শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইসহাক আলোকিত মানুষের জন্য কাজ করেছেন

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল , ২০১৫ সময় ০৭:৩৯ অপরাহ্ণ

শিশুবাগ শিক্ষা কেন্দ্রের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে আ.জ.ম নাছির উদ্দিন
শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইসহাক মানুষের জন্য
চট্টগ্রাম নগরীর রহমতগঞ্জ এলাকার ঐতিহ্যবাহী শিশুবাগ আধুনিক শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের ৪৭তম বার্ষিক ক্রীড়ানুষ্ঠান, পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা সভা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শামসুদ্দীন মুহাম্মদ নাসের টিপুর সভাপতিত্বে স্কুল মিলনায়তনে আজ ৭ এপ্রিল সকাল ৯ টা ১৫ মিনেটে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ক্রীড়াসংগঠক চট্টলার কৃতি সন্তান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)’র সহ-সভাপতি ও সিজেকেএস এর সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আ.জ.ম. নাছির উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন যথাক্রমে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হাটহাজারী ডিগ্রী কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ মেজর (অব.) নুরুল হুদা, ২১ নম্বর জামাল খান ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক প্রকৌশলী বিজয় কুমার চৌধুরী কিষাণ, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা অজিত দাশ গুপ্ত, এম এ হান্নান, মুহাম্মদ আবদুস সবুর, স্বাগত ভাষণ দেন অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষিকা মুসাররাত জাহান, কুরআন তেলাওয়াত করেন অত্র প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা কুতুব উদ্দিন, ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অত্র প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা নুসরাত জাহান। উপস্থিত ছিলেন এস এম নাওশাদ, আহমেদ ফয়সল, ক্রীড়া পরিচালনা করেন অত্র প্রতিষ্ঠানের শরীর চর্চা শিক্ষক আরিফুল ইসলাম ও ইমতিয়াজ হোসাইন, জাহেদা বেগম, নার্গিস রহমান, শ্যামলী ভট্টাচার্য্য, সেলিনা আফরোজ, সেলিনা আকতার, শামিমা আরা বেগম, জেবুন্নেসা বেগম, নওশিন আকতার ও কামরুন নিছা প্রমুখ।
প্রধান অতিথি আ.জ.ম. নাছির উদ্দিন বলেন, আগে শিক্ষার হার কম ছিল এখন শিক্ষার হার আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এই শিক্ষা বিস্তারের জন্য প্রিন্সিপাল শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইসহাক শিশু বাগ স্কুল প্রতিষ্ঠা করে এই অঞ্চলের শিক্ষা বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি ব্যবসার কাজে না গিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার কাজে নিবেদিত ছিলেন। জীবনের অনেক ঝুঁকি নিয়ে বাঙলা কলেজ ও শিশুবাগ স্কুল প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। তাই এখন এই মহান ব্যক্তিদের স্মরণ রাখতে গেলে শিশুবাগ প্রতিষ্ঠানকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইসহাক মানুষের জন্য যে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন সেই প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক দেশরতœ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু তিনি নিজের জন্য কিছুই করেননি। তিনি শিক্ষার জন্যই সব কিছু করেছেন। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যে কোন কাজে প্রধান অতিথি সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইসহাক আজ নেই উনার প্রতিষ্ঠান আছে, এই প্রতিষ্ঠান থেকে অনেককে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পেরেছেন জেনে আমি অত্যন্ত গর্ববোধ করছি। তিনি তার বক্তব্যে আরো বলেন এই প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে স্কুল এন্ড কলেজ পর্যায়ে উন্নীত করার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান। এ পর্যায়ে আমার যে কোন সহযোগিতার প্রয়োজন হলে আমি সহযোগিতা করব। পাকিস্তান আমলে আমাদের শিক্ষার হার কম ছিল এখন শিক্ষা হার ৭৮%। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। শিশুদের গড়ে তোলার দায়িত্ব আপনাদের, সরকার সহযোগিতা করবে। সঠিকভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের গড়ে তুলতে পারলে রাষ্ট্র ও সমাজ উপকৃত হবে। এরিমধ্যে ছোটশিশুদের মূল্যবোধ শিক্ষা দিলে তারা আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। পাশাপাশি তাদেরকে বিনোদনেরও ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মেজর (অব.) নুরুল হুদা বলেন, প্রিন্সিপাল শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইসহাক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করে ইংরেজী বিভাগে গোল্ড মেডেল পেয়েছিলেন। তিনি ইনকাম ট্যাক্স অফিসার হিসেবে লোভনীয় চাকুরী পেয়েও সেই চাকুরী ছেড়ে মহান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার কাজে নিজেকে নিবেদিত করেছেন। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।