শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পরস্পর বিরোধী তথ্য

প্রকাশ:| রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ সময় ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

ফটিকছড়ি সংবাদদাতা:
চট্টগ্রামের নাজিরহাট সেবা ক্লিনিকে পাঁচ মাসের শিশু আনিকা আকতারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হট্ট্রগোল ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। নাজিরহাট বাজারের হাসপাতাল সড়কে অবস্থিত ওই ক্লিনিকে গত শুক্রবার রাত ১১টায় এ ঘটনাটি ঘটে। ফটিকছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। ভাংচুরের ঘটনায় রোগী এবং হাসপাতাল র্কতৃপক্ষ পরস্পরকে দায়ী করছেন।
জানা গেছে, দীর্ঘ সাত বছর পর কুতুব উদ্দিনের সংসারে ওই মেয়েটি আসে। শ্বাস কষ্ঠ জনিত কারণে গত ২২ ফেব্রুয়ারি মেয়েকে নাজিরহাট সেবা ক্লিনিকের এক ডাক্তারের পরামর্শে ওই ক্লিনিকেই ভর্তি করান। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কন্যা শিশু আনিকার মৃত্যু হয়।
রোগীর পক্ষের সূত্রে, শ্বাস কষ্ট জনিত কারণে শিশুটিকে ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়। ভর্তির পর হতে রোগীর কোন উন্নতি দেখেননি তারা। এই নিয়ে ডাক্তার নার্সদের সাথে তাদের বাকবিতন্ডাও হয়েছিল। কিøনিকের নার্স ঘটনার রাতে শিশুটিকে পরপর কয়েকবার নেভুলাইজার মেসিন দিয়ে গ্যাস দেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে কালো রুপ ধারন করে শিশুটির মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের সূত্রে, নিহত শিশুটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। ভর্তি হওয়ার পর শিশুটি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠে। ডাক্তাররা শিশুটিকে বুকের দুধ খাওয়াতে নিষেধ করেছিল। ঘটনার রাতে শিশুটির মা শিশুটিকে বুকের দুধ খাওয়ালে দুধ আটকে শিশুটি মারা যায়।
নিহত শিশুর পিতা মুহাম্মদ কুতুব উদ্দিন বলেন ক্লিনিকের ডাক্তার নার্সদের ভূল চিকিৎসাই তার মেয়ে মারা যান ।
এ বিষয়ে ক্লিনিকের দায়িত্বেরত পরিচালক দিদারুল আলম বলেন, শিশু আনিকা কে মায়ের বুকের দূধ না দিতে ডাক্তারদের নিষেধ ছিল। কিন্তু তা অমান্য করে বুকের দুধ দিলে শ্বাস কষ্ট বৃদ্ধি পেয়ে মারা যায়। অক্্িরজেনের কারনে মারা যায়নি বলে তিনি দাবী করেন। তিনি এ ঘটনায় ক্লিনিকে ভাংচুরের ঘটনাটি অস্বীকার করেন।
সেই রাতে ঘটনা সামাল দিতে আসা ফটিকছড়ি থানার সাব ইন্সপেক্টার মুহাম্মদ ইরফান উদ্দিন রাজীব জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন। এসে জানতে পারেন শিশুটি নিউমোনিয়া রোগী ছিল। ক্লিনিকের নার্স শিশুটি গ্যাস দিতে গিয়ে কোন কারণে মারা যায়। থানায় কোন মামলা হয়নি। পরিস্থিতি শান্ত বলে তিনি জানান।
ফটিকছড়ি থানার ওসি মুহাম্মদ আবু ইউসুফ মিয়া বলেন, শিশু আনিকার পরিবারের সদস্যরা বলেছে অবহেলার কারনে মারা গেছে। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেব।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপক কুমার রায় বলেন, এ বিষয়ে আমাকে যিনি বলেছেন, তাকে মামলা করতে বলেছি। আইনগত ভাবে যা হবার হবে।
উল্লেখ্য, শিশুর পিতা কুতুব উদ্দিন ফটিকছড়ির সুন্দরপুর ইউনিয়নের ১০নং ওয়ার্ড়ের সাদেক নগর গ্রামের তালুকদার বাড়ির বাসিন্দা।