শুঁটকি তৈরির মৌসুম শুরু

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি , ২০১৬ সময় ১১:৪৫ অপরাহ্ণ

শুঁটকি তৈরির মৌসুম শুরুশুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার গহিরা গ্রামের বাসিন্দারা। উপকূলীয় এই গ্রামের এক প্রান্তে সমুদ্রসৈকত। সেখানেই চলছে শুঁটকি শুকানোর কাজ। বর্ষাকাল বিদায় নেওয়ার পরই উপজেলায় শুঁটকি তৈরির মৌসুম শুরু হয়। শীত থেকে গ্রীষ্ম পর্যন্ত চলে শুঁটকি তৈরি।

উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর ঘেঁষে গহিরা গ্রামের অবস্থান। গ্রামের বেশির ভাগ মানুষের জীবিকা সমুদ্রে মাছ ধরা। শুষ্ক মৌসুমে গ্রামের অনেক বাসিন্দা শুঁটকির ব্যবসা করে বাড়তি আয়ও করেন।

শুঁটকি তৈরির মৌসুম শুরু2গহিরা গ্রামে ১০টির মতো শুঁটকির মহালে প্রধানত চিংড়ি শুঁটকি তৈরি হয় বলে ব্যবসায়ীরা জানান। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ইসমাইল জানান, গহিরা গ্রামের এক হাজার পরিবারের অন্তত চার হাজার মানুষ শুঁটকি তৈিরর সঙ্গে যুক্ত। শুঁটকি ব্যবসায়ীদের বেশির ভাগই স্থানীয় মৌসুমি ব্যবসায়ী। আবার অনেকে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা থেকেও আসেন ব্যবসা করতে। চিংড়ির পাশাপাশি লইট্যা, বাইলাসহ আরও কয়েক ধরনের শুঁটকি তৈরি হয় এখানে।
১৭ জানুয়ারি সরেজমিনে দেখা গেছে, রায়পুরের উঠান মাঝির ঘাট থেকে বারআউলিয়া পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলছে শুঁটকি শুকানোর কাজ। শুঁটকি মহালগুলোতে পুরুষের পাশাপািশ নারী শ্রমিকেরাও কাজ করছিলেন।

শুঁটকি ব্যবসায়ীরা জানান, এখানকার শুঁটকি বিক্রি হয় চট্টগ্রামের চাক্তাই এলাকার শুঁটকির আড়তগুলোতে। প্রতি মণ চিংড়ি শুঁটকি আট থেকে নয় হাজার টাকা দামে বিক্রি হয়। প্রতি মণে লাভ হয় দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। একেকটি শুঁটকি মহাল সপ্তাহে চার থেকে পাঁচ মণ শুঁটকি বিক্রি করে।
শীতের সময় শুঁটকি শুকানোর কাজ করেন পেছু মিয়া (৭০)। কেমন আয় হয়? প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমি দৈনিক ১৭০ টাকা মজুরিতে কাজ করছি। এলাকায় আর কোনো কাজ না থাকায় এ কাজ করে সংসার চালাচ্ছি।’
শুঁটকি তৈরির মৌসুম শুরু1
এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী শুঁটকি মহালগুলোতে মাছ বিক্রি করেও ভালো আয় করছেন। ব্যবসায়ী রমজান আলী (২৭) তাঁদেরই একজন। তিনি বলেন, ‘আমরা সমুদ্র থেকে আনা মাছ সংগ্রহ করে শুঁটকি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করি। তাঁরা ওই মাছ শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করেন।’
শুঁটকি ব্যবসায়ী আবদুল করিম (৪৭) বলেন, ‘আমরা ১০-১২ জন মিলে অংশীদারির ভিত্তিতে এ ব্যবসা করি। এক অংশীদারের অধীনে ১০-১৫ জন শ্রমিক কাজ করে।’

আনোয়ারা উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, উপজেলার রায়পুরের শুঁটকির ব্যবসায় বিভিন্নভাবে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।>>>মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন