শিক্ষা সমাজ শুদ্ধতার আলোকবর্তিকা

প্রকাশ:| শনিবার, ১১ এপ্রিল , ২০১৫ সময় ০৭:২৫ অপরাহ্ণ

আনোয়ারা বেগম স্কুলের রজত জয়ন্তী অনুষ্ঠানে মহিউদ্দিন চৌধুরী

শিক্ষা সমাজ শুদ্ধতার আলোকবর্তিকাচট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সিটি মেয়র আলহাজ্ব এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, শিক্ষাক্ষেত্রে এক সময়ে পিছিয়ে পড়া চট্টগ্রাম এখন অনেক এগিয়ে গেছে। চট্টগ্রাম থেকে তৈরী হচ্ছে নতুন নতুন জ্ঞানতাপস। তারপরও লক্ষ্য করা যাচ্ছে একটি কুচক্রী মহল এই শিক্ষার অগ্রযাত্রাকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, শিক্ষকরা অবশ্যই মর্যাদার অধিকারী। তারা পেশাগত যোগ্যতানুযায়ী বেতন ভাতা পাবেন। তবে তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে প্রকৃত শিক্ষা দান করা। মনে রাখতে হবে শিক্ষকতা শুধুমাত্র একটি আয় রোজগারের অবলম্বন নয়। দেশকে সমাজকে দেয়া অঙ্গীকার। শিক্ষা পণ্য নয়, জাতির উচ্চাসার আলো এবং সমাজ শুদ্ধতার আলোকবর্তিকা।
তিনি সকালে মোহরাস্থ আনোয়ারা বেগম উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৫ বছার পূর্তি, নতুন একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী যে কোন সন্তান-সন্ততিকে আমাদেরকে সামনের দিকে এগিয়ে দিতে হবে। তারা এ জাতির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণে যারা জমি দিয়ে, আর্থিক যোগান দিয়ে সহায়তা করেছেন তারা সমাজ সংস্কারক। তাদের অবদানে চট্টগ্রাম আলোর পথের যাত্রী। তিনি এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সমাজসেবী আবু তাহের ও তার উত্তরাধিকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার শিক্ষার প্রসারে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের শিক্ষাখাত এখন একটি অগ্রসরমাণ প্রাণ প্রবাহ। আমরা লক্ষ্য করেছি অপ রাজনীতির নামে বিগত তিন মাস আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা বর্ষকে নস্যাৎ করার জন্য হামলা চালানো হয়েছে। জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে সুরক্ষা দিয়েছেন। আমি চাই শিক্ষাপ্রেমী আবু তাহেরের মত বদান্যতায় শিক্ষা প্রসারে আরো অনেকেই এগিয়ে আসবেন। এই ক্ষেত্রে আরো অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। এ ধরনের শিক্ষা প্রেমিদের বদান্যতায় আমি চট্টগ্রামে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি। এই ধারাবাহিকতা রাক্ষা করতে আমি সংকল্পবদ্ধ।
বিশেষ অতিথির ভাষণে, চট্টগ্রাম ৮ আসনের সংসদ সদস্য মঈনুদ্দিন খান বাদল বলেন, আমার সহযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিক মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র হিসেবে তার মেয়াদকালে চট্টগ্রামে শিক্ষা প্রসারে যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তুলেছেন তা আজ আমাদের গর্ব। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের মত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বেসরকারি উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এটা চট্টগ্রামবাসীর গর্বের ধন। তিনি আশা প্রকাশ করেন মহিউদ্দিন চৌধুরীর প্রণোদনায় এই প্রতিষ্ঠানের নতুন একাডেমিক ভবন একটি শিক্ষা বান্ধব অবকাঠামো হিসেবে গড়ে উঠবে।
এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি আবদুস সালাম বলেন, এই অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা শিক্ষা গ্রহণে সুযোগ পেয়ে তারা একদিন বড় হয়ে এই অঞ্চলকে আলোকিত করবে। আমরা স্বপ্ন দেখি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আরো বড় হবে। এই বড় হওয়ার আঙ্খার পিছনে মহিউদ্দিন চৌধুরী আমাদের প্রেরণার সাথী। তিনি বলেছেন, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করবেন। তাঁর এই অসাধারণ ঘোষণা প্রতিটি শিক্ষার্থীকে প্রকৃত শিক্ষা অর্জনে শক্তি, সাহস ও প্রেরণা যোগাবে।
অনুষ্ঠানের শুরতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রধান শিক্ষিকা খোদেজা বেগম চৌধুরী। আরো বক্তব্য রাখেন-সাবেক কাউন্সিলর আবু তাহের, ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষে সুমাইয়া ইসলাম। কৃতী ছাত্র-ছাত্রীদের পুরস্কার বিতরণ শেষে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।