শিক্ষক মোঃ ইসহাকের অবদান চিরস্মরনীয় হয়ে থাকবে

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ , ২০১৭ সময় ১০:৩৭ অপরাহ্ণ

কক্সবাজারের রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ফাক্রিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইসহাক (৪৮) এর জানাযা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জানাযায় শিক্ষক, সহযোদ্ধা, শুভাকাংখী, আইনজীবি, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, গন্যমান্য ব্যক্তি বর্গসহ সর্বস্তরের শোকার্ত মানুষের ঢল নেমেছে।
বৃস্পতিবার বিকেলে আসরের নামাজাজের পর ফাক্রিকাটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তার নামাজের জানাযা অনুষ্টিত হয়। জানাযা পূর্ব সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচারণকালে রামু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলম বলেন, আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর মোঃ ইসহাক দীর্ঘন দিন ধরে সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা করেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা সময়ে তার কর্মস্থল শিক্ষা-সামাজিক কর্মকান্ডে তার উজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। দীর্ঘ কর্মজীবনে সৎ ও নিষ্ঠাবান ছিলেন প্রধান শিক্ষক ইসহাক । তিনি আরও বলেন, রামুর শিক্ষাঙ্গনে আদর্শ ও ত্যাগী শিক্ষক মোঃ ইসহাকের অবদান চিরস্মরনীয় হয়ে থাকবে। তিনি নিজের জীবনকে শিক্ষার কাজে উৎসর্গ করেছিলেন। সে একজন নীতিবান শিক্ষক হিসেবে সকলের কাছে অনুকরনীয় হয়ে থাকবে।
এ শিক্ষকের স্মৃতিচারণে অংশ নেন মাওলানা ছালাহ আহমদ, শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষক নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, জাকের আহমদ মেম্বার, ইদ্রিস সিকদার, মাষ্টার এনামুল হক, মাষ্টার মোঃ হাসেম প্রমুখ। জানাযায় উপস্থিত ছিলেন, গর্জনিয়া চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম, কচ্ছপিয়ার সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিন কোম্পানী, মৌলবী মোক্তার আহমদ, বর্তমান চেয়ারম্যান আবু নোমান। নামাজে জানাযায় ইমামতি করেন, প্রধান শিক্ষক মরহুম মোঃ ইসহাকের শ্বশুর আবু আবদুল্লাহ মোঃ জহির উদ্দিন।
এদিকে বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) ভোর ৩ টা ৪৫ মিনিটে রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ফাক্রিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইসহাক (৪৮) ঢাকা ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে মৃত্যু বরন করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
প্রধান শিক্ষক ইসহাক ফাক্রিকাটা এলাকার মরহুম আবুল কাশেমের দ্বিতীয় ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২সন্তান রেখে গেছেন। মো. ইসহাক পার্শ্ববর্তী গর্জনিয়া ইউনিয়নের রড় জামছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাশেমের ছোট ভাই।
উল্লেখ্য মো. ইসহাক ১৯৯৬ সালে কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের মৌলভীর কাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর তিনি কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ফাক্রিকাটা, শুকমনিয়া এবং গর্জনিয়া ইউনিয়নের বোমাংখিল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০০৯ সালে পদোন্নতি পেয়ে ঈদগড় উত্তর বড়বিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। সেখান থেকে কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের গর্জনিয়া মড়েল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ ১০ বছর শিক্ষকতা করার পর নিজ গ্রাম ফাক্রিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। সব মিলিয়ে তিনি ২১ বছর শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।