‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বাধা দিলে পাল্টা জবাব’

প্রকাশ:| বুধবার, ১৬ জুলাই , ২০১৪ সময় ১১:১৭ অপরাহ্ণ

খালেদা জিয়াঈদের পর বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অস্ত্র ও পুলিশ দিয়ে বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে পাল্টা জবাব দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ২০ দলীয় জোট নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বলেছেন, দেশের মানুষ এই সরকারকে হটাতে আন্দোলনের আজ জন্য ঐক্যবদ্ধ। আন্দোলন মানে মারপিট, জ্বালাও-পোড়াও নয়। ঈদের পরে আমাদের আন্দোলন হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক। কিন্তু আমরা শুনতে পারছি, ঈদের পর আওয়ামী লীগও পাল্টা রাজপথে নামবে। আমি স্পষ্টভাষায় বলে দিতে চাই, আপনারা রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভাল। তবে পুলিশ ও গু-াবাহিনী নিয়ে অস্ত্র হাতে রাজপথে নামবেন না। এটা করা হলে পাল্টা জবাব দেয়া হবে। এর পরিণতি ভাল হবে না। আজ জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল চত্বরে ঢাকা মহানগর বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগরের নতুন কমিটি দেয়ার ঘোষণা দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, সারা দেশে ব্যাপক আন্দোলন হয়েছে। ঢাকায় আন্দোলনের কিছু ত্রুটি ছিল। এটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। তাই ঢাকা মহানগরের নতুন আহ্বায়ক কমিটি অতিদ্রুত দেয়া হবে। ওই আহ্বায়ক কমিটি ইউনিট ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করবে। ইফতারের আগে দেশের কল্যাণ ও যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন মহানগর আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকার আশু আরোগ্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। খালেদা জিয়ার সঙ্গে এক টেবিলে ছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির মওদুদ আহমদ, এম কে আনোয়ার, মির্জা আব্বাস, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মহানগর সদস্য সচিব আবদুস সালাম প্রমুখ। এছাড়া মহানগরের ওয়ার্ড পর্যায়ের ১৫ হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেন।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন রাজধানীতে গুমএর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন রাজধানীতে গুম হওয়া নেতাকর্মীদের পরিবারের স্বজনরা। বুধবার রাতে চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় দলের ২১ নেতা-কর্মীর পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাৎ করতে এলে প্রতি পরিবারের হাতে একলাখ নগদ অর্থ তুলে দেন। খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সময়ে পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। কান্নায় সুমনের ভাই খালেদা জিয়ার সামনে মূর্ছা গেলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। গোটা পরিবেশ এই হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। খালেদা জিয়া স্বজনহারা পরিবারের সদস্যদের কাছে টেনে নিয়ে সান্ত¡না জানান। তিনি বলেন, সারাদেশে এরকম অনেককে গুম করা হয়েছে। যারা চলে গেছেন, তারা দলের জন্য ছিলো অ্যাসেট। তাদের একটি অপরাধ ছিলো, তারা বিএনপি করে।
স্বজনহারাদের সান্ত¡না জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, আপনারা মনকে শক্ত করুন। আল্লাহকে ডাকুন। একদিন না একদিন এর বিচার হবেই। কারা গুম-খুন করেছে, সব তথ্য বেরিয়ে আসবে।
অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এড. খন্দকার মাহবুব হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, ঢাকা মহানগরের সদস্য সচিব আবদুস সালাম ছাড়াও গুম হওয়া নেতাকর্মীদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গুম হন এসব নেতাকর্মী। এরপর গত ২২মে গুম হওয়া এসব নেতার স্বজনরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।