শাহ আমানত হল খুলেছে, দখল নিয়ে ছাত্রলীগের দ’গ্রুপে উত্তেজনা

প্রকাশ:| বুধবার, ১৯ নভেম্বর , ২০১৪ সময় ১০:৫২ অপরাহ্ণ

চবি প্রতিনিধি>>
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) কোনো ঘোষণা ও সিট বন্টন ছাড়াই প্রায় ১১ মাস বন্ধ থাকার পর বুধবার খুলেছে চবির শাহ আমানত হল। হলটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে দেয়ার কথা থকলেও তুলে দিয়েছে ছাত্রলীগের হাতে । হল দখল নিয়ে ছাত্রলীগের দ’ গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
বুধবার থেকে শুরু হয় এই প্রক্রিয়া । সকাল থেকে ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপ হলের সামনে অবস্থান নেয় হল দখলের জন্য। হল খোলার প্রথম দিন সকাল ১১টায় আ. জ. ম. নাসির অনুসারীরা হলে প্রবেশ করে। তবে মহানগর আওয়মী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরীর অনুসারী দুটি গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করায় সকালে কোন নেতা কর্মী উঠেনি।
দুপুর আড়াইটার দিকে সহ সভাপতি অমিত কুমার বসু ও যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সুমন মামুেনর নেতৃতে মহিউদ্দীন চৌধুরির অনুসারী ছাত্রলীগের একাংশ (সিএফসি) কর্মীদের তুলে দেয় হল কতৃপক্ষ । গ্রুপ সিএফসির । এ সময় ছাত্রলীগের বিবাদমান দুই গ্রুপের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে কোন অপ্রতিকর ঘটনা ঘটেনি ।
এসময় শাহ আমানত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে ইন্ডেপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি শরীফুল ইসলামের সাথে র্দুব্যবহার করে কিছু বহিরাগত। তারা সবাই চট্টগ্রাম নাজিরহাট বাস মালিক সমিতির মহাসচিব মঞ্জুরুল আলম মঞ্জুর অনুসারী এবং তার সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে। এ সময় মঞ্জু হলের ভিতরে অবস্থান করছিলেন। সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে মঞ্জুর অনুসারী বহিরাগতরা তাদের বাধা দেয়। এক পর্যায়ে তাদের সাথে খারাপ আচরণ করে। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বহিরাগতদের হল থেকে বের করে দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি হুমায়ুন মাসুদ বলেন,কিছু বহিরাগত হলের ভিতরে প্রবেশ করে সাংবাদিকদের ছবি তুলতে বাধা দেয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বহিরাগতদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেয়। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।
সূত্র জনায়,গত ১২ জানুয়ারী ছাত্রলীগ শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় হলটি বন্ধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরপর সকল আবাসিক শিক্ষার্থীর সিট বাতিল করা হয়। নতুন করে আসন বরাদ্দের জন্য আবেদনপত্র গ্রহণ করা হলেও সাক্ষাতকার নেয়া হয়নি এখনো। এখন পর্যন্ত বরাদ্দ করা হয়নি কোনো আসন।
আসন বরাদ্দ ছাড়াই হল খোলার বিষয়ে আমানত হলের প্রভোস্ট আবুল মনছুর জানান, এ ব্যাপারে শাহ আমানত হলের প্রভোষ্ট অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল মনছুর বাংলানিউজকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক বৈধ শিক্ষার্থীদের হলে উঠতে দিয়েছি। তবে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কিছু কারণে ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপও হলে উঠেছে। তবে যাচাই বাচাই করে বৈধ শিক্ষার্থী ছাড়া অন্য কাউকে উঠতে দেওয়া হবে না।


আরোও সংবাদ