শাহ আমানত সেতুর নিচে অবৈধ জেটি উচ্ছেদ

প্রকাশ:| রবিবার, ১৭ জানুয়ারি , ২০১৬ সময় ০৬:৪৫ অপরাহ্ণ

অবৈধ জেটিনগরীর কর্ণফুলীর শাহ আমানত সেতুর নিচে দুই পাশে অবৈধ বালুর বস্তা ও বাঁশ-কাঠ দিয়ে গড়ে তোলা চারটি জেটি উচ্ছেদ করা হয়েছে।

রোববার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অথরাইজড অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আবুল হাশেম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জেটি চারটি উচ্ছেদ করেন। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ-১৯৭৬ এর আওতায় এ অভিযান চালানো হয়।

ম্যাজিস্ট্রেট হাশেম জানান, স্থানীয় জাহাঙ্গীর মেম্বার, আরজু ও কয়েক প্রভাবশালী লোকজন দ্বারা পরিচালিত জেটিগুলো মূলত কয়লা ও সিমেন্টের বস্তা লাইটারেজ থেকে সড়কপথে পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হতো। এসব অবৈধ ঘাট ব্যবহার করে স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট বন্দরের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বছরে কয়েক কোটি টাকার ব্যবসা করে থাকে। অভিযান পরিচালনাকালে ঘাট পরিচালনাকারী কাউকে পাওয়া না গেলেও কয়লা আমদানিকারক আতিকুর রহমানের পক্ষের কথিত মাঝি বাদল মিয়াকে পাওয়া যায় এবং তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া কয়লা খালাসকারী জাহাজের মাস্টারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তিনি জানান, তা‍ৎক্ষণিকভাবে কয়লা খালাসকারী জাহাজ যামানা-১কে দুই দিনের মধ্যে উক্ত আনলোডের স্থান থেকে কয়লা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। উচ্ছেদ করা জেটিতে ব্যবহৃত কাঠ ও একটি অবৈধ ড্রেজারের পাইপ উম্মুক্ত নিলামে বিক্রি করে ৬৩ হাজার টাকা আদায় করা হয়।

এ ছাড়া শাহ আমানত সেতুর উত্তর পাশে শিকলবাহা খালের নিকটবর্তী অবৈধভাবে পরিচালিত হাজি এ রহমান ডকইয়ার্ডে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অবৈধ ডকইয়ার্ডের অফিস সিলগালা করে দেওয়া হয় এবং দুই দিনের মধ্যে ডক খালি করার জন্য উপস্থিত শ্রমিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

রোববার ইনল্যান্ড শিপিং অর্ডিন্যান্স ১৯৭৬ এর আওতায় অতিরিক্ত ওভারলোডিং করা ও ফায়ার এক্সটিংগুইসার (অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা) না থাকার অপরাধে নজির বেপারী নামের লাইটারেজকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

নগর পুলিশ, স্থানীয় কর্ণফুলী থানা ও চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব আনসার বাহিনীর সহায়তায় পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে বন্দর কর্তৃপক্ষের ভূমি উপ-ব্যবস্থাপক জিল্লুর রহমান এবং ভূমি ও হারবার বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।