শিক্ষামন্ত্রী ও গণশিক্ষা মন্ত্রীকে অপসারণের দাবি

প্রকাশ:| রবিবার, ১৫ জানুয়ারি , ২০১৭ সময় ০৮:১৮ অপরাহ্ণ

শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানকে অপসারণের দাবি এসেছে চট্টগ্রামে চারটি প্রগতিশীল গণসংগঠন আয়োজিত সমাবেশ থেকে।

ভুলে ভরা এবং সাম্প্রদায়িক ও নারীবিদ্বেষী ভাবধারায় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের প্রতিবাদে রোববার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে আয়োজিত সমাবেশে এই দাবি উঠে। চারটি সংগঠন হচ্ছে ছাত্র ইউনিয়ন, যুব ইউনিয়ন, উদীচী এবং খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগরী কমিটি।

নগরীর নন্দনকাননে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনে আয়োজিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সহ-সভাপতি প্রবাল দে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিচ্ছে। আমরা সবসময় সরকারের এই কর্মকান্ডের প্রশংসা করেছি। কিন্তু এবার সরকার বছরের প্রথম দিন বই তুলে দিলেও আমরা প্রশংসা করতে পারছি না।

‘কারণ এই পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে দেশে ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এই পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে ধর্মব্যবসায়ী হেফাজতে ইসলাম আর চরমোনাই পীরদের দাবি পূরণ করা হচ্ছে। আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অন্ধকারে নিয়ে যাবার সব আয়োজন করা হয়েছে এই পাঠ্যপুস্তকে। ’ বলেন বক্তারা।

বক্তারা বলেন, শিক্ষামন্ত্রী নজিরবিহীন বানান ভুলের প্রতিকার হিসেবে আঠা লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তার এ ধরনের বক্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচায়ক। সত্যিকার অর্থে হেফাজতে ইসলাম, ওলামা লীগ, চরমোনাই পীরসহ সকল মৌলবাদী শক্তি সরকারের সাথে আঠার মতো লেগে আছে। যার ফলাফল আমরা পাঠ্যপুস্তকে নজিরবিহীন সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যে পরিবর্তন লক্ষ্য করছি।

তারা বলেন, একদিকে নিম্নমানের কাগজ দিয়ে ভুলে ভরা পাঠ্যপুস্তক ছাপানো হয়েছে। অন্যদিকে সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রণেশ দাশগুপ্ত, হুমায়ন আজাদের মতো প্রগতিশীল লেখকদের লেখা বাদ দেয়া হয়েছে। পাঠ্যপুস্তকে লৈঙ্গিক বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, ১৫ লক্ষ বই ছাপা হয়ে যাওয়ার পর তা বাতিল করে হেফাজতের দাবি মেনে নিয়ে বই নতুন করে ছাপানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ সবসময় বলে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশকে পাকিস্তানে ফিরিয়ে নেয়া হবে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিএনপি-জামায়াতের আগে আওয়ামী লীগই দেশকে পাকিস্তানের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

তারা বলেন, পাঠ্যপুস্তক নিয়ে প্রতিবাদের পর এনসিটিবির কয়েকজন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে। গুটিকয়েক কর্মকর্তাকে ওএসডি করে লাভ নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ণের জন্য আমরা শিক্ষামন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এবং এনসিটিবি চেয়ারম্যানের অবিলম্বে অপসারণ দাবি করছি।

জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নাহিদ আল মোস্তফার সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক ও উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সহ সভাপতি সুনীল ধর, খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগরী কমিটির সহ-সভাপতি কবি আশীষ সেন, জেলা যুব ইউনিয়নের সহ সাধারণ সম্পাদক প্রীতম দাশ এবং জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মুহাম্মদ গোলাম সারওয়ার।

সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রগতিশীল গণসংগঠনের নেতাকর্মীরা শহীদ মিনারে যান


আরোও সংবাদ