শেখ হাসিনাই এই দেশের প্রধানমন্ত্রী থাকবেন

প্রকাশ:| রবিবার, ১৩ অক্টোবর , ২০১৩ সময় ০৩:১৩ অপরাহ্ণ

সুরঞ্জিত সেন গুপ্তআগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন না হলে শেখ হাসিনাই এই দেশের প্রধানমন্ত্রী থাকবেন এবং তার মন্ত্রিসভা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

রোববার দুপুরে রাজধানীর পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত ‘বর্তমান রাজনীতি-চলমান প্রেক্ষাপট বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সুরঞ্জিত এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আপনি (বেগম জিয়া) নির্বাচন বানচাল করতে চান, তাহলে সরকারে কে আসবে? কোথা থেকে আসবে? আপনাকে বার বার বলছি, আপনি কেন বুঝতে পারছেন না। নির্বাচন যদি না হয় তাহলে বর্তমান রাষ্ট্রপতিই রাষ্ট্রপতির পদে থাকবেন, শেখ হাসিনাই এই দেশের প্রধানমন্ত্রী থাকবেন এবং তার মন্ত্রিসভাই বহাল থাকবে। এটি ১৯৭২ সালের সংবিধানের বিধান, পঞ্চদশ সংশোধনীর নয়। আপনাকে কেন আপনার আইন বিশেজ্ঞরা এই ব্যখ্যা দিচ্ছেন না?”

সংসদ চালু রেখে সরকার ষড়যন্ত্র করছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সুরঞ্জিত বলেন, “রাষ্ট্রপতি চাইলে সংসদের মেয়াদ আরো এক বছর বাড়াতে পারেন। কিন্তু আমরা সে পথে হাঁটছি না।”

বিরোধী দলকে নৈরাজ্যে ষড়যন্ত্র বাদ দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে সুরঞ্জিত বলেন, “আমরা আপনাদের একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিচ্ছি। নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। সে সময় সরকার নির্বাচন কমিশনকে সব সহায়তা দেবে। এই সরকারের বিগত সময়ে যেভাবে নির্বাচন হয়েছে জাতীয় নির্বাচনও সেভাবেই হবে। কেবল জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে, এর কোনো বিকল্প নেই।” এ সময় মন্ত্রী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দূর্গাপূজা এবং মুসলমানদের ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানান।

সুরঞ্জিত বলেন, “এই সময়ে এসে বিরোধী দল দেশবাসীর মধ্যে ভীতি ছড়াছে। ২৪ তারিখে দেশে কী ঘটবে? কেন ঘটবে? তার কোনো ব্যাখ্যা তাদের কাছে নেই। ২৪ তারিখে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তাদের সমাবেশের ঘোষণা দিয়ে রেখেছে। সেদিন সমাবেশ হবে। সেখানে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন বক্তৃতা দেবেন। কিন্তু সেদিন যদি নৈরাজ্য করতে চায় তাহলে সেই সুযোগ সরকার আপনাদের দেবে না। বিশ্বের কোনো দেশের সরকারই দেবে না।”

প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, “আপনারা জামায়াত-হেফাজতকে মাঠে নামিয়ে আরেকটি সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নেবেন, চলন্ত বাসের ড্রাইভারকে পুড়িয়ে মারবেন, গাড়ি ভাঙচুর করবেন, পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআন শরিফ পোড়াবেন-এ সুযোগ কোনো সরকারই আপনাদের দেবে না।”

তিনি বলেন, “যেহেতু ২৪ জানুয়ারি আমাদের সংসদ বসেছিল তাই ২৪ জানুয়ারি ২০১৪ পর্যন্ত এর মেয়াদ আছে। এর আগে ২০, ২২, ২৩ তারিখে যদি সমঝোতা হয় তবুও সংসদ বিলুপ্ত করে নির্বাচন করা সম্ভব।”

মোবারক আলীর শিকদারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, কৃষকলীগের সহ-সভাপতি শেখ মো. জাহাঙ্গীর আলম, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই কানু প্রমুখ।


আরোও সংবাদ