মোহাম্মদপুরে শিশু হত্যায় জড়িতরা ছাত্রলীগকর্মী!

প্রকাশ:| বুধবার, ৩ জুন , ২০১৫ সময় ০৯:১০ অপরাহ্ণ

rab ctg 03-06-15-1নগরীর মোহাম্মদপুর এলাকায় শিশু আসাদুল মিয়া হত্যাকাণ্ডের পেছনে ‘ছাত্রলীগ’র সম্পৃক্ততা পেয়েছে র‌্যাব। এঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার বাবু ও সায়েমকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে র‌্যাব এ তথ্য জানিয়েছে।

এদের মধ্যে হত্যার পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকারীকেও চিহ্নিত করেছে র‌্যাব। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে গুলি বর্ষণকারী ‘ছাত্রলীগ কর্মী’ সায়েম (২৪) ও একই মোটর সাইকেলে থাকা আরেক ‘ছাত্রলীগ কর্মী’ বাবুকে (২২)। আর পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে একই এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ইসমাইল হোসেন প্রকাশ টেম্পু’র ভাই সোহাগকে।

২০১৪ সালের ১১ এপ্রিল খতিবের হাট এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় টেম্পুকে গ্রেপ্তারের পর তার বাহিনীর হাল ধরেন এই সোহাগ।

গ্রেপ্তার হওয়া দুই জনের মধ্যে সায়েম নিজেকে নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রণির অনুসারী সক্রিয় কর্মী বলে দাবি করেছে। অন্যদিকে বাবু একই এলাকার স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জসিমের অনুসারী বলে দাবি করেছে।

তবে কে কোন নেতার অনুসারী সেটা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও হত্যাকাণ্ডে অংশকারীরা সরকারি দলের সহযোগি সংগঠনের কর্মী বলে র‌্যাব নিশ্চিত হয়েছে।

তবে এবিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রণি বলেন, ‘মোহাম্মদপুরে শিশু খুনের ঘটনায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়িত নয়। যারা গ্রেপ্তার হয়েছে তারা আমাদের কোন পর্যায়ের নেতাকর্মী নন। সংগঠনের কোন কর্মসূচীতে তাদের অংশগ্রহণ ছিলনা। তাদেরকে আমি চিনিও না, জানিও না। খুনের ঘটনায় ছাত্রলীগের নাম ভাঙানোর কোন সুযোগ নেই। ’

র‌্যাব ৭ এর উপ অধিনায়ক মেজর জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের পর আমরা বুধবার সকালে মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে বাবু ও সায়েমকে গ্রেপ্তার করি। এসময় সায়েম নিজেকে নগর ছাত্রলীগের সম্পাদক নুরুল আজিম রণির লোক দাবি করে আমাদেরকে নানা কথা বলতে থাকে। তবে সায়েম জসিমের লোক দাবি করলেও কোন ধরণের হুমকি দেয়নি। কে কোন নেতার অনুসারী সেটা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও তারা যে সরকারী দলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত তা নিশ্চিত হওয়া গেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মূলত স্থানীয় দোকানদার দেলোয়ার শেখকে ভয় দেখতে গিয়েই মিস টার্গেটের শিকার হয় শিশু আসাদুল মিয়া। হত্যকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী টেম্পুর ভাই সোহাগ আর বাস্তবায়নে অংশ নেয় বাবু ও সায়েমসহ আরো কয়েকজন। এদের মধ্যে সরাসরি পিস্তল উচিয়ে গুলি করে ছাত্রলীগ কর্মী সায়েম। এসময় মোটর সাইকেলের পেছনে ছিল বাবু। মূলত তারা স্থানীয় দোকানদার দেলোয়ার শেখকে টার্গেট করে ঘটনাস্থলে গেলে মিস টার্গেটের শিকার হয় শিশু আসাদুল। এঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী সোহাগকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

প্রসঙ্গত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল থানার দামুরা গ্রামের মো. মোখতার মিয়ার সন্তান আসাদুল মিয়া। শবে বরাত উপলক্ষে মোহাম্মদপুরের মোবারক আলীসড়কের টুনু মুন্সির ভাড়া বাসায় থাকা তার চাচার কাছে বেড়াতে আসে নিহত আসাদুল। রাতে বাসায় বিদ্যুৎ চলে গেলে গলির একটি দোকানে মোমবাতি কিনতে যায় সে। এসময় দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে তার মাথার খুলি উড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার গভীর রাতে নিহত আসাদুলের চাচা সুমন মিয়া বাদি হয়ে পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।