শিক্ষক-কর্মচারিদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল বুধবার

প্রকাশ:| রবিবার, ৯ জুলাই , ২০১৭ সময় ১০:৫৯ অপরাহ্ণ

এমপিওভুক্ত সাড়ে পাঁচ লাখ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন থেকে অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাষ্টের জন্য ১০% টাকা কর্তনের প্রতিবাদে ক্ষোভে ফুঁসছে সারা দেশের শিক্ষক-কর্মচারিরা। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি আগামী ১২ জুলাই বুধবার সকাল ১১টায় সকল উপজেলা ও জেলা সদরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছে। চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার আওতাধীন চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ ও কক্সবাজার জেলাসহ পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান সাংগঠনিক জেলার উপজেলা ও থানা পর্যায়ে উক্ত কর্মসূচি সর্বাত্মকভাবে পালনের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন বাশিস চট্টগ্রাম অঞ্চলের নেতৃবৃন্দ।

গতকাল রবিবার ৯ জুলাই বিকেলে সংগঠনের ৪০০, আন্দরকিল্লাস্থ কার্যালয়ে সংগ্রাম কমিটির জরুরী সভা চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক শিমুল মহাজনের সঞ্চালনায় আঞ্চলিক ও জেলা নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সৈয়দ লকিতুল্লাহ্, অঞ্চল চৌধুরী, প্রদীপ কানুনগো, আলতাজ মিয়া, আবুল কালাম, নুরুল হক সিদ্দিকী, রণজিৎ নাথ, মোঃ জানে আলম, মোঃ ওসমান গণি, ছগির মোহাম্মদ, সনজীব কুসুম চৌধুরী, দেবেশ দাস, মনিকা সেন, শ্যামল দে ও ফিরোজ চৌধুরী প্রমুখ।

বক্তাগণ উপজেলা সদরের পাশাপাশি জেলা সদরেও উক্ত কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান। চট্টগ্রাম নগরীতে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরস্থ সকাল ১১টায় উক্ত কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম মহানগরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের শিক্ষক-কর্মচারিদের অংশগ্রহণের উদাত্ত আহ্বান জানান। বক্তাগণ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে মুহূর্তে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারিদের ন্যায়সঙ্গত দাবীর স্বপক্ষে “ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সংবাদ মাধ্যমসহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে এবং সরকারের নীতি নির্ধারনী মহল শিক্ষক-কর্মচারিদের ন্যায়সঙ্গত দাবীসমূহ পূরণের জন্য ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন ঠিক সেই মূহুর্তে কোন শিক্ষক সংগঠনের সাথে আলোচনা ছাড়াই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মারফ্যাচে ফেলে শিক্ষক-কর্মচারিদের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য হঠাৎ করে গজিয়ে ওঠা সুবিধাভোগী ও তথা কথিত শিক্ষক সংগঠনের কোন কোন নেতাদের প্রোরোচনা ও যোগসাজসে ৬% এর পরিবর্তে ১০% কর্তনের জন্য অযৌক্তিক ও অমানবিক গেজেট প্রকাশে তীব্র নিন্দা জানান। গেজেটে অতিরিক্ত ৪% প্রদান করে ভবিষ্যতে শিক্ষক-কর্মচারিগণ অতিরিক্ত কী সুবিধা পাবেন সে ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত উল্লেখ না থাকায় সারাদেশের শিক্ষক-কর্মচারিগণ হতাশা ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার কথা ব্যাক্ত করেন।

শিক্ষক নেতৃবৃন্দ শিক্ষানীতি-২০১০ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে অসাম্প্রদায়িক, বিজ্ঞানমনস্ক ও তথ্য প্রযুক্তি ভিত্তিক, যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনসহ শিক্ষার মানোন্নয়নে জোর তাগিদ দেন। বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারিদের ন্যায়সঙ্গত দাবী- “বার্ষিক ৫% বেতন বৃদ্ধি, বৈশাখি ভাতা, পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা ও বাড়ি ভাড়াসহ “মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ” এর যৌক্তিক দাবী তুলে ধরেন।
অপর পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য
বক্তব্যে বলা হয় যে, স্বাধীনতা পরবর্তী যুদ্ধবিধস্ত অবস্থার মধ্যেও কোন শিশু যাতে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয় সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ করেছিলেন। তাঁরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু তনয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬,১৯৩টি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করে সকলের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করার ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ লক্ষ্য অর্জনের প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। পরিতাপের বিষয় প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল পরিবারের ছেলে-মেয়েরা লেখা-পড়া ছেড়ে দিয়ে শিশুশ্রমের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। তাই, প্রাথমিক শিক্ষার মত মাধ্যমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ করা হলে মাধ্যমিক স্তরেও শিক্ষার্থী ভর্তি লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছে যাবে এবং উচ্চ শিক্ষার দ্বার উন্মোচিত হবে।

২৭ এপ্রিল সারাদেশে জেলা সদরে ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতীক অনশন পালনের মাধ্যমে ১৫ মে’র মধ্যে শিক্ষক-কর্মচারিদের ন্যায্য দাবী মেনে নেয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু দাবী পূরণ না হওয়ায় গত ২২ মে ২০১৭ তারিখে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে ১ জুন থেকে ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় পূর্বের কর্মসূচি শেষ এবং দাবীসমূহ পূরণ না হতেই অযৌক্তিক ও অমানবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় পূণরায় অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাষ্টের জন্য বেতনের ১০% টাকা কর্তনের প্রতিবাদে ১২ জুলাই ২০১৭ বুধবার সকাল ১১টায় সারাদেশে সকল উপজেলা “উপজেলা সদরে” ও সকল সদর উপজেলা “জেলা সদরে” এবং কেন্দ্রীয়ভাবে “জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে” মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল।

নেতৃবৃন্দ বলেন, অবিলম্বে শিক্ষক-কর্মচারিদের ন্যায্য দাবী মেনে নেয়া না হলে সারাদেশের হতাশ ও বিক্ষুব্ধ শিক্ষক-কর্মচারিগণ অবিরাম ধর্মঘট/আমরণ অনশনের মত কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হবেন।