শীঘ্রই উত্তর জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা, সাধারণ সম্পাদক পদে লড়াই

sharifulrukon প্রকাশ:| বুধবার, ২৫ এপ্রিল , ২০১৮ সময় ১১:১৪ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির ঘোষণা শীঘ্রই আসতে যাচ্ছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে এ ঘোষণা আসতে পারে বলে দলীয় সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে। এতে সভাপতি পদে একজনের নাম শোনা গেলেও সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে একাধিক জনের মধ্যে লড়াই চলছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নগরীর ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউটে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে আংশিক কমিটি ঘোষণা দেওয়ার কথা থাকলেও সম্মেলনে রহস্যজনক গণ্ডগোলের কারণে তা করা হয়নি।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সম্মেলন পণ্ড হয়ে যাওয়ার পর মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস.এম জাকির হোসাইনসহ নেতৃবৃন্দ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট থেকে রেবিয়ে লালদীঘি জেলা পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে একান্ত বৈঠক করেন। বৈঠকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য মনোনয়ন প্রত্যাশী ৬২ জনের প্রার্থী তালিকা দুই ঘণ্টা ধরে যাচাই-বাছাই করেন। ৬২ জনের মধ্যে ৫৪ জন প্রার্থীকে ‘সাংগঠনিক অযোগ্যতা-অদক্ষতা’ এর অভিযোগে বাদ পড়ে যান। বাকি ৮ প্রার্থীর সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদ। তাদের ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের দায়িত্বশীল নেতাদের মতামতা নেন। এদের মধ্যে তিনজনের নাম চূড়ান্ত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দায়িত্বশীল নেতারা।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা যায়, সভাপতি পদে মীরসরাই উপজেলার তানভীর হোসেন তপুর নাম শোনা যাচ্ছে। তবে তার বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে নতুন কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের অনুসারী এবং সাবেক উত্তরজেলা ছাত্রলীগের সদস্য মোঃ মিজান উদ্দীন, ফটিকছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সাবেক যুগ্ন-আহবায়ক মোহাম্মদ রেজাউল করিম। এছাড়া আরো যে কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরীর অনুসারী গিয়াস উদ্দিন এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ সালামের অনুসারী তালুকদার পারভেজ আনসারী। তবে ধারণা করা হচ্ছে এদের মধ্যে মোঃ মিজান উদ্দীন এবং মোহাম্মদ রেজাউল করিম এ দুজনই সাধারণ পদে এবারের প্যানেলের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী।

এদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে যে কজন নেতার নাম শোনা যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধেও রয়েছে বিএনপি জামায়াত পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচিত বলে অভিযোগ রয়েছে। এরমধ্যে সাধারণ সম্পাদক পদ প্রার্থী মহিদুল শিকদার জিকুর বাবা সন্ধীপ মুছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক অভিযোগ রয়েছে। রেজাউল করিমের পরিবার বিএনপির পরিবার বলেও স্থানীয় আওয়ামীলীগ মহলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে নেতা-কর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে মহিদুল দিকদার জিকু বলেন, আমার পরিবারের মধ্যে বিএনপি জামায়াত থাকলে কি ছাত্রলীগ করতে পারবে না। আমি তো ছাত্রলীগের জন্য অনেক ত্যাগ করেছি। আমার পরিবারের বিরুদ্ধে বিএনপি সংশ্লিষ্টতা থাকলে আগে তো কেউ কিছু বলেনি। যখন পদ দেয়ার বা কমিটি গঠনের সময় হয়েছে এখন কেন এসব কথা আসছে। এদিকে রেজাউল করিমের বিরুদ্ধেও বিএনপি সমর্থিত পরিবারের অভিযোগ রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে রেজাউল করিম বলেন, ছাত্রলীগের কমিটিতে ঘুরে ফিরে আমার নাম চলে আসতেছে। কিন্তু আমাকে উক্ত পদে বাঁধা সৃষ্ঠি করার জন্য আমার প্রতিপক্ষরা একের পর এক মিথ্যা রটিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আমার পরিবার বিএনপি করে না।

এ বিষয়ে মিজান উদ্দীন বলেন, আমি উত্তর জেলা ছাত্রলীগের গত কমিটিতে ছিলাম। সকল আন্দোলন সংগ্রামে ও কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করে প্রত্যক্ষ রাজনীতির মাঠে থেকে নিজেকে ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে প্রমাণ করেছি। এখন সেটার মূল্যায়ন আমার নেতারা করবেন বলে আমি আশা রাখি।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু তৈয়ব বলেন, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির একটি তালিকা কেন্দ্রে জমা দিয়েছে। এখন কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নিবেন কমিটি কখন ঘোষণা দিবে।

উল্লেখ্য, বখতিয়ার সাঈদ ইরান ও আবু তৈয়বের নেতৃত্বাধীন ১৪১ সদস্যের জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি গত ২০১১ সালের ৬ জানুয়ারি কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হয়।