শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে আলোঘর-রাখাইন শিশু শিক্ষা কেন্দ্র

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৭ এপ্রিল , ২০১৬ সময় ১১:৩৪ অপরাহ্ণ

মো: ফারুক,পেকুয়া ::
শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে আলোঘর-রাখাইন শিশু শিক্ষা কেন্দ্র৫

শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে আলোঘর-রাখাইন শিশু শিক্ষা কেন্দ্র৩

শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে আলোঘর-রাখাইন শিশু শিক্ষা কেন্দ্র২

শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে আলোঘর-রাখাইন শিশু শিক্ষা কেন্দ্রপেকুয়া উপজেলার একমাত্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টি (উপজাতি) বারবাকিয়ার রাখাইন পাড়ায় ১৯৯৭ সালে স্থাপিত হয় এনজিও সংস্থা কারিতাসের উদ্দেগে সার্বজনীন আলোঘর শিশু শিক্ষা কেন্দ্র ও রাখাইন ভাষা শিশু শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্টিত হয় ১বছর আগে। আলোঘর শিক্ষা কেন্দ্রে রয়েছে ১৪০জন ও রাখাইন ভাষা শিক্ষা কেন্দ্রে রয়েছে ৪৫জনের মত শিক্ষার্থী। দুটি স্কুলেই ২জন করে শিক্ষক/শিক্ষিআ রয়েছে। সে থেকে অদ্যবধি সার্বজনীন ও রাখাইন শিশুদের শিক্ষার আলো দিয়ে যাচ্ছে এ দুটি স্কুল। তবে এ স্কুল দুটি প্রতিষ্টার পর থেকে অবকাঠামোসহ বিভিন্ন উপকরণের অভাব থাকায় শিক্ষার মান উন্নয়নে তেমন অগ্রগতি না হলেও শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে । বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এ স্কুলটি পরিদর্শন করে সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও সে আগে দূন্যদশায় রয়ে গেছে। কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করছে মাঠিতে বসে। অথচ জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে এ স্কুল দুটি গড়ে তুলেছেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টিরা।
জানা গেছে, কারিতাসের পরিচালনায় আলোঘর শিশু শিক্ষা কেন্দ্রটির শিক্ষিকা হিসাবে রয়েছেন কমরুনেচ্ছা ও ফরিদা নামের দুজন। রাখাইন ভাষা শিশু শিক্ষা কেন্দ্রটির শিক্ষক হিসাবে রয়েছেন তাদের ভাষার দুজন। দুটি স্কুলেই কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মাটিতে বসেই লেখাপড়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আর শিক্ষকরা দাড়িয়ে পাড়দান করে যাচ্ছে। একটি স্কুলে মাল্টিমিডিয়া হিসাবে ১ম থেকে ৫র্ম শ্রেনী পর্যন্ত আরেকটিতে শুধু মাত্র রাখাইন শিশুদের শিক্ষা দেওয়া হয়। শিক্ষকদের বেতন চালাতেও হিমশিম খাচ্ছে নৃ-জাতি গোষ্টিটি। এ স্কুল দুটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শিশুদের পাড়দান করে থাকে বলে জানা গেছে। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় দিবসে আর্থিক অভাব অনটনের কারণে উপজেলা কেন্দ্রীক জাতীয় বিভিন্ন অনুষ্টানে যোগদান করাতে না পারলেও ওই স্কুল দুটির পার্শ্বের মাঠে কাঠ ও সাদা কাগজ দিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করে জাতীয় দিবস পালন করে থাকে। যা এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এলাকাবাসী উজ্জিবীত হয় এবং অনুকরণীয় দৃষ্টান্তও।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলোঘর শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের সভাপতি অলহারি রাখাইন জানান, আলোঘর শিক্ষা কেন্দ্রটি ১৯৯৭ সালে কারিতাস প্রতিষ্টিত করেছিল। আমাদের এলাকার সর্ব বর্ণের শিশুরা এ স্কুলে লেখাপড়া করে থাকে। শিক্ষিকার বেতন কারিতাস ও আমরা শিশুদের অবিভাবকরা মিলেমিশে প্রদান করি। কিন্তু স্কুলের অবকাঠামো নির্মাণ ও বিভিন্ন আসবাপপত্র ক্রয় আমাদের সাধ্যের ভিতর নায়। সরকারের বিভিন্ন পর্যায় ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এ স্কুলটিতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে যায় মাত্র। এখনো পর্যন্ত সে আগের দশায় রয়ে গেছে। অন্যদিকে রাখাইন ভাষা শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের সভাপতি অংথছিং বলেন, আমরা রাখাইন পরিবার মিলে এ স্কুলটি প্রতিষ্টিত করেছি। কোন মতে শিক্ষকের বেতন দিতে পারলেও প্রতিষ্টানটি সংস্কার করা এবং আসবাপপত্র ক্রয় আমাদের সাধ্যের ভিতর নায়। সরকারের কাছে আমাদের দাবী আমাদের স্কুল দুটির প্রয়োজনীয় আসবাপপত্র ও অবকাঠামো নির্মাণে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হউক।