শিমের বাম্পার ফলনেও হাসি নেই চাষীদের মুখে

প্রকাশ:| সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ সময় ০৮:৪১ অপরাহ্ণ

আলাউদ্দিন শাহরিয়ার, বান্দরবান ॥

শিমের বাম্পার ফলনের পরও বান্দরবানে হাসি নেই চাষীদের মুখে। দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে শিম বিক্রি করতে না পেরে লোকসান গুনছে চাষীরা। ক্ষেতের শিম ক্ষেতেই পঁেচ নষ্ট হচ্ছে বলে দাবী শিম চাষীদের। তবে তামাক চাষকে বিতারিত করে তামাক চাষের জমিগুলোতে এখন শিম’সহ শিতকালিন সবজি চাষ বেড়েছে দাবী কৃষিবিভাগের।

কৃষি বিভাগের মতে, চলতি মৌসুমে বান্দরবানে সবজি ভান্ডার হিসেবে পরিচিত সূয়ালক, মাঝেরপাড়া, গোয়ালিখোলা, কদুখোলা, রেইছা, বালাঘাটাসহ বিভিন্নস্থান শীতকালিন সবজি শিমের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলায় প্রায় সাড়ে চারশ হেক্টর জমিতে দেশী জাতের শিমে চাষ হয়েছে। এখান থেকেই প্রতিবছর প্রায় ৬ হাজার ৩ হজার ৩৪৫ মেট্টিকটন শিম উৎপাদিত হচ্ছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ১৪ টন শিম উৎপাদন হয়। যেখানে গতবছর জেলায় তিন হাজার নয়শ মেট্টিকটন শিম উৎপাদিত হয়েছিল। স্থানীয় বাজারগুলোতে শিমের চাহিদাও রয়েছে প্রচুর, দামও বেড়েছে গতবছর গুলোর তুলনায় বেশি। স্থানীয় বাজারগুলোতে প্রতিকেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৩০/৪০ টাকায়। গোয়ালিখোলার শিমচাষী সামশুল ইসলাম এবং মাঝেরপাড়া অংচা মং মারমা’সহ কয়েকজন চাষী জানান, এবারও শিমের খুবই ভালো ফলন হয়েছে। স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেও দাম পাচ্ছি। তবে হরতাল-অবরোধের কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্নস্থানে শিম পরিবহন করা যাচ্ছে না। যে কারণে ব্যবসায়ীরাও উৎপাদিত শিম কিনতে আসছে না। উৎপাদিত শিত বিক্রি করতে না পেরে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে তারা। ক্ষেতের অধিকাংশ শিম ক্ষেতেই পঁেচ নষ্ট হচ্ছে।

মাঝের পাড়ার শিম চাষী মেথুই চিং ও অজ্ঞলী মারমানী জানান, প্রতিবছর স্থানীয় বাজারগুলোর চাহিদা মিটিয়ে পাহাড়ের শিম চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্নস্থানে গাড়ীতে করে নিয়ে যেতো ব্যবসায়ীরা। চাহিদা থাকায় শিম চাষও বেড়েছে এই অঞ্চলে। কিন্তু গাড়ী চলাচল না করায় এবার শিম কিনে নিচ্ছেনা ব্যবসায়ীরা। এ কারণে লাভ করতে পারছি না। জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ওসমান গনি জানান, পাহাড়ে তামাক চাষ নিরুৎসাহিত করতে কৃষকদের সহজ শতে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে স্থানীয় কৃষকেরা স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে। একইসঙ্গে জেলায় উৎপাদিত সবজিসহ ফলমূল সংরক্ষণে একটি হিমাগার স্থাপন খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে। হিমাগারের অভাবে লক্ষ লক্ষ টাকার উৎপাদিত কৃষি পন্য পচেঁ নষ্ট হচ্ছে বান্দরবানে।

বান্দরবান জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক আলতাফ হোসেন জানান, জেলায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি শিম উৎপাদিত হয়েছে। লাভজনক হওয়ায় বান্দরবানে শিম চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। শীতকালিন সবজির মধ্যে চাষীরা ইদানিং শিম চাষের দিকেই বেশি যুগছে। শীতকালিন সবজি চাষ করে জেলার গোয়ালিখোলা, মাঝেরপাড়া ও বালাঘাটার চাষীদের ভাগ্য বদলে যাচ্ছে। তবে যানবাহন না চলায় স্থানীয় বাজারগুলোর চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত শিম দেশের বিভিন্নস্থানে রপ্তানি করতে না পারায় সাময়িক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে স্থানীয় কৃষকেরা। তামাক চাষের পরিবর্তে শীতকালীন সবজি চাষ বেড়েছে বান্দরবানে। স্বল্প খরচে শিমসহ সবজি চাষ খুবই লাভজনক। নতুন সবজির কদর থাকায় বাজারে বিক্রি করেও দাম পাচ্ছে চাষীরা।