শুভ জন্মদিন আবদুল আলীম

প্রকাশ:| সোমবার, ২৭ জুলাই , ২০১৫ সময় ১০:১৯ অপরাহ্ণ

বাংলা লোক সঙ্গীতের এক অমর শিল্পী আবদুল আলীম। লোক সঙ্গীতকে যিনি নিয়ে গিয়েছেন অবিশ্বাস্য এক উচ্চতায়। প্রাত্যাহিক জীবনের রূঢ বাস্তবতার সাথে ভাববাদী চিন্তাধারা একাকার সেখানে। আবদুল আলীমের আবদুল আলীমজন্ম ১৯৩১ সালের ২৭ জুলাই। তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের তালিবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম ছিল মোহাম্মদ ইউসুফ আলী। শৈশব থেকেই সঙ্গীতের প্রতি অনুরাগী ছিলেন আলীম। অর্থনৈতিক অনটনের কারণে কোন শিক্ষকের কাছে গান শেখা হয়ে ওঠেনি তাঁর। গান শুনে শুনে তিনি গান শিখে নিতেন। আর বিভিন্ন পালা-পার্বণে নিজস্বতা যোগ করে সেগুলো গাইতেন। এভাবেই তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। মাত্র তেরো বছর বয়সে ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম গানের রেকর্ড হয়। রেকর্ড করা হয় দুটি গান “তোর মোস্তফাকে দে না মাগো” এবং “আফতাব আলী বসলো পথে”। এতো কম বয়েসে গান রেকর্ড হওয়া বিস্ময়করই বটে। সময় তাঁকে করে দিয়েছিল পরিণত ও তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলার লোক সঙ্গীতের এক অবিসংবাদিত কিংবদন্তি। তিনি কলকাতায় গিয়ে আব্বাসউদ্দিন ও কাজী নজরুল ইসলামের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে গান করেছেন। তিনি লোক ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের উপর দীক্ষা নিয়েছেন বেদার উদ্দিন আহমেদ, ওস্তাদ মোহাম্মদ খসরু, মমতাজ আলী খান, আব্দুল লতিফ, কানাইলাল শীল, আব্দুল হালিম চৌধুরী প্রমুখের কাছ থেকে। লেটো আর যাত্রা দলেও কাজ করেছেন আবদুল আলীম। দেশ বিভাগের পরে তিনি ঢাকায চলে আসেন এবং রেডিওতে স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবে গান করেন। পরবর্তীকালে টেলিভিশন সেন্টার চালু হলে সেখানেও সঙ্গীত পরিবেশন করেন তিনি। বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’সহ অনেক বাংলা চলচ্চিত্রে আবদুল আলীম গান করেছেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র ‘লালন ফকির’। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০০টির মতো গান রেকর্ড হয়েছিল তাঁর। আবদুল আলীম তাঁর আধ্যাত্মিক ও মরমী মুর্শিদী গানের জন্য অমর হয়ে থাকবেন। বাংলা লোক সঙ্গীতের গবেষক ও কবি আসাদ চৌধুরী আবদুল আলীম সম্পর্কে বলেছেন, “সমাজটাকে যাঁরা জাগিয়েছেন আবদুল আলীম তাঁদের একজন”। মূল পেশা হিসেবে আবদুল আলীম ঢাকা সঙ্গীত কলেজের লোকসংগীত বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক (মরণোত্তর), পূর্বাণী চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার লাভ করেন। লাহোরে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান মিউজিক কনফারেন্সে সঙ্গীত পরিবেশন করে আবদুল আলীম পাঁচটি স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন। কালজয়ী লোকসঙ্গীত শিল্পী আবদুল আলীম মাত্র ৪৩ বৎসর বয়সে ১৯৭৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার পিজি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আবদুল আলীম আজ নেই। কিন্তু থেকে গেছে তাঁর গান। গানের মাঝেই তিনি সঙ্গীত পিপাসু মানুষের মাঝে বেঁচে থাকবেন যুগ যুগ। শ্রদ্ধাঞ্জলী আবদুল আলীম।


আরোও সংবাদ