শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য না গেলে দেশ এগুবে না

প্রকাশ:| শনিবার, ১ এপ্রিল , ২০১৭ সময় ১০:০০ অপরাহ্ণ

দেশে শিক্ষা ব্যবস্থায় চরম বৈষম্য চলছে অভিযোগ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ইউজিসির প্রফেসর ড. মইনুল ইসলাম বলেছেন, কৃষকের সন্তানরা পড়ার সুযোগ পায় মাদ্রাসায়, মধ্যবিত্তরা সরকারিতে আর ধনীর সন্তানরা পড়ে প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এতও বৈষম্য কেন? এজন্য-তো দেশ স্বাধীন হয়নি।

তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে দেশ উন্নয়নের পথে এগুবেনা। দেশের উন্নয়নে প্রধান বাধা কিন্তু দারিদ্র নয়, বৈষম্য।

শনিবার (১ এপ্রিল) বিকেলে নগরীর বাদশা মিয়া রোডে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম বিবর্ত পাঠচক্র আয়োজিত ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও বাংলাদেশের অর্থনীতি’ শীর্ষক এই সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড.মইনুল ইসলাম।

অর্থনীতিবিদ মইনুল ইসলাম বলেন, দারিদ্র ও বৈষম্য যমজ ভাই। তবে বৈষম্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে দারিদ্র অটোমেটিক কমে যাবে। দারিদ্র কমলে দেশ এগিয়ে যাবে। কিন্তু বাংলাদেশে এই বৈষম্য প্রবল আকার ধারণ করেছে শিক্ষা ব্যবস্থায়। একটু খেয়াল করলে দেখা যায়, কৃষক পরিবারের সন্তানরা পড়ার সুযোগ পায় মাদ্রাসায়, মধ্যবিত্তরা সরকারিতে আর ধনীর সন্তনরা সবাই প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে।

তিনি বলেন, সরকারের উচিত কৃষি খাতের দিকে একটু নজর দেওয়া। এমনিতে ধান রপ্তানিতে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান বেশ মজবুত। সরকার যদি কুষকদের একটু সহায়তা দেয় তাহলে ধান রপ্তানিতে বিশ্বে আমরাই এগিয়ে থাকব।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দেশের সরকারি মেডিকেলগুলো আমরা পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রেখেছি। উন্নয়ন করছি প্রাইভেট মেডিকেল হাসপাতালকে। যে কৃষকগুলো আধ বিঘা জমিতে চাষ করে জীবন চালায় তারা কীভাবে প্রাইভেট মেডিকেলে চিকিৎসা নেবে। সেখানে চিকিৎসা নিতে গেলে-তো ওই জমিটুকু তাকে বিক্রি করতে হবে। দেখা যাবে, চিকিৎসা নিতে গিয়ে ওই কৃষকও মরবে সঙ্গে হারাবে তার জমিও।

বাংলাদেশের গ্রাম পশ্চিমা গ্রামের চাইতে উন্নত উল্লেখ করে প্রবীণ এই অর্থনীতিবিদ বলেন, বাংলাদেশের গ্রামগুলো এখন অনেক উন্নত হয়েছে। সেখানে বিল্ডিং তৈরি হচ্ছে, রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন হচ্ছে, শিক্ষা ব্যবস্থারও উন্নয়ন হচ্ছে। যা পশ্চিমা দেশগুলোর গ্রামের চেয়েও উন্নত।

সেমিনারে ‘সূচনা বক্তা’ রাখেন বিবর্ত পাঠচক্র’র পরিচালক ও চবি নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. রাহমান নাসির উদ্দিন। বিষয়ভিত্তিক বক্তব্য রাখেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ফারুক হোসেন।