শাহ আমানত হল খুলে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছে সাধারন শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ:| শনিবার, ২৯ মার্চ , ২০১৪ সময় ০৫:৩৪ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হল খুলে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছে সাধারন শিক্ষার্থীরা।

শনিবার বেলা সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশন চত্বরে এ মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত ঞয়।

মানববন্ধনে সাধারন শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা রাজনীতি বুঝি না। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য এসেছি। আর উচ্চ শিক্ষা অর্জনে যা কিছু করা প্রয়োজন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তা করতে বাধ্য।

মানববন্ধন শেষে সাধারন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবরে স্মারকলিপি পেশ করেন। এ সময় উপচার‌্য প্রফেসর আনোয়ারুল আজিম আরিফ শিক্ষার্থীদেরকে শীঘ্রই হল খুলে দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহন করা আইন বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী গোলাম ফারুক রাসেল বলেন,৫ মে থেকে আমার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হবে। আরেকজনের রুমে থেকে নতুন পরিবেশে পড়া লেখা করা খুব কষ্ট।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন,পড়ালেখার যে ক্ষতি হয়েছে প্রশাসন কি তা মিটাতে পারবে। অবিলম্বে শাহ আমানত হল খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শাহ আমানত হলের আবাসিক ছাত্র গনিত বিভাগের এমএস বর্ষের শিক্ষার্থী কাজী কাউসার আলম প্রশাসনকে দায়ী করে বলেন,নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ায় কোন হলে সিট খালি নাই। তাছাড়া পাশ্ববর্তী কটেজে কোন রুম খালি নেই।

এতে মারাত্মক বিড়ম্বনার স্বীকার হতে হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন,প্রশাসন হলে যেকোন সময় ঢুকতে দেয়না। ফলে আমরা প্রয়োজনীয় বই পত্র নিতে পারি না। তাছাড়া তিনি প্রশাসনের দূর্বলতাকেও দায়ী করেন।

প্রসঙ্গত চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত হন শাহ আমানত হল ছাত্রশিবিরের সাধারন সম্পাদক ও মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মামুন হোসাইন। ঘটনার পরদিন প্রশাসন শাহ আমানত হল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষনা করেন ।

সংঘর্ষের দুÕমাস অতিক্রান্ত হলেও এখনো খূলে দেওয়া হয়নি এ হলটি। ফলে শাহ আমানত হল বন্ধ থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাছাড়া এখনো পর্যন্ত তদন্দ প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি তদন্ত কমিটি।

শিবির-ছাত্রলীগের কিছু সংখ্যক কর্মীর জন্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবহেলার কারনে সর্ববৃহৎ হলটি বন্ধ থাকায় সাধারন শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ। তারা দ্রুত এ হলটি চালু করার আহ্বান জানান।

এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, তদন্ত কাজ প্রায় শেষ পর‌্যায়ে। কিছু কাজ বাকি আছে।

তবে তিনি হল কখন খুলবে সে বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি।