শিক্ষকরা হচ্ছে বিদ্যার ফেরিওয়ালা আলোর বাতিঘর

প্রকাশ:| রবিবার, ২১ মে , ২০১৭ সময় ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ

সাতকানিয়াস্থ ঢেমশা উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে ২০ মে দিনব্যাপী শিক্ষার উন্নয়নে শিক্ষক শীর্ষক সেমিনার ও আলোচনা সভা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দয়াল হরি নাথের সভাপতিত্বে বিদ্যালয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, রুপালী ব্যাংকের পরিচালক, দক্ষিণজেলা আওয়ামীলীগনেতা সাংবাদিক আবু সুফিয়ান। মুখ্য আলোচক হিসেবে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন চট্টগ্রাম টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যাপক, শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট অধ্যাপক শামসুদ্দীন শিশির। প্রশিক্ষক আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফাতেয়াবাদ আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু সুভাষ চন্দ্র দাশ, বিদ্যালয়ের শিক্ষানুরাগী সদস্য শশীভুষণ বড়ুয়া, বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য শ্যামল সেন। সভায় কোরআন তেলওয়াত করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফজলুল কবির, গীতা পাঠ করেন জয়ন্ত দাশ, ত্রিপিটক পাঠ করেন অপি বড়ুয়া। সভায় প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন ছাত্রদের উপযুক্ত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকের ভুমিকা অতুলনীয়। একজন শিক্ষক একজন ছাত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ ও পথ প্রদর্শক হিসেবে আলোর সন্ধান দিয়ে থাকে। মানুষের মধ্যে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ছাত্রদের নতুন নতুন স্বপ্ন দেখাতে হবে, স্বপ্ন বাস্তবায়নের সাহস যোগাতে হবে। মানুষের। মধ্যে উচ্চাকাংখা থাকতে হবে ঠিক, কিন্তু উচ্চ বিলাসী হওয়া চলবেনা। মানুষ হওয়ার জন্য শিক্ষক ছাত্রের মধ্যে বন্ধুত্বপুর্ণ, বিশ্বাসপুর্ণ, অভিভাবকতুল্য সম্পর্ক থাকতে হবে। শিক্ষককে শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশপ্রেমের চেতনাবোধ,সৎ জীবনযাপন করার প্রেরণা, মানবতাবাদী হওয়ার বোধ সৃষ্টি করতে হবে। একজন শিক্ষককে তার ছাত্রদেরকে বড় মনের, বড় মানের, বড় স্বপ্নের এবং সর্বোপরি আতœজয়ী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য শিক্ষা দিতে হবে। মুখ্য আলোচক শিক্ষাবিদ, কলামিষ্ট শামসুদ্দীন শিশির বলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হচ্ছে মা। মা হচ্ছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পাঠশালা। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদের শিক্ষা ও মানুষ হওয়ার বড় মাধ্যম হচ্ছে তার মা। তিনি বলেন প্রিয় শিক্ষার্থীরা তোমাদের মন যখন খারাপ লাগবে তখন তোমরা আকাশের কাছে গিয়ে উদারতা শিখতে হবে। পাহাড়ের কাছে গিয়ে নিজেকে উচ্চতায় নিয়ে যেতে স্বপ্ন দেখবা, সাগরের কাছে বিশালতা দেখে দেখে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে সংগ্রাম করে যাবে। তিনি বলেন মা হচ্ছে মমতার বন্ধন, আশ্রয়ের প্রধান ভরসাস্থল, বিশ্বাসের শ্রেষ্ঠ ঠিকানা। তাই মাকে মায়ের কাজে সহযোগিতা করতে হবে, মায়ের মন জয় করতে হবে। মাকে সন্মান প্রদর্শন করতে হবে, মায়ের কাছে ভালো ছেলে হিসেবে গড়ে তোলার আস্হা দেখাতে হবে। মায়ের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে কারণ মা যেখানে আজীবন সন্তানের যতœ নিয়ে থাকে। অনুরুপ বাবার কাজেও সন্তানকে এগিয়ে আসতে হবে। বাবা যেখানে সারাদিন পরিশ্রম করে সন্তানের জীবনের নানা প্রয়োজন মেটাতে ব্যস্ত। পরিশ্রান্ত ও ক্লান্ত বাবার কাছে একজন সন্তানকে পিতার আদর্শ বাস্তবায়ন, স্বপ্ন পুরণের চেষ্ঠা, পিতার পেশাগত কাজেও সহযোগিতা করতে হবে। তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন শিক্ষকরা বিদ্যার ফেরিওয়ালা, আলোর বাতিঘর। শিক্ষকদের মনে রাখতে হবে একজন শিক্ষককে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তার নিজের সন্তান মনে করে পাঠদানে মনোযোগী করতে হবে, ছাত্র -ছাত্রীদের কাছে একজন শিক্ষককে বন্ধুত্বপুর্ণ সর্বোপরি অভিভাবকতুল্য সম্পর্কের মাধ্যমে ছাত্রদের জীবনের চাওয়া পাওয়া সম্পর্কে জানতে হবে। ছাত্রদের পাঠ্যশিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, আতœজয়ে জয়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখাতে হবে। তিনি বলেন শিক্ষকরা সমাজের দর্পন, আলোকিত ঠিকানা হিসেবে ছাত্রসহ তার সমাজকে সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করে। মানুষকে সত্যিকার মনুষ্যত্ব সম্পন্ন মানুষ হতে একজন শিক্ষকই শ্রেষ্ঠ পাঠশালা হিসেবে কাজ করে। ছাত্রদের বিনয়ী, নম্র,ভদ্র ও আলোকিত মানুষ হতে প্রতিটি শিক্ষককে মনের বিশালতায় আন্তরিকতা দিয়ে শিক্ষাদান করতে হবে।