শেখ রাসেল অ্যাভিয়ারি অ্যান্ড রিক্রিয়েশন পার্কের উদ্বোধন

প্রকাশ:| শনিবার, ১৬ নভেম্বর , ২০১৩ সময় ১১:৪১ অপরাহ্ণ

দেশের প্রথম পক্ষীশালা ও দু’কিলোমিটার দীর্ঘ ক্যাবল কার সমৃদ্ধ বিনোদন কেন্দ্র চালু হলো চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায়। শনিবার বিকেলে উপজেলার কোদালা বন বিটের সবুজ বনাঞ্চল এলাকায় শেখ রাসেল অ্যাভিয়ারি অ্যান্ড রিক্রিয়েশন পার্কের (পক্ষীশালা ও বিনোদন কেন্দ্র) উদ্বোধন করেন বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি।হাস ১

পরিবেশ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা ও হোসনাবাদ ইউনিয়নের সবুজ পাহাড়বেষ্টিত এলাকা ঘিরে দেশের দীর্ঘতম ক্যাবল কার স্থাপন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ছোট ছেলে শেখ রাসেলের নামে করা এ পার্কটির নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা। কোদালা বন বিটের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের প্রায় সাড়ে ৫শ’ একর বনভূমিতে শেখ রাসেল অ্যাভিয়ারি অ্যান্ড রিক্রিয়েশন পার্কটি নির্মাণ করেছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগ। সারা বিশ্বে মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ায় শুধু এধরনের পার্ক রয়েছে।

শনিবার বিকেল ৩টায় বহুল প্রত্যাশিত পার্কটির উদ্বোধন করে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘পাখিদের অভয়ারণ্য তৈরি, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণ, মানুষের বিনোদনের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যকে কাজে লাগিয়ে এখানে দেশের একমাত্র অ্যাভিয়ারি পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়। বাংলাদেশে এ-ই প্রথম দুই কিলোমিটার দীর্ঘ ক্যাবলকার স্থাপন করা হয়েছে এই পার্কে। দীর্ঘ ক্যাবলকার ও পাখিদের ব্যতিক্রমী অভয়ারণ্য দেখার জন্য দেশের বাইরে থেকেও পর্যটকরা এই পার্কে আসবেন। এতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয়েরও সুযোগ রয়েছে। এছাড়া রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার সাথে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিনোদনের একটি মেলবন্ধন রচিত হবে।’টিয়া মেকাও
পরিবেশ ও বনমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী এনায়েতুর রহিম জানান, বাংলাদেশে প্রথম ও এশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় রাঙ্গুনিয়ার এই অ্যাভিয়ারি পার্ক। পরিবেশ ও বনমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে পার্কটি নির্মিত হয়েছে। দেশে প্রমবারের মতো পার্কের ভিতরে ২ কিলোমিটার দীর্ঘ ক্যাবলকার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া পার্ক এলাকায় কৃত্রিম লেকসহ পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল নির্মাণের আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শেষ করেছে বন বিভাগ। এই অ্যাভিয়ারি পার্কটিই হচ্ছে দেশের বৃহত্তম, সর্বাধুনিক, ব্যতিক্রমী ও আন্তর্জাতিকমানের বিনোদন কেন্দ্র। পার্কটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রথম এক মাস পার্কে প্রবেশ, ক্যাবলকারে ভ্রমণ এবং অন্যান্য বিনোদন গ্রহণের জন্য কোনো ধরনের টাকা দিতে হবে না। বিনামূল্যে পর্যটকরা এই পার্কে পুরো এক মাস বিনোদন সুবিধা ভোগ করবেন।

পার্কের প্রকল্প পরিচালক ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগীয় কর্মকর্তা বিপুল কৃষ্ণ জানান, দেশে প্রথম প্রতিষ্ঠিত এই পার্কে শুধু পাখি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য একটি অভয়ারণ্যভিত্তিক বৃক্ষ আচ্ছাদিত সবুজ পাহাড়ি বনে হাজার হাজার বুনো পাখি উড়ে বেড়াবে। তাদের কলতানে মুখরিত হবে সবুজ বন। আর বুনো পথে ঘুরে বেড়াবে বিনোদনপ্রেমি মানুষ। আকাশ পথে ক্যাবলকারে চড়ে দেখতে পারবে নিচের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য। কোদালা বনবিটের ২১০ হেক্টর বনভুমিতে পার্ক এলাকার ব্যাপ্তি। পার্কের অভ্যন্তরে অন্যান্য বৃক্ষের পাশাপাশি বট, অশ্বত্থ, পাকুর, আমলকি, ডুমুর, ইত্যাদি পাখিখাদ্য ও বিভিন্ন ফল ফলাদির বৃক্ষচারা বনায়নে বাগান সৃজন ও পাখিকুলের প্রাকৃতিক খাদ্যের ব্যবস্থার মাধ্যমে পাখিদের অভয়ারণ্যের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে।ময়না১

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- প্রধান বন সংরক্ষক ইউসুছ আলী, চট্টগ্রামের বন সংরক্ষক আকবর হোসেন, প্রকল্প বিপুল কৃষ্ণ, রাঙ্গুনীয়া পৌরসভার মেয়র খলিলুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।


আরোও সংবাদ