শান্তি চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবী পাহাড়ীদের

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর , ২০১৬ সময় ০৯:৫২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
বান্দরবানে নানা আয়োজনে পার্বত্য শান্তি চুক্তির ১৯তম বর্ষপূর্তি পালিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকালে জেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনষ্টিটিউট মিলনায়তনে চুক্তির বর্ষপূর্তি উদযাপন কমিটির ব্যানারে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখেন মানবাধিক নেত্রী ডনাই প্রু নেলী, জেলা বন ও পরিবেশ রক্ষা পরিষদের সভাপতি জুমলিয়ান আমলাই, জনসংহতি সমিতি জেলা শাখার সহ-সভাপতি ও রুমা উপজেলা চেয়ারম্যান অংথোয়াই চিং, নাগরিক কমিটির নেতা অংচমং মারমা, বম সম্প্রদায়ের পারকুম সাহা’সহ প্রমুখ পাহাড়ী নেতারা বক্তব্য রাখেন।
সভায় মানবাধিক নেত্রী ডনাই প্রু নেলী বলেন, শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবার ১৯ বছরেও পূর্নাঙ্গ বাস্তবায়িত হয়নি। চুক্তি বাস্তবায়নে সরকার এবং রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে আরো আন্তরিক হতে হতে। বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনগুলো মধ্যে যে সংঘর্ষ দেখা দিয়েছে, তাও কারো কাম্য নয়। পাহাড়ের মানুষ শান্তি চাই। পাহাড়ের ভূমি সমস্যা সমাধানে সরকার ভূমি কমিশন আইন সংশোধন করেছে। আমরা এ আইন কার্যকর দেখতে চাই।
জেএসএস জেলা সহ-সভাপতি অংথোয়াই চিং বলেন, পার্বত্য শান্তি চুক্তির অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ন ধারা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। কিন্তু ভূমি কমিশন আইন সংশোধন করে ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কার্যক্রম শুরু করেছেন এটি ভালো দিক। কিন্তু ব্যক্তি বিশেষের একটি সমস্যা’কে কেন্দ্র করে বান্দরবানে মিথ্যা মামলা দিয়ে জনসংহতি সমিতিদের নেতাদের হয়রানি করা হচ্ছে। সন্ত্রাসের সাথে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে শান্তি দেয়া হোক। শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল জনসংহতি সমিতি এবং সরকারের মধ্যে। আওয়ামীলীগ সরকার এবং জনসংহতি সমিতির মধ্যে যে সর্ম্পক রয়েছে। ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে।
এদিকে তারআগে মধ্যমপাড়াস্থ জনসংহতি সমিতির কার্যালয় থেকে বর্ষপূর্তিতে শান্তি চুক্তি পূর্নাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবীতে শহরে র‌্যালী বের করা হয়। র‌্যালীটি শহর প্রদক্ষিন করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনষ্টিটিউটে গিয়ে শেষ হয়। বর্ষপূতির অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন স্থানের পাহাড়ীরা অংশ নেয়।
অপরদিকে পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানের হলরুমে বর্ষপূর্তির মতবিনিময় সভা হয়েছে। এছাড়াও জেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগেও শান্তি চুক্তির বর্ষপূর্তি পালিত হয়েছে।


আরোও সংবাদ