শেষের পথে হিমু হত্যা মামলা, বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক

প্রকাশ:| বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর , ২০১৫ সময় ০৭:৪৮ অপরাহ্ণ

ছয় মাস পর আবারও চাঞ্চল্যকর হিমাদ্রি মজুমদার হিমু হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম চট্টগ্রামের একটি আদালতে শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নূরুল ইসলামের আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হচ্ছে।

ছয় মাস আগে ১৮ মার্চ চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় নির্ধারিত হয়েছিল। কিন্তু এরপরই দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মামলা নিষ্পত্তির নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে ‍যাওয়ায় সেটি ফেরত যায় আগের বিচারিক আদালতে।

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলী ও অতিরিক্ত মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট অনুপম চক্রবর্তী বলেন, মামলা চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে এলেও সেটি ছিল বিচারকশূন্য। এর ফলে ছয় মামলাটির কার্যক্রম আর এগোয়নি।

‘২৭ আগস্ট বিচারক নূরুল ইসলাম চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে যোগ দিয়েছেন। এরপর হিমু হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় নির্ধারণ করেছেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে বিচারকে রায়ের তারিখ নির্ধারণ করবেন। ’ বলেন অনুপম।

চলতি বছরের ১৫ মার্চ সর্বশেষ এ মামলার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিন আদালতে আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষী হাজিরের সময় নির্ধারিত ছিল। আসামিপক্ষ সাতজন সাফাই সাক্ষীর নামও আদালতে জমা দিয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত দিনে আসামিপক্ষ সাফাই সাক্ষী হাজির না করে ১৫ দিনের সময়ের আবেদন জানান। আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় নির্ধারণ করেছিলেন।

এর আগে ৯ মার্চ হিমু হত্যা মামলার রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত হয়। মামলার অভিযোগপত্রে উল্লিখিত ২১ জন সাক্ষীর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ২০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে। এরপর ১২ মার্চ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

২০১২ সালের ২৭ এপ্রিল নগরীর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার ১ নম্বর সড়কের ফরহাদ ম্যানশন নামের ১০১ নম্বর বাড়ির চারতলায় হিমুকে হিংস্র কুকুর লেলিয়ে দিয়ে নিমর্মভাবে নির্যাতন করে সেখান থেকে ফেলে দেন অভিজাত পরিবারের কয়েকজন বখাটে যুবক।

গুরুতর আহত হিমু ২৬ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ২৩ মে ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান। হিমু পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার ১ নম্বর সড়কের ইংরেজি মাধ্যমের সামারফিল্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের ‘এ’ লেভেলের শিক্ষার্থী ছিলেন। এছাড়া মাদকবিরোধী সংগঠন শিকড়’র সঙ্গে জড়িত ছিলেন হিমু।

এ ঘটনায় হিমুর মামা প্রকাশ দাশ অসিত বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় পাঁচজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্ত পাঁচ আসামি হলেন, জাহিদুর রহমান শাওন, জুনায়েদ আহমেদ রিয়াদ ও তার বাবা শাহ সেলিম টিপু, শাহাদাত হোসেন সাজু এবং মাহবুব আলী ড্যানি।

২০১২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পাঁচলাইশ থানা পুলিশ ওই মামলায় এজাহারভুক্ত পাঁচজন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

অতিরিক্ত মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট অনুপম চক্রবর্তী জানান, মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে শাহ সেলিম টিপু এবং শাহাদাৎ হোসেন সাজু ছাড়া বাকি তিন আসামি জামিনে গিয়ে বর্তমানে পলাতক আছেন। টিপু এবং সাজু জামিনে থাকলেও মামলার ধার্য তারিখে তারা হাজিরা দিচ্ছেন।