শাবিতে রোববার পূর্ণদিবস কর্মবিরতি

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর , ২০১৫ সময় ০৮:৩৯ অপরাহ্ণ

শাবিপ্রবিউপাচার্য অধ্যাপক ড. আমিনুল হক ভূঁইয়ার অপসারণ দাবিতে আন্দোলনে নামা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক ফোরামের শিক্ষকরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার পর অনশন শেষে রোববার পূর্ণদিবস কর্মবিরতির ঘোষণা দেন ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক সৈয়দ সামসুল আলম।

আন্দোলনকারী শিক্ষকদের শরবত পান করিয়ে অনশন ভাঙেন লেখক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাস।

ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে ও উপাচার্য অপসারণের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো এ কর্মসূচি শেষে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়ে অধ্যাপক সামসুল বলেন, তিনি তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে শিক্ষকদের আঘাত করেছেন। তাই তিনি যতদিন পর্যন্ত না যাবে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আর যদি তা না হয় তাহলে আমরা রোববার কর্মসূচি শেষে কঠোর কর্মসূচি দেব। আমাদের বিশ্বাস এর মধ্যে (শুক্রবার ও শনিবার) একটা ফয়সালা হয়ে যাবে।
তবে এ কর্মবিরতির আওতামুক্ত থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের পরীক্ষা কিন্তু কোন ক্লাস নেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।

সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপাচার্য ভবনের সামনে প্রতীকী অনশন পালন করেন আন্দোলনকারীরা।

এর আগে মঙ্গলবার কালো ব্যাজ ধারণ করে র‌্যালি-সমাবেশ এবং বুধবার কর্মবিরতি ও র‌্যালি-সমাবেশ করেন এ ফোরামের শিক্ষকরা।

অনশনে উপস্থিত ছিলেন মুক্তমনা ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক সৈয়দ সামসুল আলম, অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুছ, অধ্যাপক ইয়াসমিন হক, অধ্যাপক আব্দুল গণি ও অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ১১ নির্দেশনাসহ একটি চিঠি আসায় ৩০ আগস্ট সকাল ১০টায় বোর্ড অব অ্যাডভান্সড স্ঠ্যাডিস ও বিকেল ৩টায় একাডেমিক কাউন্সিলের সভা ডাকেন উপাচার্য অধ্যাপক আমিনুল হক ভূইয়া।

তবে এ সভা প্রতিহত করার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারী শিক্ষকেরা। সেই সঙ্গে উপাচার্য যতদিন পর্যন্ত পদত্যাগ না করবে ততদিন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষকরা।

গত ৩০ আগস্ট রোববার উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক ফোরামের শিক্ষকরা উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে গেলে ছাত্রলীগ তাদের ওপর হামলা করে ব্যানার কেড়ে নেয় এবং মারধর করে বলে অভিযোগ করেন ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক সৈয়দ সামসুল আলম।

তবে এর আগে উপাচার্য তার কার্যালয়ে ঢুকতে গেলে আন্দোলনকারীদের হাতে লাঞ্ছিত হন বলে অভিযোগ উঠেছে।