”শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার বাসা ঘেরাও” ব্যবসায়ী নেতাদের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ

প্রকাশ:| শনিবার, ৭ ডিসেম্বর , ২০১৩ সময় ০৬:৩৭ অপরাহ্ণ

শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার বাসা ঘেরাও করবেনদেশে চলমান অস্থিরতায় সৃষ্ট সহিংসতা দ্রুত বন্ধ করা না হলে ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা সব শ্রমিক নিয়ে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার বাসা ঘেরাও করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তারা বলে, ‘সমঝোতায় না এলে কাউকেই ছাড়ব না।’

শনিবার সকালে বিজিএমইএ ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে দেশের সব ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

কাওরানবাজারে পুলিশের সহায়তায় বিজিএমইএ ভবনের সামনের রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

দেশব্যাপী চলমান সহিংস পরিস্থিতির অবসান এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনার স্বাভাবিক পরিবেশের দাবিতে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমইএ।

মানববন্ধনে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, ‘রাজনৈতিক সহিংসতায় ব্যবসা বাণিজ্যের পুরো দায়ভার নিতে হবে সরকার ও প্রধান বিরোধী দলকে। তারা সমঝোতায় পৌঁছে রাজনৈতিক সহিংসতা অতি দ্রুত বন্ধ করতে না পারলে কউকেই ছাড় দেয়া হবে না।’

বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অপারগ হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়েছি। এটা আমাদের কাজ নয়। দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করা আমাদের কাজ। আমাদের বাধ্য করবেন না এর চেয়ে বেশি কিছু করতে। আপনারা সমঝোতায় আসুন। আমাদের ব্যবসার পরিবেশ দিন। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা করতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিল্পের ইতিহাসে আমরা এ ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি কখনো হইনি। তিলেতিলে গড়ে তোলা মেইড ইন বাংলাদেশের ক্রেতারা আস্থা হারাতে বসেছে। আমরা পোশাক শিল্পকে বাঁচাতে বদ্ধ পরিকর। কারণ এর সঙ্গে দেশের ৬ থেকে ৭ কোটি লোকের জীবন ও জীবিকা জড়িত।’

বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘আপনারা এ অসুস্থ রাজনীতি বন্ধ করুন। না হলে আমরা ব্যবসায়ীরা সাত কোটি মানুষ নিয়ে রাস্তায় নামব।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বলেন, ‘পোশাক শিল্প আমাদের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। এ শিল্পকে বাঁচানোর জন্য আমাদের গণঐক্য ও সচেতনতা তৈরি করতে হবে।’

বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দীন বলেন, ‘আমরা সরকারের রাজস্ব আয়ের ৭৪ শতাংশ সরকারকে দিয়ে থাকি। আমাদের অধিকার আছে নিরাপত্তা চাওয়ার। আমাদেরকে অবশ্যই নিরাপত্তা দিতে হবে সরকারকে। তাই আপনার সহিংসতা বন্ধ করে সমঝোতা করুন। আমাদের ব্যবসা করতে দিন।’

বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমইএর দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন দেশের সব শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা। এর মধ্যে রয়েছে, এফবিসিসিআই, ডিসিসিআই, আইসিসি, বিএএফএফএ, বিজিসিসিআই, বিজিবিএ, ন্যাশনাল এক্সেসরিজ ও কলম্বিয়া মাল্টিটেক, বিজিইএ, ডিসিএএ, এজিএনআইএস, বারভিডা, বিটিটিএলএমইএ, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি এবং সব শ্রমিক সংগঠন।

মানববন্ধনে দক্ষিণ অফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন মেন্ডেলার আত্মার মাগফেরাত কামনায় ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এদিকে ১৫ ডিসেম্বর সকালে সারাদেশে ব্যবসায়ীরা সাদা পতাকা মিছিল করার ঘোষণা দেন এফবিসিসিআই প্রতিনিধি হেলাল উদ্দিন।


আরোও সংবাদ