শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর , ২০১৪ সময় ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ

মির্জা ইমতিয়াজ শাওন,নিউজচিটাগাং২৪.কম।
প্রবারণাআজ শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা। বৌদ্ধ সম্প্রদায় সকলকে নিউজচিটাগাং২৪.কম এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। বৌদ্ধ সম্প্রদায় প্রবারণার আলোকে উদ্ভাসিত হয়ে আজ সারাদিন অতিবাহিত করবেন বিভিন্ন পুজো, ধর্মীয় আলোচনা, বিদর্শন ভাবনার মধ্য দিয়ে। ভিৰুসংঘরা বিগত তিন মাস ‘বর্ষাবাস’ পালন করেছেন ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী আজ তার পরিসমাপ্তি। আগামীকাল থেকে মাসব্যাপী শুরু হবে দানোত্তম ‘কঠিন চীবর’ দান অনুষ্ঠান।

বর্ষাবাসকালীন সময়ে উপাসক-উপাসিকারাও অষ্টমী, অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে বিহারে গমন করে সকাল বেলায় রত ছিলেন বুদ্ধ পুজোয়। পুজোর পর পর পঞ্চশীলে পরিশুদ্ধ হয়ে অষ্টশীল গ্রহণ করেন। বিকেল দুইটায় প্রতিটি বিহারে ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে স্ব-স্ব বিহারের বিহারাধ্যৰের সভাপতিত্বে। তাই বর্ষাবাসকালীন সময়টুকু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জন্য খুবই তাৎপর্যবহ।

তাই প্রবারণা শব্দের অর্থ হলো_ ‘আশার তৃপ্তি, অভিলাষ পূরণ, শিৰা সমাপ্তি বা ধ্যান শিৰা সমাপ্তি বুঝায়। অন্যদিকে আত্মশুদ্ধি বা আত্মসমালোচনাও বলে।’ এই শুভ তিথিতে ভগবান বুদ্ধ দেবলোক হতে সাংকাশ্য নগরে অবতরণ করেছিলেন, ভিৰুদের ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রতাদি সমাপন হয়। তাই প্রবারণা বা আশ্বিনী পূর্ণিমা বৌদ্ধদের পরম পবিত্র ও আনন্দের দিন।

আজকের দিনের কর্মসূচীতে থাকছে ভোরবেলায় বিশ্ব শান্তি কামনায় মঙ্গলসূত্র পাঠ, জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, বুদ্ধ পুজো, সমবেত প্রার্থনা, পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ এবং ভিৰু সংঘের আপ্যায়ন। দুপুর বেলায় দিনের তাৎপর্য নিয়ে ধর্মীয় আলোচনা এবং কোন কোন বিহারে খ-কালীন ভাবনাও পরিচালিত হবে। সন্ধ্যায় প্রদীপ পুজো এবং বিহার নানাবর্ণের বাতির আলোকে হবে আলোকিত। এই দিন হতে ভগবান বুদ্ধের আদেশে আদিষ্ট ভিৰুসংঘ বুদ্ধ বাণী প্রচারের জন্য দিকে দিকে বেরিয়ে পড়েছিলেন। বহুজনের হিতের জন্য, বহুজনের সুখের জন্য একদিকে একজন ভিৰু যাবে_বুদ্ধ এ বিধানও তখন করে দিয়েছিলেন।

আগামীকাল থেকে অর্থাৎ আশ্বিনী পূর্ণিমার পরদিন হতে কার্তিকী পূর্ণিমা পর্যন্ত এক মাসের মধ্যে দানোত্তম কঠিন চীবর দান সম্পন্ন করতে হবে। কঠিন চীবর দানের আরও একটি নিয়ম হলো_ যে বিহারে ভিৰু বর্ষাবাস পালন করেছে সেই বিহার ব্যতীত অন্য কোন বিহারে কঠিন চীবর দান করা যাবে না। ভিৰুগণ একসঙ্গে তিনটি চীবর ব্যবহা করতে পারেন। তা হলো উত্তরাসঙ্গ, সংঘটি ও অন্তর্বাস। এগুলোর যে কোন একটি দিয়ে ‘কঠিন চীবর’ দান করা যায়।

কঠিন চীবর দানের দিন অরুণোদয় হতে পরদিন অরুণোদয় পর্যন্ত সময়ে সুতা কাটা, কাপড় বোনা, কর্তন করা, সেলাই ও রঙ করা প্রভৃতি কাজ সম্পাদনপূর্বক এ দান করতে হয়।
বর্তমানে বাজার হতে কাপড় ক্রয় করেও কঠিন চীবর দান করা হয়। তবে এতে কায়িক, বাচনিক ও মানসিক অতিরিক্ত পুণ্য সঞ্চয় হয় না_এটাই কঠিন চীবর দানের ‘বিশেষত্ব।’ এজন্য এই দানকে ‘শ্রেষ্ঠ দান’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।


আরোও সংবাদ