‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর ভ্যাট অনৈতিক’

প্রকাশ:| শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর , ২০১৫ সময় ১০:৪৩ অপরাহ্ণ

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত ৭ শতাংশ ভ্যাটকে অর্বাচীন ও অনৈতিক বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমেদ। বলেছেন, যারা এই কাজটি করেছেন তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে। অতিঅল্প সময়ের মধ্যে ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’ অবস্থার মধ্যে পড়বে তারা। আজ বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদার জিয়ার অষ্টম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায়  তিনি এসব কথা বলেন। এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেন, বিশ্বের কোথাও ভ্যাট আরোপ করে শিক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করার নজির নেই। এটি বড় অনৈতিক কাজ। ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রক্রিয়া নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তারা যে প্রক্রিয়ায় আন্দোলন করেছে এককথায় অসাধারণ। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দেশের জাতীয় নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি  ভোট পেয়েছে বিএনপির চেয়াপারসন খালেদা জিয়া। অন্যদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনে অখ্যাত লোকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরেছেন। তিনি বলেন, বিচার কাজ যেভাবে চলছে, সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত খালেদা জিয়াকে বারবার আদালতে যেতে হচ্ছে। কারণ তাকে সামনে রেখে নির্বাচনে যাওয়া রিস্ক। এটা তাদের অনুভূতিতে আছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেভাবে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে যাচ্ছেন সেই পথটা চেনা রইল। গাড়িতে আগুন দেয়া, কাউকে আঘাত করার প্রয়োজন হবে নেই। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমাদের দল পুনর্গঠনের কথা বলা হচ্ছে, কাজও চলছে। নেত্রী বলে দিয়েছেন কোন পকেট কমিটি করা যাবে না। কোন পকেট কমিটি করা হলে সেটা গ্রহণ করা হবে না। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হলে সারাদেশে বিএনপি ৭৫টি সাংগঠনিক কমিটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে। খালেদা জিয়া মুক্ত ননÑ এমনটা দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে এখন বৃহৎ কারাগারে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এই কারাগারে তার সঙ্গে আছে  ১৬ কোটি মানুষ। বর্তমানে তাকে আবারও ক্ষুদ্র কারাগারে নেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। সেজন্য তার বিরুদ্ধে করা মামলার কার্যক্রম স্বাভাবিকের তুলনায় তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা বলতে চাইÑ এই রায়ের পরও উচ্চ আদালত রয়েছে। সবশেষে জনতার আদালতেই চূড়ান্ত রায় হবে। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, জাতি অত্যন্ত কঠিন সময় পার করছে। বিএনপির এখন প্রয়োজন খালেদা জিয়ার কারামুক্তি দিবসের আলোচনা নয়, নিজেদের আত্মাহুতি দিবস পালনের বিষয়ে আলোচনা সভা করার। বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেেেশ তিনি বলেন, সরকার গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়াল। কিন্তু আপনারা কয়জন রাস্তায় নেমেছেন। নিজেদের মধ্যে আত্মসমালোচনা করতে হবে। বিগত আন্দোলনে কে কোথায় ছিল। তা জনগেণের সামনে প্রকাশ করতে হবে । বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহবুব উল্লাহ, তাজমেরী এস ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর খন্দকার মোস্তাহিদুর রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।


আরোও সংবাদ