শীতে ঠোঁটের যত্ন

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৬ নভেম্বর , ২০১৮ সময় ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ

শীত প্রায় এসে গেছে। আমাদের ত্বক যেমনই হোক, শীত আসার সাথে সাথে আমাদের ত্বক রুক্ষ হতে থাকে। আর এই প্রভাব থেকে মুক্তি পায় না আমাদের ঠোঁট ও। দেখা যায়, ঠোঁটকে সব থেকে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হতে। এর ফলে, আমাদের ঠোঁট ফেটে যায়, রুক্ষ হয়ে যায়, ঠোঁটের চামড়া উঠে যায় এবং ঠোটের ন্যাচারাল কালার হারিয়ে যায়।

শীতের সময়ই ঠোঁটের যত্ন নেওয়াটা একটু বেশিই দরকার। এই সময় ঠোঁট ফাটা থেকে শুরু করে ঠোঁটের নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়। তাই এই শীতে আপনার ঠোঁটে চাই বাড়তি যত্ন।

কড়া রোদে দীর্ঘ সময় থাকা, পানিশূন্যতা, গর্ভাবস্থা, বছরের পর বছর গভীর রাত জেগে থাকা, সঠিক সময়ে পুষ্টিকর খাবারের অভাব, মাত্রাতিরিক্ত হারে প্রসাধনী ব্যবহার করা প্রভৃতির জন্য ঠোঁট কালো হতে পারে।

অনেকেই দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ান, ঠোঁটের চামড়া টেনে ওঠান। এতে ঠোঁটের চামড়া ও ঠোঁটের নরম মাংসপেশিতে আঘাত লাগে। পরিণামে ঠোঁটে সঠিকভাবে প্রসাধনী বসতে চায় না, ঠোঁটে নানা রকম দাগ হয়ে যায়। অসাবধানতাবশত চামড়া বেশি উঠে গিয়ে ঘা পর্যন্ত হতে পারে। ঘা হয়ে গেলে আরও বেশি দাগ হয়ে যায়।

শরীরে লবণ, পানি ও ভিটামিন ‘বি’র অভাবে ঠোঁট ফ্যাকাশে হয়ে যায়। ঠোঁট দীর্ঘ সময় শুষ্ক থাকলে অনেকেই বারবার জিব দিয়ে ঠোট ভেজান। এমন অভ্যাস যাঁদের রয়েছে, তাঁদের ঠোঁট তুলনামূলকভাবে কালচে হয় বেশি।

কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ঠোঁট কালো হয়।

শরীরে আয়রনের (যা রক্ত তৈরি করে) পরিমাণ খুব বেশি হলেও ঠোঁট কালচে হয়। আর রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে (খুব বেশি পরিমাণে) ঠোঁট ফ্যাকাশে হয়ে যায়।

ধূমপান আর খুব বেশি চা-কফি খেলেও ঠোঁট কালো হতে পারে।

তবে সমস্যা থাকলে এর সমাধানও আছে। আসুন জেনে নিই ঠোঁট সুন্দর রাখার কিছু পরামর্শ।

নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে এবং প্রচুর পরিমাণে পানি (কমপক্ষে প্রতিদিন দুই লিটার) পান করতে হবে। শরীরে পানিশূন্যতা না থাকলে মুখ, চোখের নিচে ও ঠোঁট উজ্জ্বল দেখাবে।

ঠোঁট শুষ্ক হয় বেশি যাঁদের, তাঁরা লিপ বাম (এসপিএফ ১৫ বা ২০ যুক্ত) নিয়মিত ব্যবহার করুন।

ঠোঁটের ওপর মরা চামড়া জমেও দাগ হতে পারে। গোলাপের পাপড়ি বেটে এর সঙ্গে মধু বা চিনি মিশিয়ে পাতলা কাপড় দিয়ে হালকা করে ঘষুন। এতে ঠোঁটে জমে থাকা মরা চামড়াগুলো উঠে যাবে। ঠোঁট দেখাবে উজ্জ্বল।

ধূমপান, ধুলাবালু, রোদের তাপ পরিহার করে চলুন।

বংশগত কারণ বা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মেনে নিতেই হবে। এই পরিস্থিতি সাধারণত পরিবর্তন করা যায় না।
ডায়রিয়া, অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়া, অতিরিক্ত দৈহিক পরিশ্রমের পর দুর্বল লাগলে ওরস্যালাইন খান বা লবণপানি সমৃদ্ধ শরবত খান। এতে পানিশূন্যতা দূর হবে। ত্বকের ওপর পড়বে না নেতিবাচক প্রভাব।

ঠিকমতো মেকআপ তুলে তারপর ঘুমাতে যাবেন।

ঠোঁটের দুই কোনা কালো হয়ে গেলে চালের আটা পানিতে একটু ভিজিয়ে সেই অংশে ঘষুন। এটি স্ক্রাবের কাজ করবে। গোলাপের পাপড়ি, দুধের সর বা মাখন ঠোঁটে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখলেও কালচে ভাব চলে যাবে। প্রতিদিন ২০ মিনিট মধু বা দুধের সর লাগিয়ে রাখলেও কালচে ভাব কমবে।


আরোও সংবাদ