিতকলা একাডেমি, গোধুলী সংগীত একাডেমি, নিক্কন একাডেমি, নৃত্য নিকেতন, সাধনা সঙ্গীত একাডেমি, আওয়ামী শিল্পীগোষ্ঠী, তারুণ্যের উচ্ছ্বাস, শব্দনোঙর, ছন্দানন্দ সাংস্কৃতিক পরিষদ, সুর সাধনা সঙ্গীতালয়, স্লোগান সাংস্কৃতিক স্কোয়াড, সপ্তস্বর সঙ্গীত বিদ্যালয়, সৃজামি’ সংগঠনের শিল্পীরা অশগ্রহণ করবেন।

দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে শুরু হবে দলীয় নৃত্য পরিবেশনা। এতে ‘ঘুঙুর নৃত্যকলা একাডেমি, সঞ্চারী নৃত্যকলা’র শিল্পীরা নৃত্য পরিবেশন করবেন। এরপর শুরু হবে বাউল সংগীত। এতে বাউল গান পরিবেশন করবেন রাজ্জাক সাঁই বাউল ও তাঁর দল। পরবর্তীতে মোহাম্মদ হোসেন, শংকর দে, পাপড়ি ভট্টাচার্য্য, পলি শারমিন, শিমুল শীল, সনজিত আচার্য্য, শর্মিষ্ঠা চৌধুরী একক সংগীত পরিবেশন করবেন।  দুপুর ২টায় সাহাবউদ্দিনের বলীখেলা শুরু হবে। সবশেষে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটবে।