‘শহীদ মোজাফফর ছিলেন ত্যাগী রাজনীতির অসামম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ’

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৬ মে , ২০১৬ সময় ১০:৩১ অপরাহ্ণ

শহীদ মোজাফফর
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও সাবেক গণপরিষদ আলহাজ্ব ইসহাক মিয়া বলেছেন, শহীদ শেখ মোজাফফর আহমেদ এমন একজন নেতা যার ব্যক্তিত্ব ও চারিত্র্যে তিল পরিমাণ খাদ নেই। তিনি মনে প্রাণে স্বাধীনতা সংগ্রামী। নিজের ছেলেকে নিয়ে জীবন আত্মহুতি দিয়েছেন যা ইতিহাসে বিরল। তিনি আজ বিকেলে বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠষ্ঠাতা, সাবেক এমপি ও তৎকালীন যুক্তফ্রন্টের সভাপতি সালারে জেলা শহীদ শেখ মোজাফফর আহমেদ ৪৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্থানীয় রীমা কনভেনশন সেন্টারে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগ আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পরপরই ৪৮ সালে দেশের সংখ্যাগরিষ্ট বাঙালির উপর উর্দুভাষা চাপিয়ে দেয়ার পায়তারা চলে। ৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার গোপীবাগের রোজ গার্ডেনে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়। ঐ সম্মেলনে চট্টগ্রাম থেকে যোগদানকারী ১১ জন প্রতিনিধির মধ্যে শেখ মোজাফফর ছিলেন অন্যতম। ঐ সময় পাকিস্তান সম্পর্কে বাডঙালির মোহভঙ্গ ঘটতে থাকে। পাশাপাশি মুসলিম লীগের নিপীড়রন ও নির্যাতনের মাত্রাও বেড়ে যায়। চট্টগ্রামে ফজলুল কাদের চৌধুরী থাকায় সেই নির্যাতন আরো বেড়ে যায়। তখন শেখ মোজাফফর আহমেদ আজিজ-জহুরকে নিয়ে বুকচিতিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। সভাপতির ভাষণে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব এ.বি.এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, শহীদ শেখ মোজাফফল আহমদের মত বহুগুণ গুণান্বিত রাজনীতিকরা জাতির সম্পদ। তিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিশুদ্ধ মানুষ ছিলেন। আজ দু:খের বিষয় তাঁর জীবনধারার ভালো দিকগুলোর প্রতিফলন অনেক রাজনীতিকদের মধ্যে নেই। তিনি ্পারো বলেন, সেই সময়ে রাজনীতিতে পরিচ্ছন্নতা ছিলো। ভোগবাদিতা রাজনীতিকদের স্বর্শ করেনি। শেখ মোজাফফর বিত্তবান ছিলেন। দলের জন্য তিনি নিজের সম্পদ বিলিয়েছেন এবং সম্পদ বৃদ্ধির জন্য রাজনীতিকে ব্যবহার করেন নি। আমাদের সরকার ক্ষমতায় থাকার পরও শেখ মোজাফফর আহমদের পরিবার ও সন্তানরা সামান্য সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করেন নি। তিনি দলে পরিচ্ছন্ন রাজনীতিকদের নেতৃত্বের পুরোভাগে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানুষের সুখ-দু:খের অংশীদার হোন। তবেই জনগণের আস্থাভাজন হওয়া যাবে। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেন, শেখ মোজাফফর আহমদ পরিচ্ছন্ন রাজনীতির রোল মডেল। তিনি ইতিহাসের অংশ। লালদিঘী ময়দানে অসহযোগ আন্দোলনের সময় তিনি জয়বাংলা স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করেন এবং সংগঠিত ও প্রশিক্ষিত যুবকদের কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ। এ ধরণের অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার স্রষ্টা। তাই তিনি আমাদের কাছে চিরঞ্জীব হয়ে থাকবেন। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগের অন্যতম সহ-সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, আলহাজ্ব নঈম উদ্দিন চৌধুরী, এডভোকেট সুনীল কুমার সরকার, এম. জহিরুল আলম দোভাষ, আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, মরহুমের জৈষ্ঠ্য সন্তান শেখ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর এবং পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান মরহুমের চতুর্থ সন্তান কবি ও লেখক শেখ খুরশীদ আনোয়ার, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব বদিউল আলম, আইন সম্পাদক এডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, সভার শুরুতে পবিত্র কোরাআন তেলাওয়াতের পর মরহুমের দৌহিত্র শেখ রায়হান আনোয়ার শেখ মোজাফফর আহমদ রচিত হামদ-এ-নাত পেশ করেন। এছাড়া সভা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
মহানগর আওয়ামী লীগের সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য নোমান আল মাহমুদ, শফিক আদনান, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, জুবাইরা নার্গিস খান, চন্দন ধর, মশিউর রহমান চৌধুরী, ডা: ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী, শহীদুল আলম, নির্বাহী সম্পাদক গৌরাঙ্গ চন্দ্র ঘোষ, সৈয়ধ আনিসুল হক, মরহুমের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ শহীদুল আনোয়ার, বখতিয়ার উদ্দিন খান, অমল মিত্র সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, আবদুল লতিফ টিপুসহ থানা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগসহ সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভার প্রারম্ভে সকালে মরহুম শেখ মোজাফফর আহমদের প্রতিকৃতিতে মহানগর আওয়ামী লীগ ও শেখ মোজাফফর আহমদ স্মৃতি পরিষদের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করা হয়।