শুরু হচ্ছে তিনদিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক সুফি কনফারেন্স

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল , ২০১৪ সময় ০৭:৪৭ অপরাহ্ণ

সুফিবাদ, অলিবাদ, নৃতাত্ত্বিক ও আন্ত: ধর্মীয় বিশ্বাসের সংঘাত নিরসনের লক্ষে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে শুরু হচ্ছে তিনদিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক সুফি কনফারেন্স।

দেশ বিদেশের বিশেষজ্ঞ-পণ্ডিতদের নিয়ে মাইজভাণ্ডারি একাডেমী চতুর্থবারের মতো এ কনফারেন্স‘র আয়োজন করছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের শাহ আলম বীর উত্তম মিলনায়তনে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন মাইজভাণ্ডারি একাডেমীর প্রধান উপদেষ্টা ও সম্মেলনের চেয়ারম্যান শাহসূফি সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারি।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম মনজুর আলম। একই স্থানে শনিবার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান ‍অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলা একাডেমীর সাবেক মহাপরিচালক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।

এবারের সুফি সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, মিশর, ভারত, বাহরাইন, পাকিস্তান থেকে প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন। দেশ-বিদেশের ১৯টি প্রবন্ধ নিয়ে প্রকাশ করা হবে সুফি সম্মেলন স্মরণিকা ‘তাসাউফ’।

মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। লিখিত বক্তব্যে আন্তর্জাতিক সুফি সম্মেলন ২০১৪ এর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক এ ওয়াই এম জাফর।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে মাইজভাণ্ডারির জন্মভূমি চট্টগ্রামে সুফিদর্শন চর্চার ধারাবাহিকতায় চতুর্থবারের মতো সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত তিনদিনের অনুষ্ঠানমালায় দেশে ও বহির্বিশ্বের বিশেষজ্ঞ-পণ্ডিতগণ উপস্থিতি থাকবেন বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার সম্মেলনের প্রথমদিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর দুপুর ও বিকেলে আগ্রাবাদ চেম্বার হাউসে দুইটি ও খুলশী তাবা কনভেনশন হলে মহিলাদের একটি টেকনিক্যাল সেশান হবে। দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতে রয়েছে মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফসহ চট্টগ্রামে বিশিষ্ট দরগাহ-মাজার, সুফিকেন্দ্র, ঐতিহাসিক মসজিদ ও স্থাপনা পরিদর্শন। সম্মেলনের শেষদিন শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চেম্বার হাউসে চারটি টেকনিক্যাল সেশান অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সমাপনী অনুষ্ঠান ও মরমী গানের মধ্য দিয়ে সম্মেলন শেষ হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও মাইজভাণ্ডারি একাডেমীর সভাপতি অধ্যাপক ড.ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিশ্বজনীন মানবতা বোধই হলো মাইজভাণ্ডারি দর্শন। সেই দর্শন বিশ্ববাসীকে জানাতে একাডেমী এ সম্মেলনের আয়োজন করে আসছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও একাডেমীর সাবেক সভাপতি ড.আব্দুল মান্নান বলেন, ধর্মের ভুল ব্যাখ্যার কারণে বিশ্বজুড়ে ধর্ম নিয়ে হানাহানি হচ্ছে। এ সমস্যা কিভাবে সমাধান করা যায় সেই চিন্তা থেকে এই একাডেমী গবেষণা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

ইসলাম মানুষের কল্যাণের জন্য এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বার্তাটি পৌঁছে দিয়ে কিভাবে একটি প্লাটফর্ম গড়ে তোলা যায় সেজন্যই এ সুফি সম্মেলন।

যারা ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা করছে তাদের হঠানো উচিত বলে মনে করছেন তিনি। আর এজন্য সবার কাছে মাইজভাণ্ডারি দর্শন পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। কারণ চরম লক্ষে পৌঁছার একমাত্র দর্শন হলো মাইজভাণ্ডারি দর্শন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ফলিত ও পরিবেশ রসায়ন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মীর সাইফুদ্দিন খালেদ চৌধুরী, একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ তরিকুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।