শীতকালীন সবজিতে কৃষকের মুখে হাসি

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর , ২০১৫ সময় ১১:৪১ অপরাহ্ণ

আনিছুর রহমান,নিউজচিটাগাং২৪.কম
দোহাজারী থেকে ফিরে 
সবজিশঙ্খ নদীতে সারি সারি নৌকা ছুটে আসছে দুপাশ থেকে। কোনটির পুরোটাই সাদা, কোনটি সবুজ। এ নৌকাগুলোতে বহন করা হচ্ছে মুলা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুনসহ নানা শীতকালীন সবজি। ঘাটে একের পর এক ভিড়তে থাকে সবজিভর্তি নৌকা। নৌকার গায়ে সকালের রোদ পড়ে চিকচিক করছে চারপাশ।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের দোহাজারীর শঙ্খ নদীর ঘাটের এ চিত্র প্রতিদিনকার। ঘাট থেকে সবজি তুলে দোহাজারীর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন হাটে নিয়ে আসেন কৃষকরা। সকাল সাতটা থেকে দশটা পর্যন্ত এ হাটে চলে বেচাকেনা।

চট্টগ্রাম নগর ও আশেপাশের এলাকায় সবজির যোগান দিয়ে আসা এ হাটে দৈনিক কোটি টাকার বেচাকেনা হয়।

সবজিসরেজমিন দেখা গেছে, গত বর্ষায় চার দফা বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন শঙ্খপাড়ের সবজিচাষিরা। শঙ্খের বিশাল চর ছেয়ে গেছে সবুজে, সব খানে শীতকালীন সবজির হাসি। অথচ দুই মাস আগেও বন্যার ছোবলে মড়ক লেগেছিল এসব খেতে।

চাষিরা হাল ছেড়ে না দিয়ে বন্যার পরপর দ্রুত বীজ বপন করেন। যথাযথ পরিচর্যার ফলে কম সময়ের মধ্যে মুলা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ঢেঁড়স, বরবটিসহ কিছু আগাম সবজি বাজারে নিয়ে এসেছেন কৃষকরা। গতবছরের তুলনায় এ বছর বাজারে ভালো দামও পাচ্ছেন সবজি চাষীরা।

কৃষকরা জানিয়েছেন গত বছর এ সময়ে পাইকারি বাজারে দুই মণ মুলা যেখানে এক থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে, তা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায়। অন্যান্য সবজিশীতকালীন সবজিরও একই অবস্থা।
জানা গেছে, চট্টগ্রামের শঙ্খনদীর উভয় তীরের অর্ধশত ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের জীবিকা সবজি চাষের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু গত বর্ষায় চার দফা বন্যা সবজির খেত নষ্ট করে দেয়।

বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় দিন-রাত পরিশ্রম করছেন শঙ্খপাড়ের সবজি চাষিরা। এবার বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুন, মুলা, শিম, বরবটি, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, টমেটো, লালশাক, ডাঁটাশাক, কপিশাকসহ বিভিন্ন শাকসবজির উৎপাদন বেশ ভালো হয়েছে।

সাতকানিয়ার খাগরিয়ার সবজি চাষী সাইফুল বলেন, বন্যায়
ক্ষতি না হলে গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে আগাম শীতকালীন সবজি বিক্রি করা যেত। দুই মাস পর সবজি উৎপাদনে নেমে ভালো দাম পাওয়া গেলেও লাভ কম হবে। গত সপ্তাহে আট কাচা (আনুমানিক ২০ মণ) মুলা ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। এটা ভালো দাম। তবে সরবরাহ বাড়ার সাথে সাথে সবজির দাম কমে যাবে বলে মনে হচ্ছে।

সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খাজানুর রহমান জানান, শঙ্খ নদী তীরবর্তী চরতী, আমিলাইশ, নলুয়া, খাগরিয়া, কালিয়াইশ, ধর্মপুর, বাজালিয়া, পুরানগড়, ছদাহা, মার্দাশা, জঙ্গল মার্দাশা এলাকায় সবজির ফলন বেশ ভালো হয়েছে। এসব এলাকায় এবার ৮৫০ হেক্টর জমিতে প্রচুর পরিমাণে শিম, মুলা, বাঁধা কপি, শসা, তিত করলা ও মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে। এগুলো শীতকালীন সবজি হিসেবে ইতিমধ্যে বাজারে উঠছে।সবজি




কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক আমিনুল হক চৌধুরী নিউজচিটাগাংকে বলেন, চট্টগ্রামে ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমাদের হাতে আরো এক মাস সময় আছে। এ সময়ের মধ্যে এ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। এছাড়া এবছর শীতকালীন সবজির ফলন ভাল হচ্ছে। এতে ৬ লক্ষ কৃষি পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফুটেছে।