শিল্পী সৌমেন দাশের ৪র্থ একক প্রদর্শনী ২-৫ আগস্ট

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৭ জুলাই , ২০১৮ সময় ০৮:৫০ অপরাহ্ণ

চিত্রপটের বিমূর্ত-আধাবিমূর্ত অভিব্যক্তি মূর্ত হয় ব্যক্তি-মানসের অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে। তবে মানুষের নেতিবাচক মনোভাব, সংকট, সংগ্রাম ও দ্রোহ শৈল্পিকরূপে প্রকাশ পেতে বেশ অপেক্ষাই করতে হয়। অস্তিত্ব-সংকট কখনো বা প্রধান হয়ে ওঠে। তবে শিল্পী কখনো পরাজিতের ছবি আঁকেন না। জীবনের আশাবাদী চেতনার গানে উদ্বেলিত হয় ক্যানভাস শিল্পী সৌমেন দাশের দ্বিমাত্রিক তল পরিবর্তিত হয় বিষয়বস্তুর স্পর্শকাতরতায়। অনুভূতির অবরুদ্ধ মনোভূমি নারীর অস্তিত্বের চৈতন্য ধারণ করেন শিল্পের শক্তিতে। সৃজনপ্রিয় এই শিল্পী দুঃসহ-বিদীর্ণ-ক্ষয়িষ্ণু দোলাচলে বহমান জীবনের গতি স্পষ্ট করে তুলেছেন নিরীক্ষার কৌণিক অবস্থান থেকে।

আগামী ২রা আগস্ট থেকে ৫ আগস্ট ২০১৮ চারদিন ব্যাপী শিল্পী সৌমেন দাশের ৪র্থ একক চিত্র প্রদশর্নী বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী চট্টগ্রাম এর শিল্পাচার্য জয়নুল আর্ট গ্যালারীতে অনুষ্ঠিত হবে। প্রদর্শনীতে শিল্পীর বিভিন্ন মাধ্যমে আঁকা ৬৫ টি শিল্পকর্ম স্থান পাবে। সম্মানিত শিল্পী শিক্ষক শিক্ষানুরাগী শুভানুধ্যায়ী, চারুকলার শিক্ষার্থী ও সাধারণ দর্শকদের উপস্থিতিতে বিকাল ৫ টায় প্রদর্শনী উদ্বোধন হবে। প্রদর্শনী প্রতিদিন বিকেল- ৪টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সবাইকে যথা সময়ে উপস্থিত থাকার জন্য শিল্পী অনুরোধ জানিয়েছেন।
প্রদর্শনীর উদ্বোধন ২ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা।
শিল্পীর ১ম একক চিত্রপ্রদর্শনী বাংলাদেশস্থ ফরাসী দূতাবাস ও আলিয়ঁসন ফ্রঁসেজ এর যৌথ উদ্যোগে ২০০০ সালে জাতীয় যাদুঘরে এবং ২য় একক প্রদর্শনী ২০০১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা ইনস্টিটিউট শিল্পী রশিদ চৌধুরী আর্ট গ্যালারী অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৮ সালে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক তেলরঙে অংকিত ৫টি শিল্পকর্মের ৩য় প্রদর্শনী বেলজিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। যা বেলজিয়ামে সংগৃহীত আছে জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী দ্বি-বার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী, বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ-সহ দেশের এবং দেশের বাহিরে বিভিন্ন যৌথ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন।

শিল্পীর শিল্পকর্ম রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় যাদুঘর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যাদুঘর
বাংলাদেশ বিমান বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশস্থত ফরাসি দূতাবাস, ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ নজরুল ইন্সটিউটিউট, বাংলাদেশ চক্ষু হাসপাতাল, বাডের্ম হাসপাতাল, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ সহ দেশ বিদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগতভাবে সংগৃহীত আছে। চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লগো ও মনোগ্রাম অংকন করেছেন। ১৯৭১ সাল থেকে এই পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ম্যাগাজিন, লিটন….. রণিকার অসংখ্যা প্রচ্ছাদ অংকন করেছেন। বহু বছর তিনি দৈনিক আজাদীতে শিল্পনির্দেশক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জ্ঞানী, গুনী মনিষী, কবি শিল্পী, সাহিত্যিক, চিকিৎসক সহ অনেকের প্রতিকৃতি অংকন করেছেন। তিনি বাংলা একাডেমীর জীবন সদস্য, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর- এর জীবন সদস্য, বাংলাদেশ ডাক বিভাগের শিল্পীদের মধ্যে একজন। ১৯৬৯ সালের গণ আন্দোলন, ৭১- এর মুক্তিযুদ্ধ এবং এর পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রগতিশীল, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে একজন সক্রিয়কর্মী। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের উপর শিল্পকর্ম অংকন করেন। ১৯৯১ সালের ২৯ই এপ্রিল চট্টগ্রামে প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ভয়াবহ চিত্র তাঁর শিল্পকর্মে উঠে এসেছে। ১৯৯৮ সালে চট্টগ্রামে কয়েক জন চিত্রশিল্পীর যৌথ উদ্যোগে চিত্র প্রদর্শনী থেকে বিক্রয়লব্ধ অর্থ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের প্রধানমন্ত্রীর নিকট হস্তান্তর করেন।


আরোও সংবাদ