শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনেই আগামী জাতীয় নির্বাচন

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| শুক্রবার, ৫ জানুয়ারি , ২০১৮ সময় ১০:৪২ অপরাহ্ণ

সংবিধান অনুযায়ী শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনেই আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরে বিএনপির প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র রক্ষা দিবস’ উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীর বনানী মাঠে দলের এক সভায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “বিএনপি নেত্রী বেগম জিয়া বলেছেন, বিএনপিকে ছাড়া নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। অপেক্ষা করেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে, নির্বাচনে আসুন।

“ঠেকানোর সাধ্য থাকলে দেখান। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জনগণ আপনাদের প্রতিহত করবে।”

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে না হওয়ায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। ওই ভোটে জয়ী হয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।

এরপর থেকে ৫ জানুয়ারিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে কর্মসূচি পালন করে আসছে বিএনপি। অপরদিকে আওয়ামী লীগ ও তার সমমনারা একে বলছে ‘গণতন্ত্র রক্ষা দিবস’।

চলতি বছর শেষের দিকে অনুষ্ঠেয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

গত মঙ্গলবার এক সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, “আমরা নির্বাচনী দল, আমরা নির্বাচন করব। বাইরে রাখতে চাইলেই রাখা যাবে না। নির্বাচন করব আমরা। আপনারা (সরকার) যদি মনে করেন, আমাদের লোকজন ধরে নিয়ে যাবেন। তারপর নির্বাচন ঘোষণা করবেন, সেটা আর হবে না। ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন আর হবে না।”

তবে তার এই হুঁশিয়ারিকে পাত্তা না দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতা ওবায়দুল কাদের বলছেন, এবারও বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলে তাদের আরেকবার ‘রাজনৈতিক আত্মহত্যা দিবস’ পালন করতে হবে।

নিজেদের এই আত্মবিশ্বাসের কারণ হিসেবে বিএনপির কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারার কথা উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

বিকালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আরেক দলীয় সভায় তিনি বলেন, “বিএনপির কর্মীদের ক্ষোভ- কর্মসূচি দিয়ে নেতারা মাঠে নামে না, আবার নেতাদের ক্ষোভ- কর্মীরা মাঠে নামে না।

“নয় বছরে আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়ে ঘরে বসে বিএনপি নেতাকর্মীরা হিন্দি ছবি, সিরিয়াল দেখে, ঘরে বসে খবর নেয় পুলিশের অবস্থান নরম না গরম। মরা গাঙে জোয়ার আসে না। দেখতে দেখতে নয় বছর, আন্দোলন হবে কোন বছর?”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, “বহুরূপী ব্যারিস্টার সাহেব, আপনাদের সকলে চেনে। দেশে একটু ঝড়-ঝঞ্চা দেখলে বিদেশে গিয়ে পালিয়ে থাকেন। ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে বাড়ি দখল করতে গিয়ে আদালতে ধরা খেয়ে রাস্তায় কান্না করেছেন। এই লোক যদি দেশের আইনমন্ত্রী হয়, দেশের বারোটা বেজে যাবে।”

আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলে তাদের অবস্থা ‘বিরল প্রজাতির প্রাণির মতো’ হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করে কাদের বলেন, “দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে তারা রাজনৈতিকভাবে আত্মহত্যা করেছে। আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলে তাদের অবস্থা বিরল প্রজাতির প্রাণির মতো হয়ে যাবে। নির্বাচনে বিএনপিকে আসতেই হবে, না আসলে বিএনপি মুসলিম লীগের মতো সংকুচিত হয়ে যাবে।”

তিনি বলেন, “সময়, স্রোত কারও জন্য অপেক্ষা করে না। নির্বাচন বিএনপি বা কারও জন্য বসে থাকবে না। সংবিধান অনুযায়ী যথা সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”

ওই নির্বাচনে জনগণের সমর্থন চেয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, “মুক্তিযুদ্ধকে বাঁচাতে হলে, স্বাধীনতার চেতনাকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে, আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে হবে। দেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে শেখ হাসিনাকে আরেকবার ক্ষমতায় আনতে হবে।”

বনানীতে মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রহমতুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাহারা খাতুন, ফারুক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হাবিবুর রহমান সিরাজ, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান।

আর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক, সাংগঠনকি সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, এনামুল হক শামীম, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর রশিদ।